পাখাপল্লীর কারিগরদের ব্যস্ততা

0

শিপলু জামান, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) ॥ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে হাতপাখা তৈরির কারিগরদের ব্যস্ততা বেড়েছে। শীতের পর গরমের আগমনে মানুষকে একটু শান্তির পরশ দিতে তারা দিনরাত পরিশ্রম করে তৈরি করছেন হাতপাখা (তালপাখা)। এখানে পূর্ব পুরুষের ব্যবসা করে এখনো সংসার চালাচ্ছে প্রায় অর্ধশত পরিবার।
কালীগঞ্জ উপজেলার দুলালমুন্দিয়া, পারিয়াট, চাঁচড়া, আড়পাড়া এলাকা ঘুরে দেখা যায় কারিগরদের ব্যস্ততা। কেউ পাতা কেটে সাইজ করছেন, কেউ সেলাই করছেন, আবার কেউবা পাখা তৈরি শেষে বোঝা বাঁধছেন। আব্দুল গফুর বলেন, তাদের পূর্ব পুরুষরা এই তালপাখা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তারাও আজ অবধি এ ব্যবসা ধরে রেখেছেন। কালীগঞ্জে প্রায় ৫০টি পরিবার পাখা তৈরির কাজে যুক্ত। কুষ্টিয়া থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন জানান, কালীগঞ্জের হাতপাখার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পাখা কারিগর নজরুল ইসলাম জানান, পাখা তৈরির প্রধান উপকরণ তালপাতা সংগ্রহ করা হয় শীতকালে। মাগুরা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী এলাকা থেকে পাতা সংগ্রহ করেন তারা। এই তালপাতা এনে পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। তারপর পাতা ভিজে নরম হয়ে গেলে পানি থেকে উঠিয়ে তা কেটে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। একটা পাতায় দুটো পাখা হয়। এই পাতা পুনরায় বেঁধে রাখা হয়। এভাবে রাখার পর গরম মৌসুম আসার সাথে সাথে সেগুলো আবার পানিতে ভিজিয়ে দেয়া হয়। পানিতে দেবার পর পাতা নরম হয়ে গেলে শুরু হয় মূল পাখা তৈরির কাজ। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও এই পাখা তৈরির কাছে সহযোগিতা করে থাকেন। জানা গেল, পাইকাররা প্রতি পিস পাখা ১২ থেকে ১৫ টাকা দরে কিনে নিয়ে যান। তারা খুচরা হিসেবে ২০/২২ টাকায় বিক্রি করেন। পুরো গরম মৌসুম জুড়ে এই হাতপাখার রমরমা ব্যবসা চলে।