সৌদি-রুশ মূল্যযুদ্ধে যুক্ত হচ্ছেন ট্রাম্প?

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল নিয়ে সৌদি আরব ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান মূল্যযুদ্ধের মধ্যে যথাসময়ে যুক্ত হবেন তিনি। হোয়াইট হাউজে আয়োজিত নভেল করোনাভাইরাস নিয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে এ কথা জানান তিনি। খবর রয়টার্স ও ওয়াশিংটন পোস্ট।
তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের বাজার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর মাধ্যম খুঁজছি আমরা। বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানান তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, সৌদি আরব ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান জ্বালানি তেলের মূল্যযুদ্ধ রাশিয়ার জন্য মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। কারণ লক্ষ করলেই বোঝা যায় যে রাশিয়ার পুরো অর্থনীতি জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীল। ফলে পণ্যটির দাম কমে যাওয়া দেশটির জন্য ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে জ্বালানি তেলের দাম এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্নে অবস্থান করছে। তবে শুধু রাশিয়া নয়, মূল্যযুদ্ধের মাশুল গুনতে হতে পারে সৌদি আরবকেও। পণ্যটির মূল্য নিয়ে দেশটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে উত্তোলন নিয়েও। সঠিক সময়েই এর সঙ্গে যুক্ত হবেন বলে জানান তিনি।
২০১৬ সালে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩০ ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। ওই সময়ে পণ্যটির উত্তোলন কমিয়ে বাজারে ভারসাম্য ফেরাতে ওপেকের সঙ্গে সহযোগীতার সম্পর্ক গড়ে উঠে রাশিয়াসহ কয়েকটি দেশের। সে সময় থেকে ওপেক ও ওপেক প্লাস জোট যৌথভাবে পণ্যটির বাজার ভারসাম্য ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জোটভুক্ত দেশগুলো এ পর্যন্ত সমন্বিতভাবে দৈনিক গড়ে ২১ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন কমিয়েছে।
তবে নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা কমে অর্ধেকে নেমে আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ফলে পণ্যটির উত্তোলন আরো কমিয়ে আনার প্রস্তাব দেয় সৌদি আরব। এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে চলতি মাসের শুরুর দিকে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় বৈঠকে বসে জোটটি। এ বৈঠকে পণ্যটির উত্তোলন আরো দৈনিক ১৫ লাখ ব্যারেল কমিয়ে মোট ৩৬ লাখ ব্যারেলে নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল সৌদি আরব। তবে তাতে সম্মত হয়নি রাশিয়া। আর এতে ভেস্তে যায় ওপেকের নতুন চুক্তি।
এর পর পরই রাশিয়ার জ্বালানি তেলের প্রধান রফতানি বাজার নিজেদের কব্জায় আনতে পণ্যটির মূল্যযুদ্ধ শুরু করে সৌদি আরব। দেশটি ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে এপ্রিলে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম ধার্য করে ২৫ ডলার।