বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা পেলেন না করোনা সন্দেহভাজন ও ডেঙ্গু আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিশেষজ্ঞের মতামত ছাড়াই যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করোনা ভাইরাসের লক্ষ্মল নিয়ে ভর্তি হওয়া দু’জন রোগীকে বাগিতে পাঠিয়ে দিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসক। এডিস মশা বাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত একজন মুমূর্ষু রোগীকে একইভাবে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। এ সম্পর্কে কিছুই জানেন না তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায়।
সূত্র জানিয়েছেন, গতকাল বিকেলে যশোর সদর উপজেলার রুদ্রপুরের এক ব্যক্তি গতকাল বিকেলে হাসপাতালে ভর্ত হন। তার বয়স ৬০ বছর। ভর্তি খাতায় তার রেজিস্ট্রেশন নং-১৪৬৬৭/১২৭। বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে তাকে রিসিভ দেখানো হয়েছে। এর আগে একই ওয়ার্ডে ২টা ১০ মিনিটে একজনে রাগীকে রিসিভ দেখানো হয়। তার বয়স ৩০ বছর। ভতির্ খাতায় রেজিস্ট্রেশন নং-১৪৬৪৭/১০৭। ওই রোগীর বাড়ি মনিরামপুর উপজেলার পাঁচপোতা গ্রামে। তারা দু’জনই ছিলেনজ্বরে আক্রান্ত।
সূত্র জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের সকল প্রকার লক্ষ্মণ, জ্বর, সর্দি, কাঁশি, হাঁচি শ্বাসকষ্ট, গলায় ব্যথা সবই তাদের ছিল। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে যেহেতু করোনাভাইরাস পরীক্ষা করার কীটন নেই। তাই লক্ষণ বুঝে চিকিৎসক তাদের চিকিৎসা দেন এবং ছাড়পত্র দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। কর্তব্যরত সেবিকাগণ জানিয়েছেন, ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. লিটন ওই রোগীর চিকিৎসা দেন। তবে বিশেষজ্ঞ কোন চিকিৎসকের চিকিৎসা তাদের ভাগ্যে জোটেনি।
অপরদিকে, যশোর শহরের বই মার্কেটের সুলভ লাইব্রেরির মালিক গোলাম মোস্তফা (৪৮) এডিস মশা বাহিত ডেঙ্গু ভাইরাসেস আক্রান্ত হয়েছেন। তার বাড়ি যশোর শহরের কারবালায়। তার স্ত্রী রওশনারা বেগম জানিয়েছেন, গত ৬ দিন ধরে স্বামী জ্বরে ভুগছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তার দেহে ডেঙ্গু ভাইরাস ধরা পড়েছে। হাসপাতালের ভর্তি টিকিটেও তাকে ডেঙ্গু রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছ্ েতার শরীরের প্লেটিলেট কাউন্ট ধরা পড়েছে ১ লাখ ১০ হাজার। দ্রুত রক্তের প্লেটিলেট নিচে নেমে যাচ্ছে। এ অবস্থায় গোলাম মোস্তফাকে বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তার রেজিস্ট্রেশন নং-১৪৬৭৫/১৩৫। গোলাম মোস্তফাকে কোন বিশেষজ্ঞ সিনিয়র চিকিৎসক চিকিৎসা দেননি। অনকলে থাকা কোন চিকিৎসক আসেননি তাকে দেখতে। শুধুমাত্র ইন্টার্স চিকিৎসক ডা. রিদি গোলাম মোস্তফাকে চিকিৎসা দেন। এরপর রোগীর অবস্থা শোচনীয় পর্যায়ে গেলে লোকজনকে ডা. রিদি জানিয়েছেন, ঢাকায় আইসিইউতে নিতে হবে। তবে অতদুর পৌঁছাবে কি-না জানি না। তাই খুলনায় নেয়া ভালো। পরে রোগীকে ঢাকায় নেয়া হয়। সন্দেহজনক ব্যক্তি ও ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সম্পর্কে তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় কিছুই জানেন না। এ ব্যাপারে তত্ত্বাবধায়কের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ সম্পর্কে তাকে কিছু অবহিত করা হয়নি।

ভাগ