মোংলা থেকে খুলনা ৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে ৩ ঘণ্টা!

0

মনিরুল হায়দার ইকবাল, মোংলা (বাগেরহাট)॥ মোংলা বন্দর থেকে বিভাগীয় শহর খুলনা অথবা জেলা শহর বাগেরহাটসহ সড়কপথে যারা প্রতিনিয়ত বাসে চলাচল করেন তাদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে পড়েছে। মোংলা থেকে খুলনা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে প্রায় তিন ঘণ্টায়। এ রুটে চলাচলকারী যাত্রীরা পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের হাতে যেন জিম্মি হয়ে পড়েছেন। সম্প্রতি (গত ১১ মার্চ) মোংলার বাঁধন যুব ও ক্রীড়া সংঘ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাহাত মান্নানের কাছে খুলনা-মোংলা মহাসড়কে পরিবহন ব্যবস্থার ভোগান্তি দূরীকরণ প্রসঙ্গে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এ প্রসঙ্গে ওই সংগঠনের পক্ষ থেকে মোট ৭টি দাবি জানানো হয়। যা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। এর আগে এ রুটে বহুবার সড়ক দুর্ঘটনায় অনেকের প্রাণহানি ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব প্রতিরোধে তেমন কার্যকরী ভূমিকা নেয়নি বলেও অভিযোগ। দেশের দ্বিতীয় সামুদ্রিক বন্দর মোংলার সাথে বিভাগীয় শহর খুলনার দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার। সাধারণত এ পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে প্রায় এক থেকে সোয়া ঘণ্টা। কিন্তু এ রুটে চলাচলকারী যাত্রীবাহী গাড়িগুলো প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টায় গন্তব্যে পৌঁছায়। এ নিয়ে যাত্রীদের রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। ফিটনেসবিহীন গাড়ি, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই, যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো, গাড়ির মধ্যে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে যাত্রী পরিবহন, যাত্রীদের সাথে পরিবহন স্টাফদের দুর্ব্যবহার, অতিরিক্ত মালামাল বোঝাই, ছাদে যাত্রী ওঠানোসহ যাত্রীরা পরিবহন শ্রমিকদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে কারো যেন বলার কিছু নেই এমনই বক্তব্য যাত্রী সাধারণের। কেউ প্রতিবাদ করলেই পরিবহন শ্রমিক ও ড্রাইভারদের হাতে নাজেহাল হতে হচ্ছে। এ যেন এক জিম্মি দশা। মোংলা-সোনাডাঙ্গা ও মোংলা-রূপসা রুটে প্রতিনিয়ত সরাসরি এক্সপ্রেস সার্ভিস গাড়ি চলছে। এছাড়া মোংলা-বাগেরহাট ও রূপসা রুটেও লোকাল গাড়ি চলে। অপরদিকে মোংলা থেকে চট্টগ্রাম ও উত্তরবঙ্গের গাড়ি মিলিয়ে এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অন্তত প্রায় ৬০/৭০ টি গাড়ি প্রতিনিয়ত চলাচল করছে।
এসব রুটের প্রতিটি গাড়িরই একই অবস্থা। মোংলা থেকে খুলনা বা বাগেরহাটে যাবার পথে দিগরাজ ও কাটাখালীতে অন্তত ২০ মিনিট থেকে আধাঘণ্টা গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ও মালামাল ওঠানো হয়। একইভাবে খুলনা বা বাগেরহাট থেকে মোংলায় আসার পথে দিগরাজ ও কাটাখালীতে দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এ ছাড়া খুলনা থেকে মোংলায় আসার সময় জিরোপয়েন্ট ও সাচিডাঙ্গাতেও দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী তোলা হয়। এ ব্যাপারে খুলনা জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির কর্মচারী (স্ট্যাটার) আব্দুল জলিল বলেন, ‘বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর গাড়ি এ রুটে বেপরোয়াভাবে চলাচল করে। অতিরিক্ত পণ্য ট্রাকে বোঝাই করে ধারণক্ষমতার বাইরে এ রুটে চলাচলকারী যানবাহনগুলো রাস্তার ক্ষতিসাধন করছে। এসব প্রভাবশালী শিল্প প্রতিষ্ঠানের ট্রাক ও লরি অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ করছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা। এ ব্যাপারে বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস-কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তালুকদার আব্দুল বাকি বলেন, ‘মাঝে মধ্যে শ্রমিকরা যাত্রীদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন এটা সত্যি। তবে অভিযোগ আসলে আমরা ব্যবস্থা নেই। ইদানিং বাসের মধ্যে গাগাগাদি করে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে বলেও তিনি স্বীকার করেন। এ ছাড়া তিনি আন্তঃজেলা মহাসড়কে নছিমন-করিমন বন্ধসহ সড়কে অন্যান্য ফিটনেটবিহীন পরিবহন, লরি ও ট্রাক বেপরোয়া চালানোর বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।