বিএম আসাদ ॥ করোনাভাইরাসে শনাক্তে যশোরে ২৪ ঘন্টায় ১৩৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে গত ১০ দিনে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে ২শ’ ৬ জনকে। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের সাথে দর্শনার্থীদের সাক্ষাৎ সীমিত করা হয়েছে।
যশোর সিভিল সার্জন অফিসের এক পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোন ব্যক্তি শনাক্ত না হলেও গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা হতে শুকবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ১শ’ ৩৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে গত ১০ মার্চ থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত ১০ দিনে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে ২শ’ ৬ জনকে। এর ভেতর যশোর সদর উপজেলায় গত ২৪ ঘন্টায় ১শ’ ৭ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। ১০ দিনে কোয়ারেন্টাইনে রাখা ব্যক্তির সংখ্যা ১শ’ ৩৯ জন। বাঘারপাড়া উপজেলায় নতুন করে ২৪ ঘন্টায় ১ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। অভয়নগর উপজেলায় ২৪ ঘন্টায় ৪ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। ১০ দিনে ছিল ১২ জন। চৌগাছা উপজেলায় ২৪ ঘন্টায় ৩ জন এবং ১০ দিনে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে ১২ জনকে। ঝিকরগাছা উপজেলায় ২৪ ঘন্টায় ৫ জন, ১০ দিনে ১৪ জন, কেশবপুর উপজেলায় ২৪ ঘন্টায় ৫ জন, ১০ দিনে ৭ জন। মনিরামপুর উপজেলায় ২৪ ঘন্টায় ১২ জন। ১০ দিনে ২৪ জন এবং শার্শা উপজেলায় ২৪ ঘন্টায় জন ও ১০ দিনে ১৭ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের দেহে করোনাভাইরাস আছে কি-না তা নিশ্চিত হওয় যায়নি। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানিয়েছেন, কোয়ারেন্টাইনে রাখা ব্যক্তিদের সকলেই বিদেশ ফেরত না। যারা বিদেশ থেকে এসেছেন তাদের সংস্পর্শে আসার কারণে বাড়ির লোকজনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তাদের রক্ত পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলসুপার সুব্রত কুমার জানিয়েছেন, কারাগারে বন্দিদের আদালতে হাজিরা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। বন্দিদের সাথে তাদের পরিবারের সদস্য কিংবা দর্শনার্থীদের সাক্ষাৎ সীমিত করা হয়েছে। হাজতির ১৫ দিনে ১ দিন এবং কয়েদীদের জন্য মাসে একবার সাক্ষাৎ করা যাবে। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে। তবে হাসপাতাল কোয়ারেন্টাইনে নেই কেউ।
এদিকে, যশোর শহরের পৌর কমিউনিটি সেন্টার, আরিফপুরে ও হামিদপুরে বিয়ে হয়েছে। যশোর সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার জানিয়েছেন, বিয়ের সংবাদ পেয়ে তিনি আরবপুরে যান। তার আগেই সকলে সেখান থেকে চলে গেছেন। হামিদপুরের একটি বাড়িতে বিয়ে হচ্ছিল সেটি তিনি বন্ধ করে দিয়েছেন। অন্যদিকে, যশোর পৌর কমিউনিটি সেন্টারে একটি বিয়ে হয়। খবর পেয়ে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। তার আগেই বর কনে চলে যান। সেখানে উপস্থিতি ছিলেন কোতয়ালি থানার এসআই আসাদ। তিনি জানান, তারা আগেই চলে গেছে। তবে বিবাহ উৎসবের আয়োজন নিয়ে সবাই ছিলেন চিন্তিত। প্রায় ৬শ’ লোকের আয়োজন করা হয় এ বিবাহ অনুষ্ঠানে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, লোকসমাগম নিরুৎসাহিত করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইইডিসিআর থেকে নির্দেশনা আছে। সেটি বাস্তবায়ন করবে প্রশাসন।





