রাশিয়ার আপত্তিতে অনিশ্চয়তায় ওপেকের নতুন চুক্তি

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে চলতি বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদায় বড় ধরনের ধস নামতে পারে বলে পূর্বাভাস জানিয়েছে খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এতে দীর্ঘদিন ধরেই দরপতনে থাকা জ্বালানি পণ্যটির দাম আরো কমে যাওয়ার সম্ভাবনা জোরদার হচ্ছে। বাজারে ভারসাম্য ফেরাতে এরই মধ্যে নতুন করে পণ্যটির উত্তোলন আরো কমিয়ে আনতে ঐকমত্যে পৌঁছেছে অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ (ওপেক)। তবে নতুন এ চুক্তিতে এখনো সম্মতি জানায়নি ওপেকের মিত্র জোট ওপেক প্লাসের নেতৃত্বে থাকা রাশিয়া। ফলে নতুন চুক্তিটি ঘিরে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। খবর রয়টার্স।
জ্বালানি তেলের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে ৫ মার্চ থেকে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় বৈঠকে বসেছে ওপেক ও নন-ওপেক দেশগুলো। এ বৈঠকে জোটটির জ্বালানি তেল উত্তোলন হ্রাসসংক্রান্ত বর্তমান চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত নেয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে ওপেকভুক্ত দেশগুলো। এর সঙ্গে পণ্যটির উত্তোলন দৈনিক আরো ১৫ লাখ ব্যারেল কমিয়ে আনার বিষয়েও ঐকমত্যে পৌঁছেছে জোটটি। তবে প্রস্তাবিত এ চুক্তিতে এখন পর্যন্ত সায় দেয়নি ওপেক প্লাস জোট। জোটটির নেতৃত্বে থাকা রাশিয়া পণ্যটির উত্তোলন বিষয়ে বর্তমান চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে একমত হলেও বাড়তি উত্তোলন হ্রাসে রাজি হয়নি। তবে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে রাশিয়ার সম্মতি পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী ওপেক।
এদিকে ওপেক ও মিত্র দেশগুলোর মধ্যে মতানৈক্যের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে গতকাল জ্বালানি তেলে ব্যাপক দরপতন দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গতকাল শুক্রবার ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমে ব্যারেলপ্রতি ৪৭ ডলার ৯৫ সেন্টে নেমেছে, আগের দিনের তুলনায় যা ২ ডলার ৪ সেন্ট বা ৪ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ কম। একই বাজারে প্রতি ব্যারেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম কমে ৪৩ ডলার ৮২ সেন্টে নেমেছে, যা আগের দিনের তুলনায় ২ ডলার শূন্য ৮ সেন্ট বা ৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ কম।
রাশিয়া যদি ওপেকের এ প্রস্তাবে রাজি হয়, তবে তা হবে ২০০৮ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের পর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সর্বনিম্ন উত্তোলন। নতুন চুক্তি অনুমোদিত হলে ওপেক ও নন-ওপেকভুক্ত দেশগুলোকে সক্ষমতার তুলনায় পণ্যটির উত্তোলন দৈনিক গড়ে ৩৬ লাখ ব্যারেল কমিয়ে আনতে হবে, যা মোট বৈশ্বিক উত্তোলনের ২ দশমিক ১ শতাংশ। কোটা অনুযায়ী ওপেক প্লাস জোটকে সম্মিলিতভাবে বর্তমানের সঙ্গে পণ্যটির উত্তোলন দৈনিক আরো পাঁচ লাখ ব্যারেল কমিয়ে আনতে হতে পারে। তবে রাশিয়া ও কাজাখস্তান জানিয়েছে, তারা পণ্যটির উত্তোলন আরো কমিয়ে আনতে এখনো প্রস্তুত নয়।
রাশিয়ার আপত্তিতে ওপেকের নতুন প্রস্তাব ভেস্তে যাওয়ারও আশঙ্কা আছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানিমন্ত্রী সুহাইল আল মাজরুইয়ি জানান, জ্বালানি তেল উত্তোলন হ্রাসের বোঝা ওপেক একা কখনই বহন করতে চায়নি, ওপেক প্লাস এ বিষয়ে বরাবরই সাহায্য করেছে। আমরা সবাই একসঙ্গে। তাই এ বিষয়ে আমরা একা কোনো সিদ্ধান্ত নেব না। সিদ্ধান্ত যা-ই হোক, আলোচনার ভিত্তিতে নেয়া হবে।
এ বিষয়ে রাশিয়ার অর্থমন্ত্রী আন্তন সিলুয়ানভ জানান, ওপেক প্রস্তাবিত জ্বালানি তেল উত্তোলন হ্রাসের পরিমাণ প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি। বৈঠকে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না এলে জ্বালানি তেলের দরপতন মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছেন তিনি।