স্টাফ রিপোর্টার ॥ করোনা সংক্রমণরোধে হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতে বিদেশফেরতদের নজরদারিতে আনার উদ্যোগ নিয়েছে যশোরের জেলা প্রশাসন। গত ২১ জানুয়ারি থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন পথে যারা যশোরে এসেছেন তাদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে বলে জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। ইতিমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকেও সারাদেশের জেলা প্রশাসকদের কাছে বিদেশ থেকে আসা সাড়ে ৬ লাখ প্রবাসীর তালিকাও পাঠানো হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, যশোরে নতুন করে আরও ৮ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রেখেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এ নিয়ে যশোরে মোট ৬৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এরা সকলেই বিদেশফেরত এবং বর্তমানে সুস্থ আছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে এ তথ্য জানিয়েছেন সিভিল সার্জন। এদের মধ্যে সদর উপজেলায় ১২ জন, অভয়নগরে ৮ জন, চৌগাছায় ৯ জন, ঝিকরগাছায় ৯ জন, কেশবপুরে ২ জন, মনিরামপুরে ১২ জন ও শার্শার ১৫ জন রয়েছেন। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে সন্দেহে তাদের এ ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন বলেন, ‘আমরা যাদের তত্ত্বাবধানে রেখেছি, তাদের প্রত্যেকের কাছে আমাদের ফোন নাম্বার ও তাদের ফোন নাম্বার আমাদের কাছে রয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে তাদের খোঁজ নিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত তাদের করোনার কোন লণ পাওয়া যায়নি। সকলেই সুস্থ আছেন। হোম কোয়ারেন্টাইনে কী কী নিয়ম পালন করতে হবে তাদের সেগুলো বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। বাকি যেসব প্রবাসী যশোরে অবস্থান করছেন তাদের তালিকাও প্রস্তুত করা হচ্ছে’।
এদিকে দেশে যখন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে তখন যশোরে সর্বত্র বিদেশফেরতদের নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৬৭ জন কোয়ারেন্টাইনে থাকার খবরের পর এখন সর্বত্রই প্রশ্ন উঠেছে আসলে বিদেশফেরত লোকের সখ্যা কত? তারা কী অবস্থায় এবং কোথায় আছেন? এ বিষয়ে যশোর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত বিদেশ থেকে যশোরে কতজন এসেছেন সে বিষয়ে আপাতত আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। তিনি বলেন, আমাদের কাছে বিচ্ছিন্নভাবে খবর আসছে অমুক জায়গায় বিদেশফেরত ব্যক্তি আছেন। তিনি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এর বাইরে কোনো পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান নেই’। তবে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ শফিউল আরিফ বলেন, ‘বিদেশফেরতদের তালিকা চূড়ান্ত হচ্ছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা হাতে পাবো। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় আমরা সব সময়ই সচেতন আছি’।
এদিকে জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, করোনা সংক্রমণরোধে হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতে বিদেশফেরতদের নজরদারির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসকদের কাছে মন্ত্রিপরিষদ থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে সংশ্লিষ্টদের নিজ বাড়িতে সার্বক্ষণিক অবস্থান নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্যসহ জনপ্রতিনিধিদের অবহিত করতে ওই চিঠিতে বলা হয়েছে। জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যশোর জেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেন, যশোর যেহেতু ভারতের সীমান্তঘেঁষা একটি জেলা এবং এখানে বিমানবন্দর রয়েছে সে কারণে এ জেলার মানুষ অনেকটা বেশি করোনা ভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছেন। এসব কারণে এ জেলায় করোনা সচেতনতার জন্য নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, জেলায় বিদেশফেরত ৬৭ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হলেও তাদের শরীরে এখনো পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের আলামত পাওয়া যায়নি।




