শার্শা (যশোর) সংবাদদাতা ॥ যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল ও পুটখালীসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে প্রতিদিনই আসছে শ শ অনুপ্রবেশকারী। এতে ঝুঁকি বাড়ছে করোনা ভাইরাসের। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন উপজেলার বাসিন্দারা। বিশ্ব করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে উৎকন্ঠা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এমন সময় শার্শা উপজেলার বেনাপোল ও পুটখালী সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বিভিন্ন রুটে বেড়ে গেছে বিনা পাসপোর্ট ধারী অনুপ্রবেশকারীদের আনাগোনা। বাংলাদেশের এই নাগরিকগুলো পাসপোর্ট ছাড়া অবৈধ পথে ভারতের মুম্বাই, দিল্লি, কেরালা, চেন্নাই ও কলকাতাসহ অন্যান্য শহরে কাজ করে থাকে বলে এলাকাবাসী সূত্র থেকে জানা যায়। সর্বশেষ গত ১৫ মার্চ ভারতের এক চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এবং বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদফতর কর্তৃক করোনাভাইরাসকে মহামারি ঘোষণা করা হয়। নতুন করে পাসপোর্ট যাত্রী যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। বেনাপোল পোর্ট থানার সীমান্তবর্তী গ্রাম বড়আঁচড়া, রুদ্রুপুর, গোগা, ভুলোট, খলসী, গাতিপাড়া, দৌলতপুর ও পুটখালী এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, প্রতিদিন সীমান্তের একটি মানব পাচারকারী চক্র এসব সীমান্ত ব্যবহার করে ভারত-বাংলাদেশ নারী-পুরুষ ও শিশু পারাপার করছে। জনপ্রতি ১০/১২ হাজার টাকা উপার্জন হওয়ায় তারা প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসকে তোয়াক্কা করছে না। বরং নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য প্রতিদিনি মানব পারাপারের এ রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। গ্রামবাসী জানান, চক্রটির সদস্যরা নিজেরাও জানে না যে, বাড়তি আয়ের লোভে তারা করোনা ভাইরাস বহন করে আনছেন দেশের অভ্যন্তরে। যা তাদের পরিবারের জন্য ভয়ঙ্কর। এক দালাল জানান, সম্প্রতি ভারত সরকার ভিসা বন্ধ করে দেওয়ায় সীমান্তের চোরাই পথে বিনা পাসপোর্টধারীদের পারাপার বেড়েছে। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী বিএসএফ সদস্যরা ভারত হতে লোক আসতে বাধা দিচ্ছে না। তবে ভারত হতে লোক নেওয়ার সময় কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফেরত দিচ্ছে বিজিবি সদস্যরা। সীমান্তবাসী যেমন মরণঘাতী করোনা আতঙ্কে ভুগছে তেমনি বাস ও ট্রেনে করে এসব অবৈধ পারাপারকারী বিভিন্ স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে। একটি সূত্র জানায়, সীমান্তের মানব পারাপারকারীদের মধ্যে রয়েছে, রাজাপুর গ্রামের আনিছুর রহমান ওরফে কালো আনিস, নামাজ গ্রামের চিত্র, বড়আঁচড়ার ছোট আনিস, অশোক, বজু, কার্ত্তিক, গাতিপাড়ার মিজান, তবি, হাফিজুর, মন্টুসহ অনেকে। এ বিষয়ে ২১বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মঞ্জুর-ই –এলাহী জানান, সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দিনরাত পরিশ্রম করে সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ঠেকাতে বিজিবি সদস্যরা জিরো টলারেন্সে কাজ করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে যশোরের নাভারণ সার্কেল এএসপি জুয়েল ইমরান জানান, মহামারি করোনাভাইরাস বিস্তাররোধে এ এলাকায় পুলিশ প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তবে, সীমান্ত পারাপার হওয়ার বিষয়টি কেবল বিজিবির এখতিয়ার। কোনো মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে এসে স্বাভাবিক ভাবে এলাকায় ঘোরাফেরা করলে আমাদের জন্য করোনাভাইরাস শনাক্ত করা কঠিন হবে। তবে অবৈধ অনুপ্রবেশ কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।



