স্টাফ রিপোর্টার ॥ করোনাভাইরাস সচেতনতার জন্য সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়সহ যেকোন ধরনের অনুষ্ঠানে বড় ধরনের জমায়েত না করার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে যশোর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। সরকারিভাবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের সবধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার পর এ বিষয়ে যশোর প্রশাসনের পক্ষ থেকে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। তবে এখনো বন্ধ হয়নি যশোর শহরের গাড়ীখানা সড়কের মাসব্যাপী আনন্দ মেলা।
জেলা প্রশাসনের একটি সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ওয়াজ মাহফিল, বিবাহসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে প্রশাসনের অনুমতির জন্য আসলে তাদেরকে এসব অনুষ্ঠানে বড় ধরনের কোনো জমায়েত না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। বিশ্বব্যাপী করোনার ভয়াবহতার বিষয়টি মাথায় রেখে আপাতত এসব অনুষ্ঠান সংকীর্ণ করার পরামর্শ দেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় যশোর পৌর কমিউনিটি সেন্টারে আগামী শুক্রবার আয়োজিত একটি বড় ধরনের বিবাহ অনুষ্ঠানের আয়োজন জেলা প্রশাসনের পরামর্শে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মানবাধিকার সংগঠন রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিকের ছেলের বিবাহ উপলক্ষে আগামী শুক্রবার যশোর পৌর কমিউনিটি সেন্টারে প্রায় ৫ শ লোকের জন্য একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে যশোরের জেলা প্রশাসককেও দাওয়াত দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত করোনাভাইরাসের কারণে জেলা প্রশাসকের পরামর্শে ওই অনুষ্ঠান বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
এ ব্যাপারে রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক বলেন, আমার ছেলের বৌভাত উপলক্ষে শুক্রবার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে যে প্রোগ্রাম ছিলো তা জেলা প্রশাসকের অনুরোধে বন্ধ করে দিয়েছি। যে অতিথিদের দাওয়াত দিয়েছিলাম তাদের আবার অনুষ্ঠান বন্ধের খবরও পৌঁছে দিচ্ছি। তিনি বলেন, যেহেতু এটি এখন আমাদের জন্য জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে সেহেতু সতর্কতার জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।
বিষয়টি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার রাতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ শফিউল আরীফের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের বিষয়ে সচেতনতার জন্য বড় ধরনের কোনো জমায়েত যাতে না করা হয় সেজন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠানসহ যেসকল অনুষ্ঠানে মানুষের সমাগম বেশি হয় সেসব অনুষ্ঠান আপাতত না করার পরামর্শ দিচ্ছি। তিনি বলেন, আমার কাছে এ ধরনের অনুষ্ঠানের বিষয়ে যারা আসছেন তাদেরকে বলছি আপাতত বড় ধরনের জমায়েত হয় এ ধরনের কোনো অনুষ্ঠান না করার জন্য। তিনি বলেন, সামনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর প্রয়োজনে এ বিষয়ে আরও জোরালো সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এদিকে দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এর ঝুঁকি মোকাবেলায় সরকার সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের কর্মসূচি যখন ঘোষণা করতে বাধ্য হচ্ছে, তখন যশোর শহরের গাড়ীখানায় ধুমছে চলছে মাসব্যাপী আনন্দ মেলা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে যশোরের পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির সার্বিক সহযোগিতায় মাসব্যাপী এ মেলা গত ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন। সেই থেকে এখনও চলছে এই আনন্দ মেলা। মেলায় প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হচ্ছে। করোনাভাইরাসের ঝুঁকির মধ্যে এ ধরনের মেলা চলমান থাকায় যশোরের সচেতনমহলে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তারা অবিলম্বে মেলা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।





