স্টাফ রিপোর্টার ॥ পৌরসভার পক্ষ থেকে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে মশা দমনের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন যশোর শহরের বাসিন্দারা। গত বছরের ডেঙ্গুর উপদ্রবের বিষয়টি মাথায় রেখে আগেভাগেই মশা নিধনে পৌর কর্তৃপক্ষকে সচেতন হওয়া উচিৎ বলে মনে করেন তারা। তবে তাদের দাবির বিষয়টি যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে বলে জানিয়ে আগামী সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে মশা দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পৌরমেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু। গত দুই সপ্তাহ ধরে যশোর শহরে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন এলাকার ড্রেন ও জলাশয়-ডোবানালা নিয়মিত পরিষ্কার না করায় মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ মানুষ অভিযোগ করছেন স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের কাছে। পৌরসভার পক্ষ থেকে মশা দমনে উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানানো হলেও কবে নাগাদ নেয়া হবে তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না।
যশোর পৌরসভার বেশ কয়েকজন কাউন্সিলরের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এলাকার বাসিন্দারা মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে তাদের কাছে প্রতিনিয়ত অভিযোগ করছেন। বিষয়টির প্রতি তারাও গুরুত্ব দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে অধিকাংশ ওয়ার্ডে মশা দমনে স্প্রে শুরু হবে বলে ঘোষণাও দেয়া হয়েছে। ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আজিজুল ইসলাম জানান, এ বছর মশা দমনের ব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষের ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে। মেয়র সাহেব নিজেই বিষয়টি নিয়ে সিরিয়াস। তিনি পৌরসভার ৯ টি ওয়ার্ডে মশা দমনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আমাদেরকে বলেছেন। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করা হবে। তিনি বলেন, গত বছর যেহেতু ডেঙ্গু মশার প্রকোপ বেশি ছিলো। সে কারণে এ বছর আগেভাগেই মশা দমনের বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে। তবে শহরবাসীর অভিযোগ, মশা দমনের জন্য প্রতিবছর ওষুধ ছিটানো হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। কোন কোন এলাকায় লোক দেখানো ওষুধ ছিটানো হয়ে থাকে। ফলে যে উদ্দেশ্যে মশা নিধনে স্প্রে করা হয় তা সফল হয় না। শহরের খড়কি কবরস্থান এলাকার বাসিন্দা জয়নাল আবেদিন জানান, সারা বছরই মশার ওষুধ ছিটানো হয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয় না। গত কয়েকদিন ধরে মশার উৎপাত বাড়ায় আমরা এলাকার কাউন্সিলরের কাছে অভিযোগ দিয়েছি। তিনি জানিয়েছেন, কয়েকদিনের মধ্যে ওষুধ দেয়া হবে। তিনি বলেন, সন্ধ্যা নামলে মশার উপদ্রবে ঘরে থাকা যায় না। যাদের সামর্থ আছে তারা কয়েল জ্বালিয়ে বা স্প্রে করে কিছুটা রক্ষা পান। কিন্তু হতদরিদ্র মানুষের কষ্টের শেষ নেই। একই এলাকার শাহিদুল আলম নামে একজনের অভিযোগ, ভৈরব নদসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় যেসব পুকুর-জলাশয় রয়েছে সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় মশার প্রজননেেত্র পরিণত হয়েছে। ভৈরব নদের দড়াটানা ব্রিজের পূর্বদিকে পলিথিন ও প্লাস্টিকের বোতল জমে থাকায় এবং পানি ঠিকমতো নামতে না পারায় দূষিত পানিতে মশার জন্ম হচ্ছে। খালধার রোড এলাকার বাসিন্দা শামীম আক্তার বলেন, মশার যন্ত্রণা সহ্য করা দায়। সন্ধ্যার পর ভুলে জানালা খোলা থাকলে সে রাতে আর ঘরে দু মিনিট বসা যায় না। তিনি বলেন, গত বছরের ডেঙ্গু মশার যে উপদ্রব ছিলো তা থেকে আমাদেরকে শিক্ষা নিতে হবে। নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য আগে থেকেই মশা দমনে পদক্ষেপ নিতে হবে। এ বিষয়ে যশোর পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু বলেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যে যে কোনো দিন আনুষ্ঠানিকভাবে পৌরসভার ৯ টি ওয়ার্ডে মশা দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে। তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে মশা নিধন কর্মসূচি উদ্বোধন হওয়ার পর পৌরসভার প্রত্যেক এলাকায় স্প্রে করে মশা নিধন করা হবে। এর ফলে মশা নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং নাগরিকরা সুবিধা পাবেন বলে তিনি জানান।





