কিস্তির টাকা দিতে না পারায় অসুস্থ ঋণ গ্রহীতাকে নির্যাতনের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ ॥ সময় মতো কিস্তির টাকা দিতে না পারায় ঝিনাইদহের সিও এনজিওর মাঠকর্মীরা টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত একজন রোগীর ওপর বর্বর নির্যাতন চালিয়েছেন। ওই ঋণ গ্রহীতাকে পা দিয়ে পিষে গুরুতর জখম করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন তারা। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৮ মার্চ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের পশ্চিম নারায়ণপুর গ্রামে। ওই গ্রামের শামছুল ইসলামের ছেলে আক্তারুল ইসলামের (২৮) ওপর মাত্র দুই হাজার টাকার জন্য সিও এনজিওর মাঠকর্মীরা এ নির্মম নির্যাতন চালান। নির্যাতনের ফলে তাকে ৩ দিন ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। এ ঘটনায় ঝিনাইদহ সদর থানায় আক্তারুল লিখিত অভিযোগ করেছেন। এতে ঝিনাইদহ শহরের চাকলাপাড়ার এনজিও সিও’র গান্না বাজার শাখার মাঠকর্মী সাইফুল ইসলাম, কণক রহমান, হিসাবরক্ষক আসলাম, ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম, ম্যানেজার আব্দুল লতিফ ও অফিসার হাসানকে আসামি করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, আক্তারুল ওই এনজিও থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। প্রতি সপ্তাহে তাকে ৫৫০ টাকার কিস্তি দিতে হয়। একমাস টায়ফয়েড জ্বরে আক্রান্ত থাকার কারণে আক্তারুল কিস্তি দিতে পারেননি। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এনজিওকর্মীরা। আক্তারুলের বড় ভাবি গান্না ইউনিয়নের মেম্বার নার্গিস বেগম অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন এনজিওকর্মীরা বাড়ির ওপর গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তারা আক্তারুলের স্ত্রী জেসমিনকে কুৎসিত ভাষায় পতিতাবৃত্তি করে স্বামীর নেওয়া কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে বলেন। এ কথার প্রতিবাদ করলে এনজিওকর্মীরা তার দেবর আক্তারুলকে বেধড়ক মারপিট করেন। তিনদিন ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের পর আক্তারুল ১১ মার্চ বাড়ি আসেন। মহিলা মেম্বার আরো জানান, এনজিও কর্তৃপক্ষ তার দেবরকে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে। ৫ দিন পর টাকা প্রদান করবে। এনজিওকর্মীদের নির্যাতনের শিকার আক্তারুল জানান, থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর বিষয়টি মীমাংসার জন্য গান্না ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাসির মালিথা দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি যে বিচার করবেন তাই মেনে নেব। স্থানীয় বেতাই পুলিশ ক্যাম্পের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হাবিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, চেয়ারম্যান সমঝোতা করার উদ্যোগ গ্রহণ করায় আমরা ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছি। নির্যাতিত উপযুক্ত বিচার না পেলে পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ প্রশাসনের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে সিও এনজিও কর্তৃপক্ষ জেলাব্যাপী ঋণ দিয়ে চড়াহারে সুদ আদায় করছে। কিস্তির টাকা দিতে না পারলে গ্রামের হতদরিদ্র মহিলাদের নামে মামলা করে তাদের পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করিয়ে জেলে ভরছে বলে অহরহ অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সমাজসেবা কর্মকর্তাদের অভিমত হচ্ছে, কোন এনজিও এমন আচরণ করতে পারে না। করলে তার নিবন্ধন বাতিল হবে।

ভাগ