করোনা লড়াইয়েও আছে অ্যাপ

    লোকসমাজ ডেস্ক॥ করোনা আতঙ্কে সারা বিশ্ব আতঙ্কিত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ চেষ্টা করছে এ রোগ থেকে নিজেদের রা করতে। রোগ প্রতিরোধে নানা উপায়ের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে প্রযুক্তি। তৈরি করা হয়েছে বিশেষায়িত অ্যাপ। শুধু তা-ই নয়, স্বেচ্ছায় ঘরবন্দি থেকে সময় কাটানোর জন্য আছে নানা রকম অ্যাপ। সেসব সম্পর্কে জানাচ্ছেন
    প্রাত্যহিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই স্মার্টফোন আর এআই দুটি প্রযুক্তি কিভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে চলে বিস্তর গবেষণা। এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে যখন করোনাভাইরাসের বিস্তার কিভাবে রোধ করা যায় তার উপায় বের করার চেষ্টা চলছে, তখন অন্য গবেষকরা বের করছেন স্মার্টফোন আর অ্যাপস কিভাবে ব্যবহার করা যায় এ মহাবিপদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কাজে।
    কোয়ারেন্টিন বা স্বেচ্ছায় ঘরবন্দি থাকার জন্য সরকারের বারবার অনুরোধ, আদেশ বা কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি বন্দি করে রেখেও মানানো যাচ্ছে না। কথা মানছেন না কেউ, স্বেচ্ছায় ঘরবন্দি থাকার কথা ছিল যাঁদের, তাঁরাও দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। শুধু তা-ই নয়, সরকারি কোয়ারেন্টিন থেকে পালিয়েও যাচ্ছেন অনেকে। স্মার্টফোন ব্যবহার করে এ সমস্যার সমাধান করছে দণি কোরিয়া ও সিঙ্গাপুর। বিষয়টি আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে চীন।
    প্রতিটি দেশই তৈরি করেছে করোনাভাইরাসের দিনগুলোতে ব্যবহার্য অ্যাপ। ফোনে সেগুলো ইনস্টলড থাকা বাধ্যতামূলক, না থাকলেই পুলিশ হাজির হয়ে যাবে। অ্যাপগুলোতে দিতে হবে ব্যবহারকারীর সব তথ্য। অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অবস্থান সার্বণিকভাবে পৌঁছাতে থাকবে কেন্দ্রীয় সার্ভারে। সেখান থেকেই সব সময় মনিটর করা হচ্ছে-কোন নাগরিক কোথায় অবস্থান করছে? নাগরিকরা একে অন্যের অতিরিক্ত কাছাকাছি আসছে কি না, সেটার দিকেও খেয়াল রাখা হচ্ছে। অ্যাপ বন্ধ করলেই পুলিশের কাছে চলে যাচ্ছে ব্যবহারকারীর সর্বশেষ অবস্থানের তথ্য। পালানোর পথ নেই।
    চীনে অ্যাপের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে কোয়ারেন্টিন কত দিন চলবে বা শেষ কবে-সে সম্পর্কিত তথ্য। কোরিয়ায় কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ঘরবন্দি হলে তাঁর আশপাশের সবার ফোনে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে সেই সংবাদ, যাতে অন্যরা সতর্ক হতে পারেন। সিঙ্গাপুরে শুধু অ্যাপের মাধ্যমেই নয়, ট্রাফিক ক্যামেরা সিস্টেমের মাধ্যমেও মানুষের চলাচলের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে। যদিও অনেকের মতে, এভাবে ব্যবহারকারীদের ওপর নজরদারি করাটা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ওপর বিশাল হস্তপে; কিন্তু যেখানে বাঁচা-মরার প্রশ্ন, সেখানে এটুকু নজরদারি করা ছাড়া আসলেই কোনো উপায়ও তো নেই। প্রতিটি করোনা রোগী চাইলেই অন্তত ৩ থেকে ১৪ জনের মধ্যে সেটি ছড়িয়ে দিতে পারে এবং সেটা উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই। হয়তো তিনি নিজেও জানেন না কি ভয়ংকর কাজটি তিনি এরই মধ্যে করে ফেলেছেন। সেটা বন্ধ করার একমাত্র উপায় ফোনের জিপিএস ব্যবহার করে সবার অবস্থান খেয়াল করা, আর দ্রুততার সঙ্গে সর্বশেষ তথ্য পৌঁছে দেওয়া শুধু অ্যাপের মাধ্যমেই সম্ভব।
    সরাসরি করোনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, এমন অ্যাপগুলোও এ দিনগুলোতে দারুণ কাজে আসবে। অ্যাপল বা গুগল নিউজ ফোনে ইনস্টল করা থাকলে পৌঁছে যাবে সর্বশেষ করোনাভাইরাস এবং অন্যান্য ব্রেকিং নিউজ। আর ইন্টারেস্টসে যদি কভিড-১৯ যুক্ত করে দেওয়া হয়, তাহলে নোটিফিকেশনেও সর্বশেষ খবর চলে আসবে। ঘরে বসে কাজ করা বা শুধু ঘরে আটকে থাকাও সহজ কথা নয়, সে জন্যও আছে কিছু সাহায্যকারী অ্যাপ। কাজ করার জন্য মাইক্রোসফট টিমস, স্ল্যাক এবং সিসকো ভিডিও ওয়েবেক্স মিটিংস যোগাযোগের অসাধারণ মাধ্যম হতে পারে। বসে বসে শরীরে মেদ না জমিয়ে ‘ওয়ার্কআউট’ বা ‘জাভার’ মতো অ্যাপ ব্যবহার করে শরীরচর্চা করা যেতে পারে। ‘শাইন’, ‘ব্যালান্স’-এর মতো যোগব্যায়াম অ্যাপগুলো মানসিক শান্তির জন্য ধ্যানচর্চা শেখানোর কাজ করবে। বিনোদনের জন্য আছে নেটফিক্স, আইফিক্স ও বায়োস্কোপের মতো অ্যাপ। জ্ঞানচর্চার জন্য খান একাডেমি, কিউরিসিটি স্ট্রিম এবং উইকিপিডিয়া অ্যাপও খুব কাজের। আর উবারইটস, পাঠাও বা জলদি অ্যাপের মতো অ্যাপগুলো বাসায় বসেই খাবার ও বাজার করার জন্য কাজে আসতে পারে।

    ভাগ