শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ হাটে ধান শেষ হওয়ার পর থেকে চালের বাজার আর স্থিতিশীল থাকতে দেয়া হচ্ছে না। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও আরেক দফা চালের দাম বাড়িয়েছেন বাজার ‘নিয়ন্ত্রণকারী’ মজুতদাররা। যশোরের বাজারে চালের দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৪ টাকা। চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন মিল মালিক আর আড়তদাররা ইচ্ছেমত দাম নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। বিভিন্ন সময়ে এদের মুখ দিয়ে যে বিক্রি দামটা বেরিয়ে আসে সেটাই হয় বাজার দর। ভোক্তারা বলছেন বাজার মনিটরিং সরকারি সংস্থাগুলো নির্লিপ্ততার কারণে মজুতদারা সুযোগের সদ্ব্যবহার করছেন।
হাটে এখন যৎসামান্য ধান উঠছে। মৌসুমের আমন ধান এখন মিল মালিক, মজুতদার আর আড়তদারদের হাতে। তাদের গুদামে প্রচুর চাল মজুদ করে রাখা হয়েছে। খুচরা দোকানগুলোতে হাজারো বস্তা চালের লাট মারা থাকলেও ওটাকে বাজার স্থিতিশীল বলা যাবে না। কারণ খুচরা দোকানিদের চাল কিনতে হয় মিল মালিক ও আড়তদারদের কাছ থেকে। তারা যখন যে দাম নির্ধারণ করে দেন সেটাই হয়ে যায় বাজার দর। অর্থাৎ চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন মিল মালিক, মজুতদার ও আড়তদার সিন্ডিকেট।
শনিবার যশোরের বড় বাজার চাল বাজারে সরেজমিন দেখা যায়, খুচরা দোকানগুলোয় চালের ২৫ কেজি ও ৫০ কেজির চটের বস্তা থরে থরে সাজানো। আগেও যেমন ছিল, এখনও সেভাবে বিভিন্ন দোকানে চালের বস্তার লাট মারা দেখা যাচ্ছে। অথচ এ সপ্তাহে বিভিন্ ধরনের চালে প্রতি কেজিতে ৪টাকা করে বেড়েছে। গতকাল শনিবার সরু চাল বাংলামতি খুচরা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৪ থেকে ৫৬ টাকা। গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৫০ থেকে ৫২ টাকায়। সরু চাল বিআর-২৮ ধানের চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৪ টাকা। গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৩৮ থেকে ৪০ টাকায়। সরু চাল কাজললতা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৪ টাকা। গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৪০ থেকে ৪২ টাকায়। সরু চাল মিনিকেট প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা। গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৪৫ থেকে ৪৬ টাকায়। আর মোটা স্বর্ণা ধানের চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকা। গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৩০ টাকায়।
চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলতি মৌসুমের আমন ধান এখন হাটে আর উঠছে না বলা চলে। ভরা মৌসুমে বিভিন্ন হাট থেকে ধান কিনে গুদামে ভরেছেন মিল মালিকরা। আর আড়তদারা বিভিন্ন মোকাম থেকে ধান কিনে চাল বানিয়ে মজুদ করেছেন। একই সাথে এক শ্রেণির মজুতদারাও ধান কিনে গুদামজাত করে রেখেছেন। এসব ধান চাল স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাজারে সরবরাহ করা হলে চালের দাম বাড়াতো দূরের কথা আরও কমে যাওয়ার কথা। কিন্তু এই অতি মুনাফালোভী সিন্ডিকেট সেটা হতে দেয় না। বাজারে চালের দর নিয়ন্ত্রণ করে এই সিন্ডিকেট।
এদিকে, যশোর চাল বাজার মালিক সমিতির সভাপতি ও পাইকারি চাল বিক্রেতা বড় বাজারের পিংকী স্টোরের মালিক সুশীল বিশ^াস লোকসমাজকে জানান, এ সপ্তাহে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। এখন হাটে আর ধান নেই বললে চলে। নতুন বোরো ধান না ্ওঠা পর্যন্ত চালের দাম কমার আর সম্ভাবনা নেই। বরং সামান্য কিছু দাম আরও বাড়তে পারে। তিনি আরও জানান, নতুন বোরো ধানের চাল বৈশাখ মাসের মাঝামাঝি সময়ে বাজারে চলে আসবে।
শনিবার কথা হয় বারান্দিপাড়ার বাসিন্দা ক্রেতা হায়দার আলীর সাথে। তিনি একটি খুচরা চালের দোকান থেকে ৫ কেজি বিআর-২৮ চাল কিনলেন ২১০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি কেজি চালের দর ৪২ টাকা। মাত্র গত সপ্তাহে এই একই চাল তিনি কিনেছিলেন ৩৮ টাকা কেজি দরে। তিনি দোকানে দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে বিক্রেতা তাকে জানান, পইকারি বাজার আড়ত থেকে বেশি দাম দিয়ে বর্তমানে চাল কিনতে হচ্ছে। ওই ক্রেতার অভিমত বাজার মনিটরিং না থাকায় সিন্ডিকেট চালের দাম নির্ধারণ করছে।





