লোকসমাজ ডেস্ক॥ নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা কমছে। বিশেষত চীনসহ এশিয়ার অন্যান্য দেশে জ্বালানি পণ্যটির চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। শিগগিরই এ পরিস্থিতি পাল্টাবে না বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। চাহিদায় এ মন্দার প্রভাব পড়তে পারে পণ্যটির দামে। ২০২০ সাল শেষে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি গড়ে ৫৭ ডলারে নেমে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স (আইআইএফ) সম্প্রতি এ পূর্বাভাস করেছে। খবর রয়টার্স।
আইআইএফের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা-বিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ গার্বিস ইরাডিয়ান জানান, নভেল করোনাভাইরাস প্রকোপের আগে তারা ধরেই নিয়েছিল চলতি বছর প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের গড় দাম দাঁড়াতে পারে ৬০ ডলারে। গত বছর জ্বালানিটির প্রতি ব্যারেলের গড় দাম ছিল ৬৪ ডলার। তবে পরিস্থিতি পাল্টেছে। ভাইরাসটি বৈশ্বিক মহামারী আকার ধারণ করেছে। এতে পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কমে যেতে পারে। সঙ্গে কমে যেতে পারে দাম। ফলে পরিস্থিতি বুঝে জ্বালানি তেলের দাম পূর্বাভাসে সংশোধন আনতে হচ্ছে তাদের। নভেল করোনাভাইরাসের উন্নতি বা অবনতির ওপর নির্ভর করে এ বছর জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি গড়ে ৫৮-৫৭ ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
ইরাডিয়ান জানান, চীন বিশ্বের শীর্ষ জ্বালানি তেলের ভোক্তা দেশ। ফলে চীনে পণ্যটির চাহিদার সামান্য হ্রাস-বৃদ্ধি বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপে এ বছর দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে আসতে পারে। ফলে কমে যেতে পারে জ্বালানি পণ্যটির চাহিদা।
আইআইএফের তথ্য অুনযায়ী, এ বছর চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫ থেকে দশমিক ৭ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে যেতে পারে। আর এ সময় দেশটিতে জ্বালানি তেলের চাহিদা দৈনিক গড়ে চার লাখ ব্যারেলের মতো কমে যেতে পারে। এছাড়া ভারতসহ এশিয়ার অন্যান্য দেশে পণ্যটির চাহিদায় নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় থাকতে পারে। সব মিলিয়ে জ্বালানিটির বৈশ্বিক চাহিদা প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়ার সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ। এ বছর জ্বালানি তেলের চাহিদা কমে দৈনিক তিন লাখ থেকে চার লাখ ব্যারেলের মধ্যে থাকতে পারে বলে জানান গার্বিস ইরাডিয়ান।





