বিদ্যুৎ ও পানির মূল্য বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়বে জনগণ

0

আবারও বিদ্যুৎ ও পানির দাম বাড়ানো হলো। দৈনন্দিন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এ দুটি পণ্যের দাম বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন আরও টানাপড়েনের মধ্যে পড়বে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ব্যাপকভাবে । নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম এ মুহূর্তে আকাশছোঁয়া অবস্থায় রয়েছে। চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, রসুন থেকে শুরু করে যাবতীয় নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। সীমিত ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ যখন সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখনই বিদ্যুৎ ও পানির দাম বৃদ্ধি করা হলো। এ যেন ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি নিয়ে গত বছরের নভেম্বরে বিইআরসির গণশুনানি হয়। তখন থেকেই সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে বিদ্যুতের দাম আবারও বৃদ্ধি করা হবে এবং নতুন করে তাদের আরও চাপে পড়তে হবে। বিইআরসি যখন একবার বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কথা বলে এবং লোক দেখানো গণশুনানি করে, তখন তারা যে দাম বৃদ্ধি করবেই এবং গণশুনানিতে বিরোধিতাকারিদের মতামত পাত্তা দেবে না, তা সকলেই জানে। বিইআরসি তার ঘোষণা মতোই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করেছে এবং ১ মার্চ থেকেই তা কার্যকর হবে। বিদ্যুতের দাম আবাসিক থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক েেত্র বৃদ্ধি করা হয়েছে। গ্রাহকদের ইউনিট প্রতি ৩৬ পয়সা বাড়তি দিতে হবে। ইউনিট প্রতি বাড়ানো হয়েছে ৫.৩ শতাংশ। প্রতি ইউনিটের দাম ৬.৭৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭.১৩ টাকা করা হয়েছে। পাইকারিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে ৮.৪ শতাংশ। ইউনিট প্রতি দাম হয়েছে ৫.১৭ টাকা। এবারের বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিসহ এই সরকারের গত ১১ বছরে দাম বৃদ্ধি করা হলো ১০ বার। বলা যায়, প্রতি বছরই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিদ্যুতের দামের পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রামে পানির দামও ওয়াসা বাড়িয়েছে। প্রতি হাজার লিটারে পানির দাম বেড়েছে আবাসিকে ২.৮৯ টাকা এবং বাণিজিকে ২.৭৪ টাকা। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বিইআরসি চেয়ারম্যান যেসব যুক্তি দেখিয়েছেন, তাতে সাধারণ মানুষের কিছু যায় আসে না। তারা শুধু জানে, বিদ্যুৎ ও পানির দাম বর্ধিত মূল্য তাদের দিতে হবে এবং তাদের জীবনযাপনকে কঠিনতর করে তুলবে। প্রতি পণ্যের দাম ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে।
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি নিয়ে বিশ্লেষকরা বলেছেন, নানা কারণে দেশের অর্থনীতিতে যখন নেতিবাচক প্রভাব বিরাজমান, তখন এই দাম বৃদ্ধি অর্থনীতিকে আরও কঠিন পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাবে। শিল্পের উৎপাদন খরচ থেকে শুরু করে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে। সাধারণ মানুষ অত্যন্ত বেকায়দার মধ্যে পড়বে। তারা বলছেন, বিদ্যুৎ ও পানি-এ দুটি খাত অত্যন্ত দুর্নীতিগ্রস্ত। দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা বন্ধ না করে দাম বৃদ্ধি করা কোনোভাবেই যৌক্তিক হয়নি। বিদ্যুৎ-পানির দাম বৃদ্ধিতে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের কোনো সমস্যা হবে না। কারণ তারা সরকারেরই অংশ। যত সমস্যা হবে সাধারণ মানুষের। সরকার সাধারণ মানুষের এই সমস্যার কথা বিবেচনা করেছে বলে মনে হয় না। অথচ সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের পয়াসাই সরকার চলে। সরকারের আয়ের উৎস তারাই। তাদের সুবিধা-অসুবিধা দেখার দায়িত্ব সরকারেরই। দুঃখের বিষয়, সরকার তা দেখছে না। যেখানে জনবান্ধব হয়ে সাধারণ মানুষের স্বার্থ দেখা এবং স্বস্তিতে রাখা সরকারের উচিত, সেখানে তাদের সঙ্গে একধরনের ব্যবসা করে চলেছে। সরকার যদি জনগণের কাছে ব্যবসায়ী হয়ে ওঠে, তবে তাদের দুঃখের সীমা থাকে না। সরকারও জনগণের কাছে সেবক হিসেবে গণ্য হয় না। আমরা মনে করি, জনগণের কল্যাণের সাথে যেসব সেবা সরাসরি সম্পৃক্ত সেগুলোর দাম বৃদ্ধির েেত্র সরকারের গভীর চিন্তা ও বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সরকার যদি সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা আমলে না নেয়, তবে তাদের উন্নতি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বলার অপো রাখে না, বিদ্যুৎ-পানির দাম বৃদ্ধি এটাই শেষ নয়, এটা একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। ভর্তুকি ও বিভিন্ন অজুহাতের কথা তুলে ধরে এ দাম বৃদ্ধি চলতেই থাকবে। বিদ্যুৎ ও পানি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো দূর করার উদ্যোগ না নিয়ে দাম বৃদ্ধি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। আমরা মূল্য বৃদ্ধি নয়, দুর্নীতি উৎপাদন চাই।