উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে দুর্যোগ সহনীয় পাকা ঘর পেয়ে খুশি দরিদ্ররা

আলী আকবর টুটুল,বাগেরহাট ॥ ঘূর্ণিঝড় সিডর ও আইলায় বিধ্বস্ত বাগেরহাটের দরিদ্র পরিবারগুলো পাচ্ছে দুর্যোগ সহনীয় পাকা ঘর। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও মন্ত্রণালয় থেকে জেলায় ৪শ ৪৮টি পাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। এসব ঘর পেয়ে খুশি হয়েছেন উপকারভোগীরা। জেলা প্রশাসন বলছে, মুজিব বর্ষকে সামনে রেখে দরিদ্র পরিবারগুলোকে আরও পাকা ঘর তৈরি করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর দিন জেলার বিভিন্ন উপজেলার ১শ দরিদ্র পরিবারকে দুর্যোগ সহনীয় এই ঘরের চাবি তুলে দেবেন জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও মন্ত্রণালয়ের ‘‘গৃহহীনের জন্য দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে বাগেরহাটে ২০৩টি এবং ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ২৪৫টি ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। টিনশেড আধা পাকা প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২লাখ ৯৯ হাজার ৮শ টাকা। ঘরের রয়েছে দুটি কক্ষ, বারান্দা, রান্নাঘর ও টয়লেট।
উপকারভোগীরা বলছেন, অর্থাভাবে ভালো ঘর তৈরি করতে পারেনি। ছাপড়া ঘরে থাকত হতো। ঝড়-বৃষ্টি হলেই পানিতে ভেসে যেত ঘরের মেঝে। এখন ঘর হয়েছে, সঙ্গে পাকা টয়লেট। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পাকা ঘরে থাকার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমরা কখনও ভাবেনি। ঘর দেওয়ার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান তারা। প্রতিবেশীরাও খুশি হয়েছেন ঘর দেখে। দুর্যোগ সহনীয় ঘর পাওয়া মোল্লাহাট উপজেলার কামার গ্রামের তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, স্ত্রীসহ ৫ সদস্যের পরিবার আমার। বাস, মাটি, খড় ও সনের তৈরি ঘরে বসবাস করতাম। বৃষ্টি হলেই পানিতে ভিজতে হত। অনেক সময় পাশের বাড়িতে আশ্রয় নিতাম। সরকার পাকা ঘর করে দিয়েছে এখন শান্তিতে থাকতে পারব। ঘর করে দিয়ে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
আটকুড়ি গ্রামের অনিল ঢালী বলেন, দুই ছেলে ও এক মেয়ে কলেজে পড়ে। সনের ঘরে থাকতাম বৃষ্টিতে অনেক সময় ছেলেমেয়েদের বই-খাতাও ভিজে যেত। কষ্টে চোখ থেকে পানি বের হয়ে যেত। সরকার পাকা টয়লেট, রান্নাঘরসহ দুই কক্ষের পাকাঘর তৈরি করে দিয়েছে। স্ত্রী সন্তান নিয়ে এখানে আছি খুব সুখে আছি। মোল্লাহাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজুর রহমান বলেন, উপজেলার দরিদ্রদেরকে আমরা দুর্যোগ সহনীয় ঘর তৈরি করে দিয়েছি। ঘর তৈরি ও প্রাপ্তির ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করেছি। যারা ঘর পেয়েছেন তারা খুশি হয়েছেন। মোল্লাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাফফারা তাসনীন, প্রতিটি ঘরবাবদ বরাদ্দ ছিলো ২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৬০টাকা। সেটির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে ঘরগুলো সুন্দরভাবে ব্যবহার করেছি আমরা। বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিনুল আলম ছানা বলেন, সরকার আমাদের যে ঘর দিয়েছে তা অনেক ভাল হয়েছে। গরিব এলাকা হওয়ায় আমার এলাকায় আরও অনেক ঘরের প্রয়োজন রয়েছে। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, মুজিব বর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর যে প্রতিশ্রুতি, কেউ গৃহহীন থাকবে না, ভূমিহীন থাকবে না সেগুলো আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি। সে জন্য আমরা সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করছি। ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর দিনে আমরা জেলার ১শ দরিদ্র মানুষের হাতে দুর্যোগ সহনীয় ঘরের চাবি তুলে দিব।

ভাগ