সড়ক দুর্ঘটনায় ভেঙে গেল নতুন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার অমিতের বাবা মায়ের স্বপ্ন

স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর) ॥ অমিত হাসান এ্যানি বাবা মায়ের খুব আদরের সন্তান। অভাব অনটনের সংসারে অমিতের স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া শিখে ভাল একটি চাকুরি করে বাবা-মায়ের কষ্ট দূর করার। তার সেই স্বপ্ন পূরণ একেবারে দ্বারপ্রান্তেও পৌঁছে যায়। মেরিন ইঞ্জিনিয়ারে চাকুরি পেয়ে রাজশাহীতে প্রশিক্ষণে ছিল। কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনা সবকিছুকে এলোমেলো করে দিয়েছে। অমিত চলে গেছে না ফেরার দেশে। তার মৃত্যুর খবরে পরিবারসহ গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। অমিত হাসান এ্যানি (২৩) যশোরের চৌগাছা পৌর সদরের বাকপাড়া গ্রামের ট্রাকচালক আশরাফুল ইসলাম খোকনের ছেলে। মেরিন ইঞ্জিনিয়ারে চাকুরি পেয়ে রাজশাহীতে তিনমাসের প্রশিক্ষণে ছিল। আর একমাস পরেই প্রশিক্ষণ শেষে তার বাড়িতে ফেরার কথা ছিল। এরপর কর্মস্থলে যোগদান করবে সে। একমাস আগেই অমিত নিজ বাড়িতে ফিরল ঠিকই, কিন্তু লাশ হয়ে।
রাজশাহী ন্যাশন্যাল ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলোজিতে কর্মরত আব্দুল আহাদ রাজ জানান, শনিবার সন্ধ্যার পর রাজশাহী কাটাখালি থেকে থ্রি-হুইলারে (তিন চাকার গাড়ি) অমিত হাসান এ্যানি ও তার দুই বন্ধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বেড়াতে যাচ্ছিল। পথে চৌদ্দপাই নামক স্থানে পৌঁছালে একটি পরিবহন তাদের গাড়িটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই অমিতের বন্ধু ঢাকা যাত্রাবাড়ির মাহামুদুল হাসান মারা যায়। গুরুতর আহত হয় অমিত হাসান এ্যানিসহ অপর এক বন্ধু ও চালক। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অমিতের অবস্থার অবনতি হলে ওই রাতেই তাকে ঢাকাতে রেফার করা হয়। আব্দুল আহাদ রাজ বলেন, তিনিসহ কয়েকজন বন্ধু মিলে একটি অ্যাম্বুলেন্সে অমিতকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু যমুনা সেতুতে দীর্ঘ চার ঘন্টা জ্যামে পড়ে যান তারা। ৯৯৯ এ কল করাসহ অনেক চেষ্টা করেও সামনে বা পিছনে কোন দিকেই তারা আর যেতে পারেননি। একপর্যায়ে রাত পৌনে তিনটায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে অমিত। অমিত হাসান এ্যানির চাচা হায়দার আলী জানান, অমিত খুব মেধাবী ছাত্র ছিল। পিতা আশরাফুল ইসলাম খোকন পেশায় গাড়িচালক। পিতার আয় ছিল সামান্য। তারপরও ছেলের ইচ্ছা শক্তি দেখে তাকে যথাযথভাবে সহযোগিতা করে গেছেন। অনেক কষ্ট করে তাকে মানুষ করেছেন। কিন্তু বিধাতার কী নির্মম পরিহাস, বাবা-মা যখন সংসারে সুখের আভাস পাচ্ছিলেন ঠিক সেই সময় একটি দুর্ঘটনা গোটা পরিবারকে তছনছ করে দিয়েছে। আশরাফুল ইসলামের দুই ছেলের মধ্যে অমিত ছিল বড়। তার ছোট ছেলে অন্তু হাসান উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী। গতকাল রোববার বিকেলে অমিত হাসান এ্যানির মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স পৌছায় চৌগাছার তার আপন ঠিকানায়। এ সময় পিতা-মাতাসহ স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে সেখানকার বাতাস ভারি হয়ে উঠে। তাকে শেষ বারের মতো একনজর দেখার জন্য অসংখ্য মানুষের ভিড় হয়। বাদ মাগরিব চৌগাছা কামিল মাদ্রাসা মাঠে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয় অমিতের।

ভাগ