আলোচিত কোয়াক ডাক্তার বাবু অভয়নগরে আটক, দুটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের বহুল আলোচিত চোরাই মোটরসাইকেল সিন্ডিকেটের হোতা চার মামলার আসামি সৈয়দ তাহিনুর রহমান তুহিন ওরফে কোয়াক ডাক্তার বাবু অভয়নগরে আটক হয়েছেন। উপজেলার বুইকারা গ্রামের পশু হাসপাতাল মোড় থেকে তাকে গত রবিবার দুপুরে আটক করেন থানা পুলিশের এসআই মনিরুল ইসলাম। এ সময় তার কাছ থেকে চোরাই দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। আটক সৈয়দ তাহিনুর রহমান তুহিন ওরফে কোয়াক ডাক্তার বাবু সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের ভেকুটিয়া গ্রামের সৈয়দ জায়েদুর রহমান ওরফে মুন্সী জায়েদুর রহমানের ছেলে। পুলিশ জানায়, অভয়নগর থানার এসআই মনিরুল ইসলাম গত রবিবার দুপুর পৌনে একটার দিকে বুইকারা গ্রামের পশু হাসপাতাল মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে মোটরসাইকেলের কাগজপত্র পরীক্ষা করছিলেন। এ সময় সেখান দিয়ে একটি বাজাজ ডিসকভার মোটরসাইকেলে (সাতক্ষীরা-হ-১৬-৩৮৬৮) যাচ্ছিলেন বাবু নামে ওই ব্যক্তি। তার গতিরোধ করে মোটরসাইকেলের কাগজপত্র দেখাতে বলা হয়। কিন্তু তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের পরিবর্তে পুলিশের ওই কর্মকর্তাকে মোটরসাইকেল বিক্রিয়নামা সংক্রান্ত একটি এফিডেভিট দেখান। সন্দেহ করা হলে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে বাবু পুলিশ কর্মকতকে জানান, তিনি মোটরসাইকেলটি সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার মুরারীকাঠি গ্রামের আব্দুল ওহাব গাজীর ছেলে ওয়াহিদুজ্জামানের কাছ থেকে কিনেছেন। কিন্তু পুলিশের সন্দেহ হয় যে, মোটরসাইকেলটি চোরাই। ফলে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে বাবু স্বীকার করেন যে, তার কাছে লাল কালো রঙের আরও একটি বাজাজ পালসার মোটরসাইকেল (খুলনা মেট্রো-ল-১১-৬৪১১) রয়েছে। মোটরসাইকেলটি বুইকারা গ্রামে পৌর কাউন্সিলর মিজানুর রহমান মোল্লার অফিসের সামনে রয়েছে। এরপর বাবুকে সাথে নিয়ে সেখান থেকে বাজাজ পালসার মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। কোয়াক ডাক্তার বাবু বাজাজ পালসার মোটরসাইকেলটি সদর উপজেলার মনোহরপুর (বাহাদুরপুর) গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে মনিরের কাছ থেকে কিনেছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। সূত্র জানায়, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে কোয়াক বাবু চোরাই মোটরসাইকেল ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত অন্যদের নামও তিনি পুলিশের কাছে প্রকাশ করেছেন। ফলে এ ঘটনায় কোয়াক ডাক্তার বাবুসহ তিন জনকে আসামি করে অভয়নগর থানায় মামলা করেছে পুলিশ। উল্লেখ্য, কোয়াক ডাক্তার বাবু দীর্ঘদিন ধরে চোরাই মোটরসাইকেল ব্যবসার সাথে জড়িত। মূলত তিনি এ সংক্রান্ত একটি সিন্ডিকেটের হোতা। ইতঃপূর্বে কোতয়ালি পুলিশ তার ভেকুটিয়ার বাড়িতে বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়েছে। সেখান থেকে চোরাই কয়েকটি মোটরসাইকেলসহ এ সংক্রান্ত অনেক জাল কাগজপত্রও সে সময় উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া তার বাড়ি থেকে একটি বিদেশি পিস্তলও উদ্ধার করেছিলো পুলিশ।

ভাগ