স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঝিনাইদহ এলজিইডি অফিসের গাড়িচালক এটিএম হাসানুজ্জামান ওরফে জগলু হত্যা মামলার দুই আসামি মোরসালিন ভুঁইয়া মিশু (২৪) ও আলামিন ঢালীকে (২৩) অবশেষে আটক করা হয়েছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই যশোরের একটি টিম গত বুধবার নারায়ণগঞ্জ ও রাজধানী ঢাকার মিরপুরে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। বৃহস্পতিবার যশোরে আদালতে তাদের সোপর্দ করা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জুুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মঞ্জুরুল ইসলাম জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এটিএম হাসানুজ্জামান ওরফে জগলু কুষ্টিয়া শহরের জুগিয়া স্কুলপাড়ার মৃত জহুরুল আলমের ছেলে। ২০১৯ সালের ২৮ আগস্ট সকালে যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ও বারীনগর বাজারের মাঝামাঝি স্থান থেকে প্রথমে অজ্ঞাতনামা হিসেবে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা লাশটি জগলু হিসেবে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় বড়ভাই এটিএম হাকিমুজ্জামান অজ্ঞানামাদের আসামি করে কোতয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলার তদন্তকালে পিবিআই জগলু হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করে। স্ত্রী তাহমিনা পারভীন তমাকে আটক করলে হত্যা রহস্য উন্মোচন হয়। তিনি স্বামী হত্যাকা-ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন। গাড়িচালক হোসেন আলীকে আটক করলে তিনিও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআই জানতে পারে, স্ত্রী তাহমিনা পারভীন তমার সাথে জগলুর সম্পর্ক ভালো ছিলোনা। মূলত তমা পরকীয়ায় আসক্ত ছিলেন। তিনি এবং তার প্রেমিক মোরসালিন ভূঁইয়া মিশুসহ কয়েকজন মিলে পরিকল্পিতভাবে জগলুকে একটি গাড়িতে করে যশোরে এনে হত্যা করেন। তাকে জবাই করে হত্যা করা হয়। এর আগে গাড়ির ভেতর নাকে চেতনানাশক লাগিয়ে অজ্ঞান করা হয়েছিলো। অচেতন অবস্থায় স্ত্রী তমা, প্রেমিক মোরসালিন ভূঁইয়া মিশু এবং সহযোগী আলামিন ঢালী তাকে গাড়ি থেকে নামান। এরপর ছুরি দিয়ে জগলুকে জবাই করেন মোরসালিন ভূঁইয়া মিশু ও আলামিন ঢালী। পিবিআই যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, জগলুকে হত্যার পর মিশু ও আলামিন ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। পরে তারা দেশে ফিরে আসেন। বিষয়টি জানতে পেরে গত বুধবার নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার মিরপুরে অভিযান চালিয়ে উল্লিখিত দুজনকে তারা আটক করেন।




