কভিড-১৯ বা নভেল করোনাভাইরাস পরিস্থিতি বিশ্বজুড়েই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এ পর্যন্ত প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৭ হাজারের বেশি মানুষ। আক্রান্ত ১৬৮ দেশে করোনার ঝড়ে ৪০টির মত দেশ লকডাউন হয়েছে। গত এক সপ্তাহে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় এক লাখের অধিক মানুষ। বৈশ্বিক মহামারিতে রূপ নেওয়া কভিড-১৯ রোগে সারাবিশ্বে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে প্রায় চার লাখ মানুষ। করোনাভাইরাস সংক্রমণে বিশ্বের প্রায় সব দেশে জনসমাগম নিষিদ্ধ, বিমান চলাচল বন্ধ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি, নাগরিকদের ঘরে আবদ্ধ রাখাসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে কোভিড-১৯-এর আক্রমণে এ পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সরকারি তথ্যমতে আজ ‘সীমিতভাবে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন’ বা ‘আঞ্চলিকভাবে ছড়িয়ে পড়া’র কথা স্বীকার করছে। কিন্তু আমরা এখনো জানি না আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা মানুষের কী অবস্থা। এমতাবস্থায় জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের যশোর জেলা সভাপতি আবদুল হক ও সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসের আঘাতের মধ্যদিয়ে জাতীয় দূর্যোগের ফলে সৃষ্ট ঘটনার দায়-দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে। নেতৃবন্দ বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাবের ফলে বেরিয়ে পড়েছে প্রচলিত বিশ্বব্যবস্থার দগদগে ÿত। এ প্রেÿিতে পুঁজিবাদী-সা¤্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো আধিপত্য বি¯Íার নিয়ে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় আধুনিক জীবাণু, রাসায়নিক ও পারমাবিক তথা মারণাস্ত্র তৈরিতে একে অপরকে টেক্কা দিয়েই শুধু চলছে না, মাঝে মাধ্যে তা পরীÿা দ্বারাও জানান দিচ্ছে। তাদের এই সকল অপতৎপরতা বিশ্ব জনজীবনকে উদ্বিগ্নই শুধু করছে না, যুদ্ধের বিপদের মধ্যেও নিÿেপ করছে। একই সাথে মুনাফাভিত্তিক উন্নয়নের কারণে প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ ধ্বংস করে যে উন্নয়ন চলছে তার ফলে মানব সমাজ ও প্রকৃতির মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হয়ে নানা ধরণের নতুন নতুন রোগের আবির্ভাব ঘটছে। আর আমাদের মত পননির্ভরশীল দেশের জনগণের জীবনের প্রেÿিতে জাতীয় দূর্যোগকালীন অবস্থায় রাষ্ট্রের প্রস্তুতি কতটুকু আছে তার বা¯Íব প্রতিফলন হচ্ছে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় প্রাথমিক প্রস্তুতিসহ সামগ্রিক দূর্বলতায়। আজ তাই প্রয়োজন সামাজিক জীবনের জন্য সামাজিক মালিকানা প্রতিষ্ঠা করা। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রেÿিতে লকডাউন ও আইসোলেশনের কারণে ÿুধার্ত শ্রমিক-কৃষক-শ্রমজীবি-মুটেমজুর-নি¤œ বিত্তসহ খেটে খাওয়া মানুষের জীবনের অর্থনৈতিক সঙ্কট বৃদ্ধি করবেই শুধু নয়, এর মধ্যে একটি বড় অংশ কর্মহীন হয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে মধ্যে পড়ে জীবনে বেঁচে থাকার সঙ্কটকে আরো সঙ্কটাপন্না করে তুলবে। তাই শ্রমিক-কৃষক-খেটেখাওয়া মানুষদের জরুরি খাওয়া ব্যবস্থা ও তাদের ঋণ মওকুফ করতে সরকারকে যথাযথ পদÿেপ নিতে হবে। একই সাথে পর্যাপ্ত পরীÿার ব্যবস্থা ও বিপন্ন রোগিদের বিশেষ ব্যবস্থায় নেওয়ার জন্য ‘নিবিড় পর্যবেÿণ কেন্দ্র’ বা ‘ভেন্টিলেশন বা আইসিইউ ইউনিট’ উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত গড়ে তোলার আহŸান জানান। নেতৃবৃন্দ উদ্বুত পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে নিয়ম-কানুন মেনে তা মোকাবেলা করার জন্য জনগণের প্রতি আহŸান জানান। একই সাথে সংগঠনের সকল স্তরের নেতা, কর্মী, সমর্থক-দরদীকে এই দুর্যোগের মধ্যে জনগণের পাশে থেকে কার্যকরভাবে সহায়তা প্রদানের আহŸান জানান। বিজ্ঞপ্তি




