বিএম আসাদ ॥ করোনাভাইরাস আতঙ্কে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসা সেবায় দেখা দিয়েছে মহাসংকট। চিকিৎসক, সেবিকা, কর্মচারী কারো নিরাপত্তামূলক সামগ্রী নেই। এ নিয়ে সিনিয়র চিকিৎসকবৃন্দ তত্ত্বাবধায়কের দ্বারস্থ হয়েছেন। ইন্টার্ন চিকিৎসকগণ কর্মবিরতিতে যাওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। নিরাপত্তার কারণে জ্বর, শ্বাসকষ্ট, সর্দি, কাঁশি. গলা ব্যথায় আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি না করে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হচ্ছে। গতকাল (২৩ মার্চ) ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আরও ৫শ’ ৫৫ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। গত ১৩ দিনে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয় ১ হাজার ১শ’ ৮ জনকে।
জানা গেছে, এ হাসপাতালের চিকিৎসকগণ করোনাভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে ভীত হয়ে পড়েছেন। আতঙ্কের মধ্যে তারা কোন রকম রোগী দেখছেন। আর জ্বর, সর্দি, কাঁশি, শ্লেষ্মা, গলায় ব্যথা ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীদের দূরে থেকে চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরামর্শ দিচ্ছেন। হাসপাতালে আসতে নিষেধ করে দিচ্ছেন রোগীদের। যাতে করোনাভাইরাসের বিস্তার না ঘটে।
গতকাল যশোর মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. নুর কুতুবুল আলম (এনকে আলম), সহকারী অধ্যাপক ডা. এসএম শরিফুল আলম খান, নিজেদের প্রটেকশনের জন্য তত্ত্বাবধায়কের কাছে যান এবং করোনাভাইরাস থেকে নিরাপদে চিকিৎসা দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায়ের প্রতি অনুরোধ জানান।
ইন্টার্ন চিকিৎসকগণ একই দাবি জানান। তা না হলে তারা কর্মবিরতিতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। সেবিকা, কর্মচারীরা ও রোগী এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন। জ্বর, সর্দি, কাঁশি, শ্লেষ্মা, গলায় ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট রোগে আক্রান্তদের বহির্বিভাগে চিকিৎসা দিয়ে বাসা বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। একই সাথে মোবাইল ফোনে চিকিৎসার পরামর্শ নেয়ার কথা বলছেন।
গতকাল ২৩ মার্চ যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের বহির্বিভাগ থেকে ১ হাজার ১শ’ ৭০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর ভেতর জ্বর, সর্দি, কাঁশি, শ্লেষ্মা ও গলায় ব্যথা রোগে চিকিৎসা নিয়েছে ৭০ জন শিশু। ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ও করোনারী কেয়ার ইউনিটে ২শ’ ৯৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন থাকলেও তারা যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছে না। পাচ্ছেন না প্রয়োজনীয় ওষুধ। চিকিৎসক, সেবিকা, কর্মচারী সকলেই করোনাভাইরাসের ভয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। কারণ, যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসক, সেবিকা ও কর্মচারীদের গাউন (পোশাক), মাস্ক, হ্যান্টডগ্লোভস, জীবাণুনাশক স্যাভলন, হেক্সিসল নেই। নেই রোগীর প্রয়োজনীয় ওষুধ, কিছ মাস্ক, গাউন দেয়া হলেও জরুরি প্রয়োজনের জন্য রাখা হয়েছে। দু’একটি ব্যবহার করা হচ্ছে। কয়েক বছর ওষুধের টেন্ডার হয়নি। আবার সরকারি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইডিসিএল লিঃ থেকে দেয়া ওষুধের পরিমাণ একেবারই কম। প্রায় ৫০ প্রকার ওষুধের ভেতর দেয়া হচ্ছে ২০ প্রকার ওষুধ। তাও ঠিকমতো পাচ্ছেন না রোগীরা। বাজার থেকেই রোগীদের ওষুধ ক্রয় করতে হচ্ছে। সব মিলে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ভেঙে পড়েছে। সাধারণ রোগীরাও চিকিৎসা যথাযথ পাচ্ছে না। এ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় দেখা দিয়েছে মহাসংকট। ১৮ মার্চ হতে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মেডিসিন ওয়ার্ড থেকে ১৮ জন জ্বরের রোগী বাড়ি পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় জানিয়েছেন, জ্বর, সর্দি, কাঁশি, শ্লেষ্মা, গলায় ব্যথা রোগীকে হাসপাতাল থেকে হোম কোয়ারেন্টাইনে বাড়ি পাঠানো হচ্ছে। চিকিৎসকগণ দেখে যেটা মনে করছেন, সেটা বাড়ি পাঠাচ্ছেন। করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যশোর জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো লোকের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় ৮ উপজেলায় ৫শ’ ৫৫ জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। ১০ মার্চ হতে ১৩ দিনে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে ১ হাজার ১শ’ ৮ জন। এ পর্যন্ত ১৬ জনকে কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।





