স্টাফ রিপোর্টার ॥ মাগুরা ও নড়াইলে গত শনিবার আলাদা অভিযান চালিয়ে মূল হোতাসহ বিকাশ প্রতারকচক্রের ৪ সদস্যকে আটক করেছে যশোর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তাদের কাছ থেকে এ সময় প্রতারণামূলক কাজে ব্যবহৃত ১২টি মোবাইল ফোন সেট, বিভিন্ন অপারেটরের ২১টি সিম, টার্গেটকৃত ব্যক্তিদের মোবাইল ফোন নম্বর, টাকা উত্তোলনের রেজিস্টার এবং নগদ আড়াই হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। আটক ওই ৪ প্রতারক হচ্ছে মাগুরা সদর উপজেলার পারপলিতা গ্রামের সৈয়দ বিশ্বাসের ছেলে সাদমান আকিব হৃদয় (২০), ডহরসিংড়া গ্রামের আব্দুল খালেক মোল্লার ছেলে মো. সোহেল (২০), মো. তরিকুজ্জামানের ছেলে অপু মোল্লা (১৯) ও সত্যবানপুর গ্রামের আব্দুল জলিল মোল্লার ছেলে মনিরুল ইসলাম (২৬)। এদের মধ্যে সাদমান আকিব হৃদয় মূল হোতা বলে জানিয়েছে পিবিআই।
যশোর পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন পিপিএম জানান, বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এবং টেলিভিশনে প্রচারিত সংবাদের প্রেক্ষিতে তারা বিকাশ প্রতারকচক্রকে ধরতে তৎপর হন। এরই প্রেক্ষিতে এক মাস ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। এরপর গত শনিবার রাতে তারা অভিযানে নামেন প্রতারকচক্র ধরতে। তাদের দফতরের এসআই দ্বৈপায়ন মন্ডল এবং এসআই ¯েœহাশিস দাশের নেতৃত্বে মাগুরা ও নড়াইলে আলাদা অভিযান চালিয়ে উল্লিখিত ৪ প্রতারককে আটক করা হয়। এ সময় আটক বিকাশ প্রতারকচক্রের সদস্যদের কাছ থেকে টার্গেটকৃত ব্যক্তিদের মোবাইল ফোন নম্বর, প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বর, টাকা উত্তোলনের রেজিস্টার ও নগদ আড়াই হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। তিনি জানান, আটক প্রতারকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা প্রতারণার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। সেই সাথে তারা প্রতারণার কৌশলও প্রকাশ করে। তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, প্রতারকদের সহযোগী সদস্যরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করে। এদের কাজ হলো বিভিন্ন বিকাশ এজেন্টের দোকান থেকে কৌশলে মোবাইল ফোনে বিকাশের রেজিস্টারের পাতার ছবি তোলা। এই ছবিগুলো তারা দ্বিতীয় ধাপের প্রতারকের কাছে পাঠিয়ে দেয়। দ্বিতীয় ধাপের প্রতারকেরা এরপর নিজেদেরকে বিকাশের প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে কৌশলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বিকাশ অ্যাকাউন্টের ভেরিফিকেশন কোড ও পিন কোড সংগ্রহ করে নেয়। পরে তারা এই ভেরিফিকেশন কোড ও পিন নম্বর বিকাশ অ্যাপসের মাধ্যমে টার্গেটকৃত নম্বরে থাকা টাকা তাদের নির্ধারিত নম্বরে পাঠিয়ে দেয়। সর্বশেষ তৃতীয় ধাপে প্রতারকরা বিকাশের দোকান থেকে ওই টাকা উত্তোলন করে নেয়। বিকাশ এজেন্টরা একাজে প্রতারকদের সহযোগিতা করে থাকে। এ ধরনের প্রতারণার সাথে মাগুরা, নড়াইল, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, রাজশাহী ও যশোরের অনেক প্রতারক জড়িত। প্রতারকেরা বিকাশ প্রতারণার কাজে যে সকল নম্বর ব্যবহার করে থাকে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ০১৩১৬-৩৩৩৬৪৪, ০১৭৯৬-৩৫১৬৮০, ০১৯০৫-৫৩০৫২৫, ০১৮৯৩-৭০৫৯২৫, ০১৭১৪-৬৪৩৬৫৬ ও ০১৮৪০-৭৪৪৬৪৬।





