ঝিনাইদহে হোম কোয়ারেন্টাইনে ৪৮৪ জন : ডাক্তার ও নার্সদের বিষেশায়িত পোশাক নেই

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ ॥ ঝিনাইদহের সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে করোনা প্রতিরোধে ডাক্তার ও নার্সদের বিষেশায়িত কোন পোশাক নেই। ফলে চিকিৎসকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। জেলায় কোন করোনা আক্রান্ত রোগী না থাকলেও সর্বক্ষণ উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে চিকিৎসাকর্মীদের। কবে নাগাদ বিষেশায়িত পোশাক আসবে তা নিশ্চিত করতে পারেননি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আইয়ুব আলী।  এদিকে ঝিনাইদহে নতুন করে ৫১ জন বিদেশফেরতসহ ৫৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে শনিবার পর্যন্ত জেলায় মোট ৪৮৪ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হলো। কোয়ারেন্টাইনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ৩৭ জন বিদেশফেরতসহ ১৮৯ জনকে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে বলা হয়েছে। জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাকর্মীদের কোনো ব্যক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ডিউটি শেষে বাড়িতে গিয়ে ঠাণ্ডা, কাশি ও জ্বরে অসুস্থ হয়ে পড়েন দুইজন চিকিৎসক। বর্তমানে তাদেরকে নিজ নিজ বাড়িতে সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আইয়ুব আলী বলেন, ‘আমরা শুধুমাত্র করোনা চিহ্নিত ব্যক্তি বাদে অন্যদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা নিতে দিচ্ছি না। শুধু মাস্ক ব্যবহার ও অন্যান্য স্যানিটাইজেশনের কথা বলছি। যে দুইজন চিকিৎসক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তাদেরকে ছুটি নিয়ে বাড়িতে থাকতে বলা হয়েছে। ঋতু পরিবর্তনের কারণেও তাদের এই সমস্যা হতে পারে’। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মেডিকেল অফিসার বলেন, ‘দেশের এমন পরিস্থিতিতেও কর্তৃপক্ষ কেন আমাদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার ব্যবস্থা করছে না সেটা বুঝতে পারছি না। আমাদের দুইজন সহকর্মী অসুস্থ হয়েছেন, আমরাও তো হতে পারি। যদি আমরা সুরক্ষিত না থাকি তাহলে কেমন করে চিকিৎসা সেবা দেব? কর্তৃপক্ষের এমন অবহেলা চলতে থাকলে চিকিৎসা বন্ধ করে দেয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

ভাগ