খেলাপি ঋণ আদায়ে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান

0

বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের প্রধান সমস্যা খেলাপি ঋণ। বিশেষ সুযোগ, এককালীন এক্সিট সুবিধা, আইন শিথিল, অবলোপন নীতিমালায় ছাড়, স্বল্প সুদের ঋণের ব্যবস্থাসহ খেলাপিদের নানা বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি সরকারের প থেকে একের পর এক পদপে নেওয়া হলেও খেলাপি ঋণ না কমে উল্টো বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায় ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলো মোট ১০ লাখ ১১ হাজার ৮২৯ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ৯৪ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যাংকগুলো ডিসেম্বর পর্যন্ত যত টাকার ঋণ বিতরণ করেছে তার ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। সেপ্টেম্বর (প্রথম প্রান্তিক) শেষে এই হার ছিল ১১ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ২০১৮ সালের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে দেখা যাচ্ছে, এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের মোট পরিমাণ ৪২০ কোটি টাকা বেড়েছে। এ অবস্থায় খেলাপি ঋণ আদায়ে দেশে কঠোর আইন করতে যাচ্ছে সরকার। নতুন এ আইন অনুযায়ী যেসব ব্যাংক খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যর্থ হবে, তা আদায়ের ভার দেওয়া হবে সরকারের প্রস্তাবিত নতুন সংস্থা ‘অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন’কে। সরকারের বিশেষায়িত এই আর্থিক প্রতিষ্ঠান খেলাপি ঋণ আদায়ে সম্ভব সব ধরনের মতা পাচ্ছে।
খেলাপি ঋণের েেত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর এই প্রথম কোনো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানকে এত মতা দেওয়া হচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক মিলে ‘বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন আইন, ২০২০’ নামে একটি আইনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে। পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, খসড়া আইনটিতে পুঁজিবাজার স্থিতিশীল রাখতে করপোরেশনকে শেয়ার, বন্ড ও ডিবেঞ্চার বা মিউচুয়াল ফান্ড কিনে বিনিয়োগ করারও সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তহবিল সংগ্রহে সেখান থেকে অর্থ তুলতে পারবে করপোরেশন। খসড়া আইনের একটি ধারায় করপোরেশনের মতা সম্পর্কে বলা হয়েছে, খেলাপি ঋণ আদায়ে ঋণগ্রহীতা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কম্পানির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব গ্রহণসহ কর্তৃত্ব নিয়ে নিতে পারবে করপোরেশন। বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানটি চাইলে ঋণগ্রহীতার খেলাপি ঋণ পুনঃ তফসিলীকরণ কিংবা পুনর্গঠন করতে পারবে। অর্থমন্ত্রী এক সাাৎকারে জানিয়েছেন, নতুন আইনে মামলা করার সুযোগ থাকবে না। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সেই ঋণ পরিশোধ না করে কৌশল হিসেবে ঋণখেলাপিরা আদালতে রিট মামলা করতে পারবেন না। খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা। সেই সঙ্গে বলেছেন কিছু আশঙ্কার কথাও। আমরা আশা করব সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে খেলাপি ঋণের বোঝা কমাতে সরকারের উদ্যোগ কার্যকর হবে।