হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বেড়েছে পাথর আমদানি

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পাথর আমদানির হার দিন-দিন বাড়ছে। গত সাত মাসে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এ বন্দর দিয়ে ৯ লাখ ৬৬ হাজার মেট্রিক টন পাথর আমদানি হয়েছে।
জানা যায়, এ বন্দর দিয়ে আমদানি করা পাথর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ দেশের বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এদিকে বিপুল পরিমাণ পাথর আমদানিকে কেন্দ্র করে হিলিতে গড়ে উঠেছে বেচা-কেনার বিশাল বাজার। প্রতিদিন কোটি টাকার পাথর বিক্রি হচ্ছে এ বন্দরে।
পাথরে পরিপূর্ণ গেছে হিলি স্থলবন্দরের পানামা ওয়্যার হাউস মাঠ। ওয়্যার হাউসটির এক তৃতীয়াংশ জায়গা জুড়ে শুধু পাথর আর পাথর। প্রতিদিনই বাড়ছে ভারত থেকে পাথর আমদানির পরিমাণ। বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বড় বড় কাজের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ভারত থেকে আমদানিকরা পাথর। দেশের পাথরের চাহিদা পূরণের জন্য একটি বড় অংশ এখন আমদানি হচ্ছে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে। পাকুর জাতের এসব পাথর আমদানি হচ্ছে ভারতের ঝাড়খাণ্ড রাজ্য থেকে। আর এসব পাথর পদ্মাসেতু তৈরিসহ দেশের বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট নির্মাণেও ব্যবহার করা হচ্ছে।
হিলি স্থলবন্দরের পাথর আমদানিকারকরা জানান, পাথর আমদানিকে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠেছে পাথর বেচা কেনার বিশাল বাজার। প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার পাথর বিক্রি হচ্ছে এ বন্দরে। বন্দরের কাঠামোর উন্নয়ন করা হলে ব্যবসা বাণিজ্যের আরও উন্নয়ন হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
হিলি স্থলবন্দর জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন প্রতাব মল্লিক জানান, ভারত থেকে যে পাথরগুলো হিলি স্থলবন্দরে প্রবেশ করছে সেগুলো পানামা হিলি পোর্ট লিংক লি. খুব দ্রুত খালাস করে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে।
হিলি স্থলবন্দর আমাদনি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি হারুন-উর রশিদ হারুন জানান, পাথর আমদানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে বন্দরের জায়গা স্বল্পতা। প্রতিনিয়ত হিলি বন্দর দিয়ে ২শ থেকে ২৫০ ট্রাক পাথর আমদানি হয়ে থাকে। পোর্টের ভেতরের জায়গার স্বল্পতার কারণে যানজট প্রায় লেগে থাকে। যদি পোর্টের জায়গা বৃদ্ধি করা এবং পণ্যগুলো পোর্টের বাইরে নামানো হলে যানজট কমবে সেই সঙ্গে পাথরের আমদানি বাড়বে এবং দাম অনেকটা কমবে বলে মনে করছেন এ কর্মকর্তা।
হিলি কাস্টমস রাজস্ব কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, কাস্টমসের হিসাব মতে- গত সাত মাসে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ৯ লাখ ৬৬ হাজার মেট্রিক টন পাথর আমদানি হয়েছে। এ থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।