দৈনিক কল্যাণের মুজিব জন্মশতবর্ষে উপলক্ষে গোলটেবিল বৈঠক : মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার নেই, নেই মত প্রকাশের অধিকার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক কল্যাণ আয়োজিত ‘মুজিব জন্মশতবর্ষে প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা’-শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে আলোচকরা বলেছেন, বর্তমান সময়ে দুর্নীতি, ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি, পাপিয়াকান্ড সরকারের সব অর্জনকে ম্লান করে দিচ্ছে। মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার নেই। নেই মত প্রকাশের অধিকার। বিরোধী দল হীন রাজনৈতিক পরিবেশে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকরা যৎসামান্য প্রতিবাদমুখর হচ্ছে। আর এই কারণে সরকারের এমপি মন্ত্রী আর আমলারা নাখোশ হচ্ছেন। গতকাল শনিবার বিকেলে প্রেসকাব যশোরের ভিআইপি কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এ গোলটেবিল বৈঠকে সঞ্চালন করেন দৈনিক কল্যাণ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক একরাম উদ দ্দৌলাহ। বৈঠকে মুজিব জন্মশতবর্ষে প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা নিয়ে বিস্তারিত মতামত তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মণি, শ্রমিক নেতা মাহাবুবুর রহমান মজনু, ব্যবসায়ী নেতা আলহাজ মিজানুর রহমান, যশোর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রাবণী সুর, প্রেস কাব যশোরের সাবেক সম্পাদক এস এম তৌহিদুর রহমান, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাহমুদ হোসেন বুলু, সিপিবির নেতা অ্যাড. আবুল হোসেন, মফিজুর রহমান, জেইউজের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন প্রমুখ। বক্তারা বলেন, মুজিব বর্ষের অর্জন হিসেবে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যে দলটির নেতৃত্বে দেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা বিশ^ মানচিত্রে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলাম, সেই দলটি আজ এই মুজিব বর্ষ উদযাপন ক্ষণে দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায়। আমাদের মুজিব বর্ষে অর্জন অনেক। কিন্তু সেই অর্জন বিলীন হয়ে যাচ্ছে দুর্নীতি আর লুটপাটের কারণে। তারা বলেন, দেশের রাজনীতি আজ কালো টাকার মালিক লুটেরা ব্যবসায়ীদের হাতে জিম্মি। মহান সংসদে আজ প্রকৃত রাজনীতিবিদদের তুলনায় ব্যবসায়ী কালোটাকা লুটপাটকারী ব্যাংক ডাকাত ও শেয়ার বাজার লুন্ঠনকারীদের সংখ্যা বেশি। এক দিকে দেশে অর্থনৈতিক বৈষম্য দিন দিন মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। দেশে দারিদ্র্যতার হার বাড়ছে। গৃহহীনদের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। আর অন্যদিকে গুটি কয়েক মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে জাতির ঘাড়ে চাপিয়ে মাথাপিছু আয় দেখানো হচ্ছে ১৮শ ডলার। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ধরা হচ্ছে ৮ দশমিক ৭৫। যা শুভংকরের ফাঁকি ছাড়া কিছু নয়।

ভাগ