সাগর-রুনি হত্যায় ২ অজ্ঞাত পুরুষের ‘সম্পৃক্ততা’ পেয়েছে র‌্যাব

লোকসমাজ ডেস্ক॥ সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন গতকাল সোমবার জমা দিয়েছে র‌্যাব। ৮ বছর পর সাগর-রুনি হত্যা মামলায় র‌্যাবের প্রতিবেদনে এ হত্যায় দুই অজ্ঞাত পুরুষের সম্পৃক্ততার কথা জানান হয়। সোমবার বিকালে এ প্রতবেদন হাইকোর্টে জমা দেওয়া হয়।বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে র‌্যাব ওই প্রতিবেদন দাখিল করে। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাবের অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার শফিকুল আলম হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ প্রতিবেদন দাখিল করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দু’জন অপরিচিত পুরুষ জড়িত ছিলেন। সাগরের হাতে বাঁধা চাদর এবং রুনির টি-শার্টে ওই দুই পুরুষের ডিএনএ’র প্রমাণ মিলেছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি জানিয়েছেন র‌্যাব।র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলেন, এ মামলায় তানভীরের অবস্থা রহস্যজনক। এই মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি (বিচারিক আদালতে ব্যাক্তিগত হাজিরা থেকে) দেওয়া যুক্তিযুক্ত হয়নি। আমেরিকা পাঠানো ডিএনএ নমুনার সঙ্গে অপরিচিত দুই ব্যক্তির ডিএনএ’র মিল পাওয়া গেছে।
১৪ নভেম্বর এ মামলার সন্দেহভাজন আসামি তানভীরের জামিনের বিষয়ে রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। ২০১২ সালের ১১ ফেব্র“য়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। এরপর রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরে বাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত এ মামলায় তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি)। কিন্তু তদন্ত করে রহস্য উৎঘাটনে ব্যর্থ হয় ডিবি। এরপর হাইকোর্টের নির্দেশে একই বছরের ১৮ এপ্রিল মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় র‌্যাবকে। এরপর প্রতিবেদন দাখিল করতে আদালত থেকে দফায় দফায় সময় নেয় র‌্যাব। এ মামলায় গ্রেফতার হয়ে ভবনের নিরাপত্তাকর্মীসহ বেশ কয়েকজন কারাগারে রয়েছেন। বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী পলাশ রুদ্র পাল গ্রেফতার হলেও পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্তি পান। এ ছাড়া সাগর-রুনির কথিত বন্ধু ও সন্দেহভাজন আসামি তানভীর রহমান ২০১২ সালের ১ অক্টোবর গ্রেফতার হওয়ার পর তিনিও পরে জামিন পান। আসামি তানভীর রহমানের েেত্র মামলা বাতিলের আবেদনের প্রেেিত শুনানিকালে গত ২০ অক্টোবর এক আদেশে তদন্ত কর্মকর্তাকে গত ১১ নভেম্বর তলব করেছিল বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। তদন্তকারী কর্মকর্তা শফিকুল আলম ওই দিন হাইকোর্টকে জানান, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই থেকে চারটি ডিএনএ টেস্টের মধ্যে দুটির প্রতিবেদন পাওয়া গেলেও নমুনার সঙ্গে আসামিদের নমুনা মেলেনি। আর অন্য দুটি নমুনার প্রতিবেদন এলে ডিএনএর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী খুনীদের কল্পিত চেহারা অঙ্কনের চেষ্টা করা হবে। এ সময় তদন্ত নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করে হাইকোর্ট।এরপর ১৪ নভেম্বর হাইকোর্ট এক আদেশে তানভীর আহমেদকে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি এবং ৪ মার্চ এ মামলায় তদন্তের সবশেষ অবস্থা প্রতিবেদন আকারে জানাতে নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি হাইকোর্ট বলে, ‘এ মামলায় দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে না পারলে র‌্যাবের সাফল্য ম্লান হবে। বিশেষায়িত এই বাহিনী ব্যর্থতার দায়ভার বহন করুক তা কারও কাম্য নয়।’

ভাগ