লোকসমাজ ডেস্ক॥ কলেজে ভর্তির েেত্র আগের নিয়মের পরিবর্তন করে বেশ কিছু নতুন শর্ত জুড়ে দিয়ে নীতিমালার খসড়া তৈরি করছে শিা মন্ত্রণালয়। ফলে চলতি বছর থেকেই কলেজ এবং মাদরাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে বেশ কিছু পরিবর্তন আসছে। মার্চের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই কলেজে ভর্তির এই খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। নতুন নিয়মে কলেজে ভর্তিতে দু’টি েেত্র কোটা পদ্ধতিও উঠে যাচ্ছে। আবার একজন শিার্থীর কাছ থেকে উন্নয়ন ফি হিসেবে তিন হাজার টাকার বেশি না নেয়ারও কড়া নির্দেশনা থাকছে এই নীতিমালায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কলেজ ও মাদরাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির েেত্র বড় ধরনের পরিবর্তন এনে আন্তঃশিা সমন্বয়ক ও ঢাকা শিা বোর্ডের প থেকে একটি খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। নীতিমালায় কোটা বাতিল, রেজিস্ট্রেশন ফি বৃদ্ধি, এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া বাতিলসহ গুরুত্বপূর্ণ চারটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভর্তি আবেদন ১০ মে শুরু হয়ে ২৫ জুন শেষ করার প্রস্তাব করেছে আন্তঃশিা সমন্বয় বোর্ড। নতুন এই নীতিমালার বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার শিা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিা বিভাগের প থেকে আয়োজিত সভায় একাদশ শ্রেণির খসড়া নীতিমালা-২০২০ তুলে ধরা হয়। সভায় শিামন্ত্রী ডা: দীপু মনি এবং এ বিভাগের সচিব মো: মাহবুব হোসেন উপস্থিত ছিলেন। নতুন এই খসড়া নীতিমালায় দেখা গেছে, এ বছর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির েেত্র মুক্তিযোদ্ধা, প্রবাসী ও বিকেএসপি কোটা বহাল রেখে অন্য দু’টি কোটা বাতিল করা হয়েছে। ভর্তি প্রক্রিয়ায় জটিলতা ও ব্যয় কমাতে এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া বাতিল করে শুধুমাত্র অনলাইনে আবেদন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিভাগীয় ও জেলা সদর এবং শিা মন্ত্রণালয়ের অধস্তন দফতরসমূহের কোটা বাতিল করা হয়েছে। ভর্তি নিশ্চয়ন ফি ১৩০ টাকার বদলে ১৩৫ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ চূড়ান্ত তালিকায় নাম এলে একজন শিার্থীকে ১৩৫ টাকা দিতে হবে। মার্চের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে এই খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে বলে মন্ত্রণালয়ের প থেকে জানানো হয়েছে। নীতিমালা প্রণয়নের সাথে সম্পৃক্ত শিা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, এবারো অনলাইনে ১০টি কলেজ বা মাদরাসায় আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর জন্য নেয়া হবে ১৫০ টাকা। ফলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এসএমএস করে ভর্তির আবেদন আর করা যাবে না। আগে মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে প্রতিটি আবেদনের জন্য ১২০ টাকা ফি নেয়া হতো। মেধা কোটা প্রসঙ্গে নীতিমালায় বলা হয়েছে, শতভাগ মেধা কোটা ছাড়া শিাপ্রতিষ্ঠানের বিশেষ কোটা হিসেবে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা, বিকেএসপি শূন্য দশমিক ৫ এবং প্রবাসী শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কোটা বহাল রেখে বিভাগীয় ও জেলা সদর, শিা মন্ত্রণালয়ের অধস্তন দফতরসমূহের কোটা বাতিল করা হয়েছে। এবার ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বেসরকারি শিাপ্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি ফি পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার মধ্যে আংশিক এমপিওভুক্ত ও এমপিওবিহীন প্রতিষ্ঠানের বাংলা মাধ্যমে ভর্তির জন্য ৯ হাজার ও ইংরেজি মাধ্যমে ভর্তি ফি ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হবে। সব প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্নয়ন ফি তিন হাজার টাকার বেশি করা যাবে না। প্রতিটি খাতে অর্থ আদায়ের েেত্র রশিদ প্রদানের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া মফস্বল ও পৌর এলাকার জন্য ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার টাকা, পৌর জেলা সদরে দুই হাজার টাকা, ঢাকা ব্যতীত অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকায় তিন হাজার টাকার বেশি নেয়া যাবে না বলেও খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, অনলাইনে একাদশ শ্রেণির প্রথম ধাপের ভর্তি আবেদন আগামী ১০ থেকে ২০ মে পর্যন্ত গ্রহণ করা হবে। ২৭ থেকে ৩১ জুন যাচাই-বাছাই, আপত্তি ও নিষ্পত্তি কার্যক্রম চলবে। ৮ জুন প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ করা হবে। তবে পুনঃনিরীায় এসএসসি পরীা ফল পরিবর্তনকারীরা ১ জুন থেকে ৩ জুন পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন। দ্বিতীয় ধাপে আবেদন শুরু হবে ১৭ জুন, ২০ জুন শেষ হবে। একইদিন রাত ৮টার পর এ ধাপের ফল প্রকাশ করা হবে। তৃতীয় ধাপে ২৩ জুন আবেদন শুরু হয়ে ২৫ জুন পর্যন্ত চলবে। ২৫ জুন রাত ৮টার পর এ ধাপের ফল প্রকাশ করা হবে। নীতিমালায় পরিবর্তনের বিষয়ে ঢাকা শিা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক মো: হারুন অর রশিদ জানান, এ বছর একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি নীতিমালায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম ও ভোগান্তি তৈরি হয়। অনেক কলেজ কর্তৃপ আবেদনকারীর অনুমতি ছাড়াই আবেদন করে ফেলেন। পরে এসব সমস্যা নিয়ে সবাই শিা বোর্ডে এসে অভিযোগ করেন। এ সমস্যা সমাধানে এবার মোবাইলে আবেদন প্রক্রিয়া বাতিল করে শুধু অনলাইনে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। নীতিমালা শিা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এটি চূড়ান্ত করা হতে পারে বলেও জানান তিনি।





