আজ কবি আজীজুল হকের ৯০তম জন্মবার্ষিকী

স্টাফ রিপোর্টার॥ আজ কবি আজীজুল হকের ৯০তম জন্মবার্ষিকী। তিনি ১৯৩০ সালের ২ মার্চ বৃহত্তর যশোর জেলার মাগুরা মহাকুমার শ্রীপুর থানার তারাউজাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। বাবার নাম মুন্সি মোহাম্মদ জবেদ আলী আর মা রহিমা খাতুন। তিনি আজীবন নিজেকে যশোরের মানুষ বলে মনে করতেন এবং আমৃত্যু যশোর শহরে বসবাস করেছেন। পঞ্চাশ দশকের বাঙালি কবিদের মধ্যে স্বতন্ত্রধারার এক উজ্জলতম কবি আজীজুল হক। তিনি কবিতায় সমকালীন বাস্তবতা, মুক্তির আকাক্সক্ষা, অস্তিত্ব ও অস্তিত্বের সংকটকে আপন কাব্যিক স্বকীয়তার সম্মিলন ঘটিয়ে সূর্যমুখী নায়ক ও কবি হয়েছেন। কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে যশোর সাহিত্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ আজ সকালে কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন এবং সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় পরিষদ কার্যালয়ে কবিতা পাঠ ও আবৃত্তির অনুষ্ঠান করবে।
কবি আজীজুল হক ছিলেন পঞ্চাশ দশকের কবিদের মধ্যে স্বতন্ত্রধারার এক উজ্জলতম কবি। তার কাব্যে সমকালীন সমাজ বাস্তবতা, স্বাধীনতা, মুক্তির আকাক্সক্ষা, আন্দোলনসহ আপন অস্তিত্ব ও অস্তিত্বেও সংকট কাটিয়ে ওঠার প্রগাঢ় উদাত্ত উচ্চারণের সুক্ষ কাব্যিক ভাষাকে প্রতিবাদ মুখর করেছেন। তিনি আপন স্বকীয়তা, ইতিহাস ঐতিহ্যকে নিজের আত্মবিশ^াসের সীমানায় রেখে মানবতাবাদ, পূর্ণ সামাজিক জীবনমুখীতায় কবি হিসেবে আধুনিক কাব্যবোধের সম্মিলন ঘটিয়েছেন। ১৯৫৭ সালে তিনি কবি হিসেবে নিজেকে বাংলা কাব্যধারার মুল¯্রােতে অধিকতর উজ্জল হয়ে ওঠেন। তার কবিতায় সাতচল্লিশ থেকে একাত্তুরের উত্তাল রাজনৈতিক আকাঙ্খাসমূহ অধিকারের অনিবার্য মাত্রা সময়ের সীমা অতিক্রান্ত করে সার্বজনীন হয়ে উঠেছে। কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে ‘ঝিনুক মুহূর্ত সূর্যকে’, এর পর ‘বিনষ্টের চিৎকার’ ১৯৭৬, এবং ‘ঘুম ও সোনালী ঈগল’ প্রকাশিত হয় ১৯৮৯ সালে । কবির একমাত্র প্রবন্ধগ্রন্থ ‘অস্তিত্বচেতনা ও আমাদের কবিতা’ ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
কবি আজীজুল হকের কবিতায় ইতিহাস সময় আকাশ আর নীল অন্ধকারে মানুষের অস্বিত্ব নাক্ষত্রিক উজ্জলতায় সূর্য হয়ে ওঠে। তার মধ্যে প্রেম রক্ত যন্ত্রণাকে তিনি বুদ্ধিদীপ্ত চেতনা দিয়ে সংশয় অতিক্রম করে নতুন আলোর সম্ভাবনাকে দেখিয়েছেন। ১৯৫৭ সালে সাতক্ষীরা ডিগ্রি কলেজে অধ্যাপনা দিয়ে পেশাগত জীবন শুরু করে পরের বছর চলে আসেন যশোর এমএম কলেজে। অধ্যাপনা পেশার কারণে তিনি আজীবন যশোরের তরুণ ছাত্রনেতা, নাট্যশিল্পী, কবিসহ মুক্তচিন্তার মানুষদের কাছে একান্ত আপন আজীজুল হক স্যার হয়ে ছিলেন। তিনি চাকরি থেকে অবসর নেন ১৯৮৮ সালে। পরের বছর ১৯৮৯ সালে কবি আজীজুল হক বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। এর আগে তিনি সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৮৫ সালে ‘সুহৃদ সাহিত্য পুরস্কার’ ১৯৮৬ সালে ‘যশোর সাহিত্য পরিষদ পুরস্কার’ পেয়েছিলেন। এছাড়া তিনি ‘মধুসূদন একাডেমি পুরস্কার’(১৯৮৯) ও ‘যশোর শিল্পীগোষ্ঠী পদক’ (১৯৯৪) গ্রহণ করেছেন। এরপর যশোর যুব ও শিশু সংগঠন চাঁদের হাট কবিকে ১৯৯৬ সালে ‘চাঁদের হাট পদকে’ সম্মানিত করে। সম্মানিত এ শিক্ষক, কবি জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তরুণদের সুকুমারচর্চার পথে আলো উঁচু করে পথ দেখিয়েছেন। তিনি তাদের প্রেরণা দিয়েছেন। শিখিয়েছেন কিভাবে শিল্পবোধকে ধারণ ও আত্মস্থ করতে হয়। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির উন্নয়নে নিবেদিত থাকা কবি আজীজুল হক ২০০১ সালের ২৭ আগস্ট অনন্ত শয্যায় শায়িত হন । তাকে যশোর কারবালা গোরস্থানে সমাহিত করা হয়।

ভাগ