শেখ আব্দুল¬াহ হুসাইন ॥ করোনাভাইরাসে লকডাউন আশঙ্কায় এবং পরবর্তীতে লকডাউন গুজবে দু দফা যশোর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনাকাটায় হুমড়ি খেয়ে পড়েন যশোরবাসী। ক্রেতাদের চাল, ডাল, তেল, আটা, আলু, পেঁয়াজ ও জীবাণুনাশক প্রচুর পরিমাণে কেনার কারণে অনেক দোকান পণ্য শূন্য হয়ে যায়। প্রথম দফার আতঙ্কে প্রতি কেজি চালে ২ টাকা বাড়ার পর দ্বিতীয় দফার গুজবে আবারও ২ টাকা বাড়তি দামে চাল বিক্রি করেন বিক্রেতারা। কষ্ট হলেও পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনে বাড়তি দামে এসব পণ্য কিনতে বাধ্য হন ভোক্তারা। সব থেকে বেশি অসুবিধায় পড়েছেন নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া দিনমজুররা। তাদের রোজগারে দিনই চলে না, সেখানে তারা কাজ না থাকলে কীভাবে চলবেন সেই আশঙ্কায় পড়েছেন।
ভোক্তাদের অভিযোগ, সরকারি তদারকি সংস্থাগুলো বাজারে অভিযানে নামলেও মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের অভিযানে শতভাগ না হলেও অধিকাংশ দোকানে মূল্য তালিকা টানানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে ওই তালিকায় রয়েছে বিক্রেতাদের ইচ্ছামাফিক নির্ধারণ করা মূল্য। করোনাভাইরাসের কারণে গত ১৯ মার্চ শিবচর লকডাউন ঘোষণা করে প্রশাসন। এই ঘটনায় যশোরবাসীর মাঝে লকডাউনের আশঙ্কা ভর করে। একযোগে ক্রেতারা বড় বাজারে হুমড়ি খেয়ে পড়েন নিত্যপণ্য কেনাকাটায়। এই সুযোগটা প্রথম কাজে লাগান চাল ব্যবসায়ীরা। ১৮ মার্চ বিআর-২৮ চাল প্রতি কেজি যশোরের বড় বাজার চাল বাজারে বিক্রি হয়েছিল ৪২ টাকা। পরের দিন ১৯ ও ২০ মার্চ বিক্রেতারা প্রতি কেজিতে ২ টাকা বাড়িয়ে ৪৪ টাকায় বিক্রি করেন। মানভেদে মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছিল ৪৬ থেকে ৫০ টাকা, ২ থেকে ৪ টাকা বেড়ে বিক্রি হয় ৫০ থেকে ৫২ টাকা। বাংলামতি চাল বিক্রি হয়েছিল মানভেদে ৫৬ থেকে ৬০ টাকা, প্রতি কেজিতে ২ থেকে ৪ টাকা বেড়ে বিক্রি হয় ৬০ থেকে ৬২ টাকা।
দ্বিতীয় দফা গত ২২ মার্চ শহরে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, আগামীকাল থেকে যশোরে লকডাউন হচ্ছে। অবশ্য যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ ওইদিনই বিকেল ৪টায় জরুরি বৈঠক ডেকে লকডাউনের গুজব বাতিল করে দেন। ততক্ষণে আবারও যশোরবাসী কেনাকাটার যুদ্ধে নেমে যান। কোনো দোকানিরই প্রস্তুতি ছিল না হঠাৎ করে ভোক্তাদের এত পরিমাণ চাহিদা মেটানোর জন্য। আবারও এই সুযোগটা কাজে লাগান চাল ব্যবসায়ীরা। প্রতি কেজি চালে আরও ২ টাকা করে বাড়িয়ে দেন তারা। এদিন রবিবার ও পরের দিন সোমবার বিআর-২৮ চাল বিক্রি হয় মানভেদে ৪৪ থেকে ৪৮ টাকা, মিনিকেট চাল বিক্রি হয় মানভেদে ৫২ থেকে ৫৪ টাকা, বাংলামতি চাল বিক্রি হয় মানভেদে ৬০ থেকে ৬৪ টাকা। বড় বাজার চাল বাজারের বিক্রেতা পিংকি স্টোরের মালিক সুশীল বিশ^াস জানান, মানুষ আতঙ্কিত হয়ে প্রচুর পরিমাণ চাল কিনে মজুদ করছেন। কেউ কেউ এক বস্তারও বেশি চাল কিনেছেন।
সোমবার বাজার করতে আসা একজন ক্রেতা রুস্তম আলী জানান, সরকারের বাজার তদারকি সংস্থাগুলো দোকানে মূল্য তালিকা টানানোর ওপর যেমন তাগিদ দেন, তেমনি মূল্য নির্ধারণের ব্যাপারেও তাদের পদক্ষেপ নিতে হবে। দু দফা গুজবে মাত্র চার দিনে প্রতি কেজি চালে ২ টাকা করে ৪ টাকা বাড়লো কেন সেই উৎস খুঁজে বের করতে হবে। তাছাড়া ক্রেতাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে বাজারে পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও কোন মহল থেকে চালের মূল্য নির্ধারণ করা হয় সেটার মূলে অভিযান চালাতে হবে। আর ক্রেতাদের স্বার্থে বাজার তদারকি সংস্থা কর্তৃক পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ঝুলিয়ে দিতে হবে। ভোক্তারা বর্তমান নাজুক পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসনের প্রতি বাজারে প্রতিদিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের অভিযানের প্রতি জোর তাগিদ দেন। অন্যদিকে সবথেকে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন দিনমজুর ও নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। যেখানে তাদের রোজগারে দিন চলে না, সেখানে খাবার মজুদ তো দূরের কথা বাকি দিনগুলো কিভাবে চলবে সেই আশঙ্কায় ভুগছেন তারা। এদিকে অনেক দোকানি জানান, গত চার দিনে দু দফা ক্রেতাদের অধিক পরিমাণে চাল, ডাল, আটা, আলু, পেঁয়াজ কেনার কারণে তাদের দোকানের পণ্য শূন্য হয়ে গেছে। তারা আরও জানান, বিভিন্ন পরবে বাড়তি চাহিদার প্রয়োজনে তারা প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন। কিন্তু এই অসময়ে তারা মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না। অন্যদিকে বাজারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও জীবাণুনাশক হ্যাক্সিসল পাওয়া যাচ্ছে না। দুদিন আগেই ক্রেতারা কিনে নিয়ে গেছেন।





