স্টাফ রিপোর্টার ॥ আজ যশোর ইনস্টিটিউট পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন। দেশের সুপ্রাচীন ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনকে ঘিরে যশোরের বিশিষ্ট নাগরিকসহ সবশ্রেণীর মানুষের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে ইনস্টিটিউট মাঠকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে।নির্বাচনে ২০ টি পদের বিপরীতে দুটি পৃথক প্যানেলে মোট ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্যানেল দুটির মধ্যে একটি হচ্ছে ডা. আবুল কালাম আজাদ ও কবি কাসেদুজ্জামান সেলিমের নেতৃত্ব সংস্কার উন্নয়ন সমিতি এবং ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও এ. জেড এম সালেকের (স্বপন) নেতৃত্বে পরিবর্তন ও উন্নয়ন সমিতি প্যানেল। দুই প্যানেলে ২০ টি পদের বিপরীতে মোট ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
যশোর ইনস্টিটিউটের কার্য্য সহকারী (ভারপ্রাপ্ত) শওকত আহমেদ বলেন, নির্বাচনে মোট ৩০৯৫ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে দাতা সদস্য ভোটার ৯৪ জন, জীবন সদস্য ভোটার ১৩৯১ জন ও সাধারণ সদস্য ভোটার ১৬০৯ জন রয়েছে। সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করবেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মাদ আবু লাইছ। তিনি বলেন, নির্বাচনে দুটি প্যানেলে মোট ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে সংস্কার উন্নয়ন সমিতি মনোনীত প্রার্থীরা হলেন, ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, শেখ রাকিবুল আলম (জয়), মো. আব্দুর রহমান কিনা, এস নিয়া মোহাম্মদ, অ্যাডভোকেট শাহরিয়ার বাবু, অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী টুলু, মো. আব্দুর রাজ্জাক, মি. ডবনয় কৃষ্ণ মল্লিক, মো. আব্দুস সবুর নান্নু চাকলাদার, এম এম আকসাদ সিদ্দিকী শৈবাল, মো. মুস্তাফিজুর রহমান মুস্তাক, এসএম আজহার হোসেন স্বপন, মিনারা খন্দকার, অ্যাড. চুন্নু সিদ্দিকী, রওশন আরা রাসু, এ.এম মহিউদ্দীন লালু, অ্যাডভোকেট আবু সেলিম রানা, অ্যাডভোটে মো. ইসহক, মো. আহসান হাবীব পারভেজ ও কবি কাসেদুজ্জামান সেলিম। অপরদিকে পরিবর্তন ও উন্নয়ন সমিতি মনোনীত প্রার্থীরা হলেন, ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, এমরান সাদিক, চৌধুরী আশরাফুল ইসলাম মিলন, এসএম মুস্তাফিজুর রহমান কবির, অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান হিরু, কাজী লুৎফুন্নেসা, অ্যাডভোকেট প্রশান্ত দেবনাথ, মো. হাচিনুর রহমান, অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু, মো. সানোয়ার আলম খান দুলু,শ্রাবন্তী আহম্মদ, মো. মোস্তাফিজুর রহমান কাবুল, ডা. মো. জহিরুল ইসলাম, অধ্যক্ষ মুস্তাক হোসেন শিম্বা, অ্যাডভোকেট মো. আবুল কায়েস, মি. সুখেন মজুমদার, অধ্যাপক মো. ইবাদত আলী, অ্যাডভোকেট মো. শহীদ আনোয়ার, শাহিন ইকবাল ও এ. জেড.এম সালেক (স্বপন)। দুই প্যানেলের প্রার্থীদের যশোরের সবশ্রেনীপেশার মানুষের মধ্যে রয়েছে আলাদা পরিচিতি ও মর্যাদা। নির্বাচনকে ঘিরে ইতোপূর্বে এসব প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা তুলে ধরে ভোট চান। এসময়ে তারা প্রত্যেকে বিজয়ী হলে এ প্রতিষ্ঠানটির অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে ভোটারদের কাছে নানা প্রতিশ্রুতি দেন।
যশোর ইনস্টিটিউটের রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে যখন ইউরোপ-আমেরিকাতে পাঠাগার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন প্রবল হয় তখন ভারত উপমহাদেশে সে আন্দোলন প্রসার লাভ করে। তারই ফসল যশোর পাবলিক লাইব্রেরী। যা ১৮৫৪ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এরপর নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে দেড় শতাব্দীকালেরও বেশি এ সময়ের ব্যবধানে লাইব্রেরীর পাশাপাশি, যশোর টাউন হল (আলমগীর সিদ্দিকী হল), টাউন হল ময়দান (মুন্সি মেহেরুল্লাহ ময়দান, উন্মুক্ত মঞ্চ, ইনস্টিউট নাট্যকলা সংসদ, তসবীর মহল, ইনস্টিউট প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিশ্ব নাথ লাইব্রেরী হল, বই ব্যাংকসহ আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান জন্ম নিয়েছে। বহুমাত্রিক এসব প্রতিষ্ঠান মিলে ১৯২৮ সাল থেকে এটি যশোর ইনস্টিটিউট নাম ধারণ করে। যশোর শহরের বিশালায়তন জমির ওপর অবস্থিত সুপ্রাচীন এ প্রতিষ্ঠানটি এক সময় যশোরের মানুষের চিত্তবিনোদনের পাশাপাশি শিশুসহ সবশ্রেনীপেশার মানুষের মেধা বিকাশে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে আসলেও বেশ কয়েক বছর ধরে নানা কারণে তা হ্রাস পেয়েছে। এজন্য নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে প্রত্যাশাও রয়েছে বিশাল। তাদের একটাই প্রত্যাশা নির্বাচনের মাধ্যমে যারা জয়ী হবেন তারা যশোর ইনস্টিটিউটের অতীতের গৌরবময় ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।




