ঝিনাইদহে অস্থির চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে মাঠে নেমেছেন ডিসি

0

আসিফ কাজল, ঝিনাইদহ ॥ করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বেশ কদিন ধরেই হুজুগে পড়ে মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস মজুদ করছেন। সেই তালিকায় চাল, তেল, আটা, পেঁয়াজ, রসুন ও ডালকে প্রাধান্য দিয়ে অতিরিক্ত পরিমাণ কিনতে শুরু করেন। ঝিনাইদহে এই প্রভাবে অস্থির হয়ে ওঠে বাজার। ফলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ার করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নামানো হয় ভ্রাম্যমাণ টিম। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অফিসও বেশ কিছু উপজেলায় অভিযান চালায়। তাতেও কাজ হচ্ছে না। বরং সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অসৎ ব্যবসায়ীরা সুযোগ বুঝে চাল, পেঁয়াজ, রসুন ও ডালের দাম বাড়িয়ে দেয়। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য শনিবার ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ নিজেই মাঠে নেমেছেন। জেলা প্রশাসনের ১০টি টিম বাজার নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
তথ্য নিয়ে জানা গেছে, সবচে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে চাল ও পেঁয়াজের দাম। চাল বস্তাপ্রতি দেড় শ থেকে চার শ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে মোটা চালের বাজার এখন অস্থির। ৩০ টাকার পেঁয়াজ এখন উচ্চমূল্যে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রশাসনিক কোন পদক্ষেপ ব্যবসায়ীদের মন গলাতে পারছে না। তাদের ভাষ্য, চাহিদা বেশি থাকায় সরবরাহ কম। ঝিনাইদহ কেসি কলেজের পাশে চয়ন খাদ্য ভন্ডারের মালিক দীপক সাহা দুষলেন চালকল মালিকদের। তিনি জানালেন চালের দাম মূলত তারাই বৃদ্ধি করেছে। মা এন্টারপ্রাইজের মালিক স্বপন কুমার সাহা বলেন, বেশি বেশি করে চাল কেনার কারণে বাজারে চাপ পড়ছে। এতে মিলাররা চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। রহমান এন্টারপ্রাইজের মালিক মজিবর রহমান জানালেন, আগে যারা এক বস্তা করে চাল কিনতেন, তারা এখন ৪/৫ বস্তা করে কিনছেন। চাল ব্যবসায়ীদের ঢালাও অভিযোগ অস্বীকার করে মিল মালিক মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, এখন ধানের সংকট রয়েছে। মিলে কোন ধান নেই। নেই বাজারেও। বেশি চাপ পড়ার কারণে বেশি টাকা দিয়ে ধান কিনতে হচ্ছে। এতেই চালের দাম বেড়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে সরকার উন্মুক্ত বাজারে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করতে পারে। তাহলে বাজার নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে’।