অগ্নিঝরা মার্চ

মাসুদ রানা বাবু ॥ ২ মার্চ ১৯৭১। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের ঘোষণায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা বিুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা একাত্তরের এই দিনে সকাল থেকেই ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় জমায়েত হতে থাকেন। এ সময় ছাত্র-শিক্ষকরা সভা করে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান। সভা চলাকালীন তৎকালীন ডাকসু ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব সকলের সামনে প্রথম বাংলাদেশের নকশাকৃত পতাকা উত্তোলন করেন। পরে লাল-সবুজের এ পতাকাটিই বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
এদিকে, সভা শেষে ইয়াহিয়ার গণপরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণার প্রতিবাদে সারা প্রদেশে হরতাল আহ্বান করা হয়। এতে সকল শ্রেণি পেশার মানুষ আন্দোলনে যোগ দিয়ে রাজপথে নেমে আসেন। সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশ গ্রহণ হরতাল ও সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভয় পেয়ে যান পাকিস্তানি সামরিক শাসকরা। তারা রাত ৯টা থেকে পরদিন সকাল ৭টা পর্যন্ত ঢাকায় কার্ফু জারি করেন। কিন্তু কার্ফু প্রত্যাখ্যান করে রাতেই ঢাকার রাজপথে মিছিল বের করে ছাত্র-জনতা। মিছিল আর শ্লোগানে শ্লোগানে আন্দোলিত হয়ে ওঠে ঢাকা নগরী। এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন পাকিস্তানি প্রশাসকরা। তাদের নির্দেশে পাকিস্তানি সেনা সদস্যরা পূর্ব বাংলার নিরস্ত্র জনতার ওপর গুলি চালায়। এ ঘটনায় আরও জোরদার হয় আন্দোলন। আন্দোলকারীরা ৩ মার্চ থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হরতাল পালনের ঘোষণা দেন। সাথে সংবাদ সম্মেলন করে নেতৃবৃন্দ নতুন কর্মসূচি দিতে ৭ মার্চ (তৎকালীন) রেসকোর্স ময়দানে বিশাল সমাবেশ করার আহ্বান জানান। আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে এদিন বিকালে ছাত্রলীগ ও ডাকসু নেতাদের একত্রিত করে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়।

ভাগ