বেনাপোলের সীমান্তবর্তী দৌলতপুর গ্রামে ফেনসিডিলের রমরমা ব্যবসা

শার্শা (যশোর) সংবাদদাতা ॥ যশোরের বেনাপোল সীমান্তবর্তী দৌলতপুর গ্রামে ফেনসিডিলের রমরমা ব্যবসা চলছে। মাদকের বিরুদ্ধে দৌলতপুর গ্রামে এলাকাবাসী মানববন্ধন ও সমাবেশ করলেও থামছে না মাদক ব্যবসা। প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাদকের বেচাকেনা হচ্ছে। গ্রামের রাস্তার পাশে, অলিগলিতে খালি ফেনসিডিলের বোতল ঝরা পাতার মতো পড়ে থাকে। এসব যেন দেখার কেউ নেই।
অভিযোগে জানা গেছে, বেনাপোলের সীমান্ত ঘেঁষা গ্রাম দৌলতপুর। এ গ্রামের সাথে রয়েছে ভারতের ১৩ টি ঘর। আর এই ১৩ ঘর থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার বোতল ফেনসিডিল সরবরাহ করা হয়। মাদক ব্যবসায়ীরা বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে ১৩ ঘরের সরবরাহকৃত ফেনসিডিল বেচাকেনা করে। অভিযোগ রয়েছে প্রতিদিন যশোর, পুলেরহাট, নতুনহাট, ঝিকরগাছা, গদখালী, নাভারণ, শার্শা ও বেনাপোল থেকে শত শত যুবক দৌলতপুর গ্রামে গিয়ে ফেনসিডিল সেবন করে। অনেকে সাথে করে নিয়েও আসে। এসব ফেনসিডিলসেবীর যাতায়াতের প্রধান বাহন মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক।
সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জানুয়ারি দৌলতপুর গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রশাসন, বিজিবি ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে। এরপরেও প্রশাসন, বিজিবি ও জনপ্রতিনিধিদের তোয়াক্কা না করে মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। দৌলতপুর গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে রেজাউল হোসেন রেজগি (৫০), ইউনুছ আলীর ছেলে মামুন (২২), মফিজুল ইসলামের ছেলে মেহেদী হাসান (২৫), মনোয়ার হোসেন মনোর ছেলে পলাশ হোসেন (২২), গোলাম হোসেনের স্ত্রী আয়েশা খাতুন (৪৫), রোজিনা খাতুন (৩৫), আব্দুর রহিম (৫০), আক্তারুজ্জামানের ছেলে শাহিন (২২), ইসমাইলের ছেলে আহাদ আলী (৩৫), মুক্তার আলী (৪৫), কেসমত আলীর ছেলে শামীম (২৬), মৃত আলী হোসেনের জামাই সীরু (৩৫), অনিক হোসেন (২৮), সজল হোসেন (২৫), রানার স্ত্রী লতা খাতুন (২৫) সহ প্রায় ২০/২৫ জন মাদক ব্যবসায়ী কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দৌলতপুর বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার মো. শহীদ জানান, মাদকের বিরুদ্ধে বিজিবি সবসময় পাহারায় আছে। তিনি বলেন, ‘গত ৩ মাসে প্রায় ৫ হাজার বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। মামলা হয়েছে অনেকের নামে। তিনি মাদক ব্যবসায়ীদের ধরিয়ে দিতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন’। পুটখালী ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার হাদীউজ্জামান বলেন, মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে সমাবেশ করা হয়েছে। তিনি দৌলতপুর সীমান্তে মাদক ব্যবসা বন্ধের জন্য বিজিবি ও প্রশাসনের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহবান জানান। এ বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ মামুন খান বলেন, দৌলতপুর গ্রামে পুলিশি অভিযান চলছে। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের গ্রেফতার করে মামলা দেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে স্থানীয়দের আরো সচেতন হতে হবে। তিনি মাদক ব্যবসায়ীদের ধরিয়ে দিতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

ভাগ