বিএম আসাদ ॥ করোনাভাইরাস আতঙ্কে যশোরের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতলে রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। প্রাইভেট চেম্বারে বসছেন না চিকিৎসকরা। করোনায় সন্দেহভাজনদের বাড়িতে বসে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে চিকিৎসা পরামর্শ নেয়ার জন্যে ১২টি হটলাইন চালু করা হয়েছে। ২৪ ঘন্টায় কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে আরও ২১৮ জন।
জানা গেছে, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে অফিসে যাতায়াতে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সর্বসাধারণের জন্যে গতকাল যশোর কালেক্টরেট ও সিভিল সার্জন অফিসে স্যানিটেশনাইজেশন চালু করা হয়েছে। স্যানিটেশনাইজেশন হচ্ছে পানি, সাবান ও হ্যান্ড ওয়াশ দিয়ে হাত পরিস্কার করে অফিসে যাতায়াত। জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন গতকাল এ কার্যক্রম চালু করেন। যশোর প্রেসকাব দু’দিন আগে থেকে এ স্যানিটেশনাইজেশন কার্যক্রম চালু করেছে। তবে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চালু করা হয়নি এ কার্যক্রম। রোগীরা আসছেন, চিকিৎসা নিচ্ছেন। কিন্তু কেউই হাত ধুচ্ছেন না। ফলে সাধারণ রোগী ও চিকিৎসক কর্মীরা করোনাভাইরাসের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। চিকিৎসকগণ কেবলমাত্র তাদের কক্ষের কেবিনে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করেছেন। যা গতানুগতিক। করোনাভাইরাস আতঙ্কে হাসপাতালে রোগীর ধ্বস নেমেছে। গতকাল ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৩শ’ ৭০ জন। এর আগে প্রায় ৬শ’ জন চিকিৎসাধীন থাকতেন। করোনারী কেয়ার ইউনিটে ছিলেন ৪৮ জন রোগী। পূর্বে এ ইউনিটে ৭৫ হতে ৮০ জন রোগী থাকতেন। বহির্বিভাগে রোগীর সংখ্যা একেবারেই কমে গেছে। যা পূর্বের তুলনায় অর্ধেকেরও কম।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ২২ মার্চ বহিঃর্বিভাগে ১ হাজার ১শ’ ৯৯ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। সর্দি, কাঁশি, জ্বরের জন্যে গঠিত পৃথক কর্নারে শিশু রোগী আসে ৫৩ জন। এর আগে ২১ মার্চ ১ হাজার ২শ’ ৩৩ জন, ১৯ মার্চ ২ হাজার ৬৬ জন, ১৮ মার্চ ২ হাজার ৫শ’ জন, ১৬ মার্চ ২ হাজার ২শ’ জন ও ১৫ মার্চ ২ হাজার ৪শ’ ৬৬ জন চিকিৎসা গ্রহণ করেন। দিন দিন রোগী কমে যাচ্ছে। ওয়ার্ডে রোগীর বেডও ফাঁকা হয়ে পড়ছে। সাধারণ মানুষের ভেতর করোনাভাইরাস সংক্রমণে সচেতনতা সৃষ্টি হলেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বেসরকারি হাসপাতাল ও কিনিকে গতকাল পর্যন্ত স্যানিটেনাইজেশন কার্যক্রম বা হাত ধুয়ে যাতায়াত করার কাজ শুরু হয়নি। অথচ, এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিভাগ, আইইডিসিআর থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত শহরের প্রায় সব বেসরকারি হাসপাতালে এ অবস্থা পরিলক্ষিত হয়েছে। শীর্ষ দু’একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এ ব্যাপারে যশোরের সিভিল সার্জন স্বাস্থ্য বিভাগসহ সকল হাসপাতাল ও কিনিকে স্যানিটেনাইটেশন কার্যক্রম চালু করার জন্য গতকাল চিঠি দিয়েছেন। বেসরকারি হাসপাতালেও চিকিৎসক ও রোগীর সংখ্যা কমে গেছে। অধিকাংশ চিকিৎসক প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখছেন না। ডা. মধুসূদন জানান, এ পরিস্থিতিতে তিনি প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখবেন না। বেসরকারি ৫০ বেডের হাসপাতাল ইবনেসিনাতে চিকিৎসক ও রোগীর সংখ্যা কমে গেছে। সেখানকার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান জানিয়েছেন, সেখানে ৩০ জন চিকিৎসক বসেন। বর্তমানে বসছেন ১০ জন। তাও কম সময়। উপায়ন্তর না পেয়ে রোগীদেরও ছাড়পত্র দিতে হচ্ছে। যশোর শহর ও উপজেলা পর্যায়ের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও একই অবস্থা। নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েই তারা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
এদিকে, গত ২৪ ঘন্টায় যশোরের ৮ উপজেলায় নতুন করে আরও ২১৮ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। ১০ মার্চ থেকে ১২ দিনে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে ৫৩ জন। করোনাভাইরাস শনাক্ত না হওয়ায় অভয়নগর উপজেলায় ৬ জন ও চৌগাছা উপজেলায় ৯ জন নিয়ে ১৫ জনকে কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। যারা কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন তাদের ভেতর চৌগাছা উপজেলায় গত ২৪ ঘন্টায় ৮ জন। এ পর্যন্ত ২৬ জন, অভয়নগর উপজেলায় ২৪ ঘন্টায় ৪ জন, এ পর্যন্ত ৪১ জন। বাঘারপাড়ায় ২৪ ঘন্টায় ৪ জন, এ পর্যন্ত ৮ জন। যশোর সদর উপজেলায় ২৪ ঘন্টায় ৫০ জন, এ পর্যন্ত ২শ’ ৬২ জন। ঝিকরগাছা উপজেলায় ২৪ ঘন্টায় ২০ জন, এ পর্যন্ত ৩৪ জন, কেশবপুর উপজেলায় ২৪ ঘন্টায় ৭ জন, এ পর্যন্ত ১৪ জন, মনিরামপুর উপজেলায় ২৪ ঘন্টায় ৮ জন, এ পর্যন্ত ৩৪ জন এবং শার্শা উপজেলায় গত ২৪ ঘন্টায় ১শ’ ১৭ জন ও এ পর্যন্ত ১শ’ ৩৪ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। অপরদিকে, করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় গলা ব্যথা, সর্দি, কাঁশি, শ্লেস্মা ও জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে চিকিৎসার পরামর্শ নেয়ার জন্য ১২টি হটলাইন চালু করা হয়েছে। হাসপাতালে না এসে বাড়িতে বসে সার্বক্ষণিক এ সেবা নেয়া যাবে। মোবাইলে ১২টি হটলাইনের নম্বর হচ্ছে- চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-০১৭৪০-২৩৪০৩৪. বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ০১৭৫৬-৮০০৪৯৬, অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-০১৭১৮-২৮৬৭৬৭, সুন্দলী ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র- ০১৭৯৫-২২৪৭৮১, কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-০১৭২৩-৮৭৪০০০, কেশবপুর ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র-০১৮২৮-৮৫৮৩১৯ মনিরামপুরের রোহিতা ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র-০১৮১৮-৪০০৭৬৭, চালুয়াহাটি ইউনিয়ন উপকেন্দ্র ০১৭৮১-৯১৬১৯৮, ঝিকরগাছা ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র-০১৬৭০-৬৬৫০২৩, উলাশী ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ০১৭১২-৩৮১৩৩৯, যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আরিফ আহমেদ ০১৯১৩-৯৫০৪০৩, ডা. অমিয় কুমার দাস-০১৭১৭-৮৬৪০৬০। এছাড়া আইইডিসিআর হটলাইনগুলো হচ্ছে- ০১৯৪৪-৩৩৩২২২, ০১৯৩৭-০০০০১১, ০১৯৩৭-১১০০১১, ০১৯২৭-৭১১৭৮৪, ০১৯২৭-৭১১৭৮৫ ও ০১৫৫০-০৬৪৯০১-০৫। স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩।





