চৌগাছা স্বাস্থ্য কমপেক্সে ডাক্তার ও নার্সদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন

স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছা ৫০ শয্যা হাসপাতালে প্রতিদিনই নানারোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে আসছেন মানুষ। করোনাভাইরাসের আতঙ্ক থাকলেও হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সরা রোগী সেবাকার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। হাসপাতালে নেই পর্যাপ্ত পিপিই (পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট)। তারা নিজ উদ্যোগে পিপিই সংগ্রহ করে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। ফলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বর্তমান পরিস্থিতিতে ডাক্তার-নার্সসহ হাসপাতালে কর্মরতরা কতটুকু নিরাপদ।
বারবার দেশসেরার খ্যাতি অর্জন করেছে যশোরের চৌগাছা ৫০ শয্যা হাসপাতাল। বিশেষ করে মা ও শিশু চিকিৎসায় এ হাসপাতালের সুনাম দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশ পর্যন্ত। প্রতিদিনই শ শ রোগী আসছেন সেবা নিতে। হাসপাতালে ২০ জন চিকিৎসক, ২৬ জন নার্সসহ ১৩৭ জন কর্মচারী রোগীর সেবায় নিয়োজিত। কিন্তু এসব ডাক্তার-নার্স ও কর্মচারী বর্তমান পরিস্থিতিতে কতটা সুরক্ষিত তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
গতকাল সরেজমিন হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, শত শত রোগী লম্বা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। এক একজন যাচ্ছেন ডাক্তারের কাছে, সেবা নিয়ে চলে যাচ্ছেন। এসব রোগীর খুব কাছ থেকে তার সমস্যার কথা জানা, শরীরে হাত দেয়াসহ সেবার সকল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। কিন্তু অধিকাংশ ডাক্তার, নার্সের সুরক্ষায় নেই তেমন কোন পিপিই। হাসপাতালে মাস্ক, গ্লাভস, হ্যান্ডওয়াশ, ব্লিসিং পাউডারসহ পিপিই’র সকল সামগ্রীর যথেষ্ঠ অভাব রয়েছে বলে জানা গেছে। চিকিৎসক ও নার্সরা জানান, করোনাভাইরাস দেশ-বিদেশে ভয়ঙ্কর আকার ধারন করেছে। এই ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে হলে প্রতিটি মানুষের সচেতন হওয়া জরুরি। বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যে ডাক্তার-নার্সরা নিজেদের নিরাপদ রেখে কাজ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। কোন্ রোগী কি ধরনের ভাইরাস বহন করছে তা প্রাথমিকভাবে বুঝে ওঠা মুশকিল। তারপরও দায়িত্ববোধ থেকে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।এ বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার নাহিদ সিরাজ বলেন, হাসপাতালে সব ধরনের রোগীর চাপ। সোমবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৬ শ রোগী সেবা নিয়েছেন। আমরা সকলেই নিজ উদ্যোগে পিপিই সংগ্রহ করে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। তবে আশা করছি সরকার থেকে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে পিপিই পেয়ে যাব। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জেলার প্রতিটি হাসপাতালে পিপিই খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সরবরাহ করা হবে।

ভাগ