স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছায় সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরের ৫৯ বস্তা চাল জব্দ করেছেন উপজেলা প্রশাসন। ২টি আলোমসাধুতে কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে বাজারে নেয়ার সময় এই চাল জব্দ করা হয়। শনিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌগাছা-কুঠিপাড়া বাইপাস সড়ক থেকে সমুদয় চাল জব্দ করেন। জব্দকৃত চালের একটি বড় অংশ হচ্ছে ধুলিয়ানী ইউনিয়নের কাবিলপুর বাজারের ডিলার জনৈক ছাত্রলীগ নেতার বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার দুপুরে ধুলিয়ানী বাজার হতে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরের চাল কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে আলমসাধু বোঝায় করে চৌগাছায় নিয়ে আসা হচ্ছে। এমন খবরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌগাছা-কুঠিপাড়া বাইপাস সড়কে (পাকিস্তান সড়ক) অবস্থান নিয়ে চালসহ আলমসাধু চালকদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন। চালের বড় একটি অংশ উপজেলার কাবিলপুর বাজার এবং বাকি অংশ পার্শ্ববর্তী ঝিকরগাছা উপজেলার ছুটিপুর বাজার হতে চৌগাছায় নেয়া হচ্ছিল বলে জানা গেছে। কাবিলপুর বাজার থেকে চাল নিয়ে আসা আলমসাধু চালক আব্দুস সামাদ জানান, ‘কাবলিপুর গ্রামের ছানার আলীর ছেলে জহুরুল ইসলাম কিছু চাল চৌগাছা বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যেতে বলেন। আমি ভাড়া ঠিক করে কাবিলপুর বাজারে জহুরুলের আড়ৎ থেকে ৩০ কেজির ৩৯ বস্তা চাল লোড করে চৌগাছার উদ্যোশে রওনা হই। চালের মালিক জহুরুল মোটরসাইকেলে আমার পিছুপিছু ছিলেন। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি আমার পিছু থেকে পালিয়ে যান। আমি পরে জানতে পারি সমুদয় চাল হচ্ছে সরকারি চাল।’ অপর আলমসাধু চালক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পৌর এলাকার বিশ্বাসপাড়ার চাল ব্যবসায়ী মনু মিয়া শনিবার সকালে ভাড়া ঠিক করে আমাকে ছুটিপুর বাজার হতে চাল আনতে পাঠায়। আমি ছুটিপুর বাজার হতে জনৈক এক ব্যবসায়ীর আড়ৎ থেকে চাল নিয়ে আসছিলাম। পথিমধ্যে নির্বাহী কর্মকর্তা স্যার আমাকে আটক করেন। এ সময় চাল ব্যবসায়ী মনুকে ফোন দিয়ে ঘটনাস্থলে আসতে বললে তিনি আসেননি, পরে ফোন বন্ধ করে রাখেন।’ উপজেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট ৩০টি ডিলারের মাধ্যমে মোট ১৭ হাজার ৯৯৭ জন কার্ডধারীর মধ্যে এ চাল বিতরণ করা হয়। এরমধ্যে ধুলিয়ানি ইউনিয়নে ৩ জন ডিলারের মাধ্যমে ৫০৫ জন কার্ডধারী ১০ টাকা কেজি দরে চাল পায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম চাল জব্দের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) নারায়ণ চন্দ্র পালকে আহ্বায়ক করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর যারা এর সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





