ফুলতলা (খুলনা) সংবাদদাতা ॥ পরকীয়ার অভিযোগে বলি হলেন কিশোরী গৃহবধূ হাজেরা খাতুন ওরফে সুমী (১৬)। থানায় মামলা দায়েরের পর বুধবার আদালতে ১৬৪ ধারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে স্বামী সোহান মোল্লা (২৩) কে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। অভয়নগর কোটা পায়রা গ্রামের আতিয়ার শেখের পুত্র ও নিহত কিশোরী গৃহবধূ সুমীর বড়ভাই সুজন শেখ বলেন, ‘গত সাড়ে ৩ মাস আগে ফুলতলার ডাউকোনা গ্রামের বাবলুর রহমান মোল্লার পুত্র ও বি এল কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সোহান মোল্লার সাথে এক লাখ ১ টাকা দেনমোহরে হাজেরা খাতুন ওরফে সুমীর বিয়ে হয়। তবে এটি ছিল সুমীর দ্বিতীয় বিয়ে। এর আগে স্থানীয় কোটা পায়রা ফাজিল মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সুমীর আপন ফুফাত ভাই আকদিয়া বিছালী গ্রামের মিঠুর সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। অল্পদিনের মধ্যে পারিবারিক কলহের জের ধরে তালাক হয়ে যায়। তিন মাসের ব্যবধানে সোহানের সাথে ফের বিয়ে হয়। তবে পিত্রালয়ে গিয়ে সুমী তার সাবেক স্বামীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ অব্যাহত রাখে বলে পরিবারের অভিযোগ। এ নিয়ে সোহান ও সুমীর মধ্যে প্রায়ই মনোমালিন্য লেগে থাকত। গত ৯ মার্চ বিকালে সুমীকে তার ভাই সুজন সাথে করে সোহানের বাড়িতে দিয়ে যান। রাত আনুমানিক ১০ টার দিকে সোহানদের ফোন পেয়ে সুমীর ভাই এসে ঘরের বারান্দায় তার বোনের লাশ দেখতে পান। তার গলায় আঘাত ও শ্বাসরুদ্ধ করার দাগ দেখতে পেয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করলে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পায়রাগ্রামস্থ সুজনদের পারিবারিক গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। অপরদিকে সুজন বাদী হয়ে সোহান মোল্লাসহ অজ্ঞাত আরও ২/৩ জনকে আসামি করে ফুলতলা থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ সোহানকে আটক করে বুধবার খুলনার অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের পর তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করে। নিহত কিশোরী গৃহবধূ সুমীর মা রাশিদা বেগম এ প্রতিনিধিকে জানান, সুমী কোটা মাদ্রাসায় ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়তো কিন্তু তার মেধা ভাল না থাকায় পারিবারিকভাবে তার ফুফাতো ভাই মিঠুর সাথে গত বছর বিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু তাদের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় সেখান থেকে ছাড়িয়ে আনা হয়। সোহানের পরিবার সুমীকে দেখে পছন্দ হওয়ায় ছাতিয়ানী গ্রামের ইমান আলী খার বাড়িতে নিয়ে পুনরায় বিয়ে দেয়া হয়। তবে সাবেক স্বামীর সাথে পরকীয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে রাশিদা বেগম বলেন, বিভিন্ন সময়ে সোহানের ভগ্নিপতি সুমীর কাছে ফোন করত। কিন্তু সোহানের মা তার জামাইকে কিছু না বলে একতরফাভাবে সুমীকে দোষারোপ করতেন। তারই জের ধরে সোমবার রাতে সোহানই সাঁড়াশি (নারিকেল ছোলার কাজে ব্যবহার হয়) দিয়ে সুমীর গলায় চেপে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার পর গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচার চালিয়েছে। তিনি সোহান ও তার সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।




