চীনের কয়লা উত্তোলন ৬.৩% কমেছে

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ নতুন বছর শুরু হওয়ার পর কয়লা উত্তোলনের প্রথম তথ্য প্রকাশ করেছে চীন। তবে এবার জানুয়ারি আর ফেব্রুয়ারির সম্মিলিত তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটি। নভেল করোনাভাইরাস প্রকোপের মধ্যে নানা জটিলতায় দেশটি প্রত্যেক মাসের আলাদা তথ্য প্রকাশ করতে পারেনি। দেশটির সরকারি সূত্রের প্রকাশিত তথ্যে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দেশটির কয়লা উত্তোলন ৬ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। খবর রয়টার্স ও নিউইয়র্ক টাইমস।
চীন বিশ্বের শীর্ষ কয়লা উত্তোলনকারী দেশ। দেশটির ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের (এনবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মিলে দেশটির খনিগুলো থেকে মোট ৪৮ কোটি ৯০ লাখ ৩ হাজার টন কয়লা উত্তোলন করা হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে জ্বালানিপণ্যটি উত্তোলনের পরিমাণ ছিল ৫১ কোটি ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে খনিজপণ্যটির উত্তোলন ৬ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে।
সবচেয়ে বেশি উত্তোলন কমেছে কোক কোলের। কোক কোল দেশটির ইস্পাত উৎপাদনকারী কলকারখানার জ্বালানি হিসেবে ব্যাপকহারে ব্যবহার হয়ে থাকে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে চীনে মোট ৭ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার টন কোক কোল উত্তোলন হয়েছে, যা আগের বছরের প্রথম দুই মাসের তুলনায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কম।
গত ২৪ জানুয়ারি থেকে চীনে নতুন চান্দ্র বর্ষের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এক সপ্তাহের এ ছুটির মধ্যেই দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপ। সংক্রমিত ভাইরাসটির বিস্তার রোধে ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে দেয় দেশটির সরকার। কোনো কোনো প্রদেশে তা ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী করা হয়েছিল। এ পরিস্থিতিতে দেশটির যাতায়াত ও পরিবহন ব্যবস্থা শ্লথ হয়ে পড়ে। এ সময় দেশটির যাবতীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। প্রভাবমুক্ত থাকেনি দেশটির কয়লা উত্তোলন খাতও।
উত্তোলন কমলেও এ সময়ে চীনের কয়লা আমদানি উল্লেখযোগ্যহারে বেড়েছে। এনবিএসের তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দেশটির সম্মিলিত কয়লা আমদানি বেড়ে ৬ কোটি ৮০ লাখ ৬০ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার দেশটির ব্যবসায়ীরা জ্বালানিপণ্যটির আমদানি ৩৩ দশমিক ১ শতাংশ বাড়িয়েছে।
চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে দেশটিতে কয়লার অভ্যন্তরীণ ব্যবহারেও নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় থাকতে দেখা গেছে। মূলত ইস্পাত কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে পণ্যটির চাহিদা হ্রাস এক্ষেত্রে মূল ভূমিকা হিসেবে কাজ করেছে। ২০২০ সালের প্রথম দুই মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ২ শতাংশ কমে চীনে ১ লাখ ৩ হাজার কোটি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে।