শার্শা (যশোর) সংবাদদাতা ॥ যশোরের বেনাপোলের সীমান্ত গ্রাম দৌলতপুরে ফেনসিডিল ছিনতাইকে কেন্দ্র করে অপর মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দিনগত রাত ২ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, বুধবার রাতে ফেনসিডিল ব্যবসায়ী দৌলতপুর গ্রামের ওবায়দুল ইসলাম ওবায়েদের বাড়ি থেকে দুই শ বোতল ফেনসিডিল ছিনতাই হয়। এ ঘটনায় ফেনসিডিলের মালিক ওবায়দুল, তার ছোট ভাই পলাশ, মা আয়েশা খাতুনসহ ৫/৭ জন অপর ফেনসিডিল ব্যবসায়ী আহাদ আলীর বাড়িতে হামলা চালায়। তারা আহাদের বাড়ির জানালা ও গ্রিল ভাঙচুর করে। এ সময় আহাদ বাড়িতে ছিল না। এ ঘটনায় দৌলতপুর গ্রামে মাদক ব্যবসায়ী দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ওই গ্রামে মাদকের বেচাকেনা চলছে। গ্রামের রাস্তার পাশে, অলিগলিতে খালি ফেনসিডিলের বোতল ঝরা পাতার মত পড়ে থাকে। অথচ এসব সাধারণ মানুষের চোখে পড়লেও প্রশাসনের নজরে আসে না।
অভিযোগে জানা গেছে, বেনাপোলের সীমান্ত ঘেঁষা গ্রাম দৌলতপুর। এ গ্রামের সাথে রয়েছে ভারতের ১৩টি ঘর। আর এই ১৩ ঘর থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার বোতল ফেনসিডিল সরবরাহ করা হয়। মাদক ব্যবসায়ীরা বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে ১৩ ঘরের সরবরাহকৃত ফেনসিডিল বেচাকেনা করে। সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জানুয়ারি দৌলতপুর গ্রামের সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রশাসন, বিজিবি ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে। এরপরও পুলিশ, বিজিবি ও জনপ্রতিনিধিদের তোয়াক্কা না করে মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। দৌলতপুর গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে রেজাউল হোসেন রেজগি (৫০), মফিজুল ইসলামের ছেলে মেহেদী হাসান (২৫), মনোয়ার হোসেন মনোর ছেলে পলাশ হোসেন (২২), গোলাম হোসেনের ছেলে ওবায়দুর রহমান ওবায় (৩৪), তার স্ত্রী আয়েশা খাতুন (৪৫), রোজিনা খাতুন (৩৫), আব্দুর রহিম (৫০), আক্তারুজ্জামানের ছেলে শাহিন (২২), ইসমাইলের ছেলে আহাদ আলী (৩৫), মুক্তার আলী (৪৫), হারুন অর রশিদের ছেলে জুয়েল হোসেন (৩৮), মহব্বত আলীর ছেলে ফারুক হোসেন (৪০), মৃত আলী হোসেনের জামাই সিরু (৩৫), শাহজানের ছেলে রুবেল (৩২), সহ ২০/২৫ জন অবাধে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দৌলতপুর বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার মো. শহীদ জানান, মাদকের বিরুদ্ধে বিজিবি সব সময় পাহারায় আছে। তিনি বলেন, ‘গত ৩ মাসে প্রায় ৫ হাজার বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। মামলা হয়েছে অনেকের নামে। তিনি মাদক ব্যবসায়ীদের ধরিয়ে দিতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন’।পুটখালী ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার হাদীউজ্জামান বলেন, ‘মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে সমাবেশ করা হয়েছে। তিনি দৌলতপুর সীমান্তে মাদক ব্যবসা বন্ধের জন্য বিজিবি ও প্রশাসনের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহবান জানান’। এ বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ মামুন খান বলেন, ‘দৌলতপুর গ্রামে পুলিশি অভিযান চলছে। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবনকারীদের গ্রেফতার করে মামলা দেওয়া হচ্ছে। তিনি স্থানীয়দের সচেতন হওয়া এবং মাদক ব্যবসায়ীদের ধরিয়ে দিতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন। যদি কোন ব্যক্তি মাদকসহ কোন ব্যবসায়ীর নামে মামলা দেয় তাহলে তা তদন্ত করে অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ওসি জানান’।





