জনবল সংকটে কোটচাঁদপুর ভূমি অফিস, চরম ভোগান্তি মানুষের

আলমগীর খান, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) ॥ ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা ভূমি অফিসে চরম অচলাবস্থা বিরাজ করছে। কর্মকর্তা-কর্মচারী শূন্যতার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কোটচাঁদপুর উপজেলা ভূমি অফিসে গত আটমাস যাবত এসি ল্যান্ড নেই। কানুনগো’র একটি মাত্র পদ শূন্য রয়েছে ২০০৪ সাল থেকে। অফিস সহকারী ও সমমানের ৭ টি পদে নেই ৬ কর্মচারী। যে কারণে ভূমি ব্যবস্থাপনার সকল কাজ চলছে ধীরগতিতে।
অফিসের প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক শাহাদত হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, এসি ল্যান্ড স্যার না থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন ইউএনও নাজনিন সুলতানা। তাকে নিজ দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। তারপরও তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করেন ভূমি অফিসের কাজকর্ম সমাধা করতে। তবে অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীর পদ শূন্য থাকায় ভূমি ব্যবস্থাপনার সকল কাজে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, বেশি শ্রম দিয়েও নির্দিষ্ট সময়ে কাজ করে দিতে না পারায় ভুক্তভোগীরা ভুল বুঝছেন। মাঝে মাঝে কেউ কেউ চড়াও হচ্ছেন। এতে অফিসের লোকজনকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ভূমি অফিসে গেলে নানা তথ্য পাওয়া যায়। বেলা ১১ টায় দেখা যায় অনেক ভোক্তভোগী দাঁড়িয়ে আছেন উপজেলা ভূমি অফিসের বারান্দায়। তারা এসেছেন জমির নামজারিসহ জমির কাগজপত্রের সমস্যার সমাধান করতে। কেউ কেউ অফিসের ভিতরে অফিসের কর্মচারীদের সাথে কথা বলছেন। অফিসের বারান্দায় মুখে হাত দিয়ে বসে থাকা মহিলাটিকে ভীষণ চিন্তিত মনে হচ্ছিল। তার নাম রেহেনা রহমান। তিনি পৌরসভা এলাকার বড়বামুন্দা গ্রামের মশিয়ার রহমানের স্ত্রী। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বিপদ থেকে রেহাই পেতে জমি বিক্রির জন্য প্রায় তিনমাস আগে জমির নামপত্তনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছিলাম। গত ২ মার্চ শুনানির জন্য আমাদের ডাকা হয়। এখন এসেছি কবে নাগাদ নামপত্তনের কাগজ হাতে পাবো সেটি জানতে। তিনি বলেন, নামপত্তনে এত দীর্ঘ সময় লাগার ফলে সময়মতো জমি বিক্রি করতে পারিনি। যে কারণে ক্ষতি যা হবার হয়ে গেছে। অপরজন রফিকুল ইসলামের বাড়ি কোটচাঁদপুর উপজেলার দুতিয়ার কুঠি গ্রামে। তিনি বলেন, এক মাস আগে জমির নামপত্তনের জন্য কাগজপত্র জমা দিয়েছি এখনো শুনানির জন্য ডাকেনি। জানতে এলাম আর কতদিন সময় লাগবে। তিনি বলেন, আমি গরীব মানুষ পরের জমিতে কামলা খেটে খায়। বাড়ি ৭ কিলোমিটার দূরে। সেখান থেকে কাজকর্ম বন্ধ করে বার বার আসা খুবই কঠিন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজনিন সুলতানাকে ভূমি অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন নিয়ে সমস্যা হচ্ছে কি-না এবং ভূমি অফিসের কাজকর্মে ধীরগতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পারছিনা কথাটি বলার সুযোগ নেই। তবে লোকবল কম হওয়ায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। কিছু কিছু মামলায় সময়ও লাগে। তারপরও ঝিনাইদহের অন্যান্য উপজেলার তুলনায় এই ভূমি অফিসে পেন্ডিং মামলা কম আছে। খুব একটা সমস্যা হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন । এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শরিফুননেছা মিকি বলেন, আমার কাছে প্রায়ই সাধারণ মানুষ অভিযোগ করে থাকেন এসিল্যান্ড ও অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারী না থাকায় উপজেলা ভূমি অফিসের কাজকর্মে চরম ধীরগতি। যে কারণে তারা দিনের পর দিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ১ এপ্রিল কোটচাঁদপুর উপজেলা ভূমি অফিসের এসি ল্যান্ড মো. সবিরুল ইসলাম অন্যত্র বদলি নিয়ে চলে যান। এরপর থেকে ২৭/ ০৯/২০১৭ তারিখ পর্যন্ত দীর্ঘ ১৫ বছরের অধিক সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা। ২৮/০৯/২০১৭ তারিখ এসি ল্যান্ড হিসেবে যোগদান করেন রোজিনা আক্তার। তিনি মাত্র ২ মাস অফিস করে ৩/১২/২০১৭ তারিখে অন্যত্র বদলী নিয়ে চলে যান। আবারো ওই দিন অতিরিক্ত দায়িত্বে আসেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজনিন সুলতানা। প্রতিষ্ঠানটিতে ৬/১২/২০১৭ তারিখে তাসলিমা আক্তার এসি ল্যান্ড হিসেবে যোগদান করেন। তিনি দেড় বছর দায়িত্ব পালন করলেও ৬ মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি কাটান। পরবর্তীতে তিনি ৯/০৬/২০১৯ তারিখে পদোন্নতি নিয়ে অন্যত্র বদলি হয়ে চলে যান। এরপর থেকে আবারো দীর্ঘ ৮ মাসের অধিক সময় ধরে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজনিন সুলতানা।

ভাগ