ছত্রাকনাশক উচ্চ ফলনশীল পাঁচটি জাতের আলু চাষে সফল হয়েছে যশোরের কৃষকরা

আকরামুজ্জামান ॥ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের আলু গবেষণা কেন্দ্রে উদ্ভাবিত মড়ক প্রতিরোধী উচ্চ ফলনশীল বারি ৩৫, ৩৬, ৩৭ ও ৪০, ৪১ জাতের আলু চাষ করে ব্যাপক সফল হয়েছেন যশোরের চাষিরা। উ”” ফলনশীল ও স্বল্প মেয়াদী ছত্রাকনাশক আলুর এ ৫টি জাত ইতোমধ্যে কৃষক পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কম খরচে ফলন ভালো হওয়ায় উন্নত জাতের এ আলু চাষের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কেন্দ্র যশোরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (কন্দাল ফসল) ড. বিমল চন্দ্র কুন্ডু জানান, আমাদের দেশে যেসব আলু চাষ করা হয় তার অধিকাংশ বিদেশী জাতের। তবে বারি আলু ৩৫.৩৬, ৩৭ ও ৪০, ৪১ এ পাঁচটি জাত সম্পূর্ণ আমাদের দেশের নিজস্ব জাত। উচ্চ ফলনশীল ও আমাদের দেশের আবহাওয়ার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আলুর এ জাতগুলো আবিষ্কার করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ জাতের আলু অন্যান্য আলুর চেয়ে ফলন বেশি ও রোগপ্রতিরোধী। যেকারণে আলুর জাতটি কৃষক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
কৃষি বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, আলু চাষের জন্য বাংলাদেশের কৃষকদের জন্য বড় সমস্যা হচ্ছে লেটব্লাইট বা নাবী ধসা রোগ। প্রতিবছর এ রোগের আক্রমণের কারণে বাংলাদেশে আলুর ২৫ থেকে ৫৭ ভাগ ফলন কমে যায়। কৃষকদের নাবী ধস রোগের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে বছরে ৫০০ টন ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হয় কৃষকদের। এ অবস্থায় প্রতিকারে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের আওতাধীন আলু গবেষণা কেন্দ্র এর আগে ছত্রাকনাশক বারি আলুর চারটি জাতের মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষা শুরু করে সাফল্য হয়। তবে এবার ছত্রাকনাশকের পাশাপাশি উচ্চ ফলনশীল বারি ৩৫.৩৬, ৩৭ ও ৪০, ৪১ আলুর এ ৫টি জাত আবিষ্কার করলো বিজ্ঞানীরা।
গত এক বছর ধরে যশোর সদরের কসবা গ্রামের মাঠে উন্নত জাতের এ আলুর পরীক্ষামূলক গবেষণা করে ব্যাপক সফল হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি কৃষি বিজ্ঞানীরা প্রদর্শিত আলু ক্ষেত পরিদর্শন করে ব্যাপক আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
যশোর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ড. গোবিন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস জানান, মড়ক প্রতিরোধী ও উচ্চ ফলনশীল আলুর এ ৫টি জাত কৃষক পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তিনি বলেন প্রতিবছর আমাদের দেশের চাষিরা রোগবালাইয়ের কারণে আলু চাষ করে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে থাকেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে আমাদের বিজ্ঞানীরা গত কয়েক বছর ধরে গবেষণা করে সফল হয়েছেন। মাঠ পর্যায়ে প্রদর্শিত চাষে আমরা শতভাগ সফল হয়েছি। এখন আবহাওয়ার সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশীয় জাতের আলু আবিষ্কার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, পরীক্ষামূলক চাষে আমরা অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছি। একদিকে ফলন যেমন বেশি হয়েছে তেমন আলুর আকারও অন্যান্য জাতের চেয়ে বড়। ফলে এ জাতের আলুু চাষ করলে কৃষক লাভবান হবে বলে আশা করছি। ফলে কৃষকরা ধানসহ অন্যান্য চাষের পাশাপশি আলু চাষ করে ব্যাপক লাভবান হতে সক্ষম হবে। এর ফলে আমাদের কৃষি অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
কসবা গ্রামের মাঠে পরীক্ষামূলক চাষের সাথে যুক্ত কৃষক নান্নু জামান বলেন, কৃষকরা এ আলু চাষ করে বেশ সফল হয়েছেন। তিনি বলেন, একই মাঠে নতুন জাতের এ আলুর পাশাপাশি সাধারণ জাতের আলু চাষ হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে নতুন জাতের এ আলু ক্ষেতে কোন ছত্রাকের আক্রমণ হয়নি। তাছাড়া অন্য আলু অপেক্ষা এ আলু চাষ স্বল্প মেয়াদী ও ফলন বেশি। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আমরা এ আলু চাষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

ভাগ