স্পোর্টস ডেস্ক॥ টেস্ট জিততে ভুলেই গিয়েছিল বাংলাদেশ। ৬ টেস্টে হারের পর অবশেষে জয়ের ধারায় ফিরেছে মুমিনুল হকের দল। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে একমাত্র টেস্টে চার দিনেই জিম্বাবুয়েকে এক ইনিংস ও ১০৬ রানে হারিয়েছে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ইনিংসে জিম্বাবুয়ে গুটিয়ে গেছে ১৮৯ রানে। বাংলাদেশ সর্বশেষ টেস্ট জিতেছিল সেই ২০১৮ সালের নভেম্বরে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেই ম্যাচটিও বাংলাদেশ জেতে ইনিংস ব্যবধানে। তখন অধিনায়ক ছিলেন সাকিব আল হাসান। এবার মুমিনুল হকের নেতৃত্বে প্রথম টেস্ট জিতলো বাংলাদেশ। তৃতীয় দিন ২৯৫ রানের লিড পেয়ে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে ৬ উইকেটে ৫৬০ রান তুলে। মুশফিকুর রহিমের ডাবল সেঞ্চুরি ও মুমিনুলের সেঞ্চুরিতে রানের পাহাড় গড়ে স্বাগতিকরা। তার পর তৃতীয় দিনের শেষ বিকালেই জিম্বাবুয়েকে চেপে ধরে খেলা শুরু স্বাগতিকদের। নাঈমের ঘূর্ণিতে আগের দিন বিদায় নেন দুইজন। তাই চতুর্থ দিন তাদের দ্রুত গুটিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের। সেই পরিকল্পনায় সফলও হয়েছে তারা। দুই সেশনও টিকতে পারেনি জিম্বাবুয়ে।
সকালে তাইজুলের ঘূর্ণিতে শুরুতেই স্লিপে ক্যাচ উঠেছিল কেভিন কাসুজার। কিন্তু সুযোগটি পরিপূর্ণ ছিল না। তবে ১১তম ওভারে আর শেষরক্ষা হয়নি ডানহাতি ওপেনারের। তাইজুলের ঘূর্ণি বল ব্যাটের কোনায় লেগে জমা পড়ে দ্বিতীয় স্লিপে। তিনি ফিরেছেন ১০ রানে। ব্রেন্ডন টেলর থিতু হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু নিজের ভুলেই বড় শট খেলতে গিয়ে সাজঘরের পথ ধরেছেন। নিজের প্রথম ওভার বল করতে এসে উইকেটটি নিয়েছেন অফস্পিনার নাঈম হাসান।
এই পরিস্থিতি দ্রুত সামলানোর চেষ্টা করেছেন ক্রেইগ আরভিন ও সিকান্দার রাজা। তাদের ৬০ রানের জুটিতে প্রতিরোধ গড়ার স্বপ্ন দেখতে থাকে জিম্বাবুয়ে। কিন্তু লাঞ্চ ব্রেকের আগে অযথা রান নিতে গিয়ে আউট হয়েছেন আরভিন (৪৩)। জিম্বাবুয়ে অধিনায়ককে রান আউট করেছেন মুমিনুল। গুরুত্বপূর্ণ এই জুটি ভাঙলে আসা-যাওয়ার মিছিল ছিল জিম্বাবুয়ের ইনিংসে। লাঞ্চ ব্রেকের পর পর ফিরে গেছেন সিকান্দার রাজা। তাইজুলের ঘূর্ণিতে পুল করতে গিয়ে মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়েছেন মুশফিকুর রহিমকে। রাজা ফিরেছেন ৩৭ রানে।
এরপর টিমিসেন মারুমা ও রেজিস চাকাভা মিলে কিছুক্ষণ প্রতিরোধ গড়েন। তাদের এই প্রতিরোধ ভেঙে দিয়েছেন তাইজুল। চাকাভাকে তালুবন্দি করান ১৮ রানে। নতুন নামা এইনসলে এনডিলোভুও ফিরে গেছেন পরের ওভারে। নাঈম হাসানের বলে এলবিডাব্লিউতে বিদায় নিয়েছেন। অপরপ্রান্ত আগলে খেলতে থাকা মারুমাকে ফিরিয়েছেন নাঈম। ৪১ রানে তাকে ফিরিয়ে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার ৫ উইকেট পূরণ করেন নাঈম। টিশুমাকে বিদায় দিয়ে কফিনের শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন তাইজুল। দ্বিতীয় ইনিংসে জিম্বাবুয়ে অলআউট হয় ১৮৯ রানে। এই ইনিংসে ৮২ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন নাঈম, ৪টি নিয়েছেন তাইজুল। ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ম্যাচসেরা মুশফিকুর রহিম।
স্কোর: জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংস: ২৬৫ (আরভিন ১০৭, মাসভাউরে ৬৪; নাঈম ৪/৭০, রাহী ৪/৭১), দ্বিতীয় ইনিংস ১৮৯ (আরভিন ৪৩ রাজা ৩৭, মারুমা ৪১; নাঈম ৫/৮২, তাইজুল ৪/৭৮)
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৫৬০/৬ ডি. (মুশফিক ২০৩*, মুমিনুল ১৩২, নাজমুল ৭১; এনডিলোভু ২/১৭০, টিশুমা ১/৮৫, তিরিপানো ১/৯৬, নিয়ুচি ১/৮৭)
নাঈমের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং
স্পোর্টস ডেস্ক॥ পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের স্কোয়াডে থাকলেও একাদশে জায়গা হয়নি। সুযোগ এলো জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। কী দারুণভাবেই না এটা কাজে লাগালেন নাঈম হাসান। তরুণ এই অফ স্পিনার ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে দলের জয়ে রাখলেন বড় অবদান। মিরপুর টেস্টে মঙ্গলবার জিম্বাবুয়েকে ইনিংস ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেটসহ নাঈম ম্যাচে ১৫২ রানে নেন ৯ উইকেট। ম্যাচে তার আগের সেরা বোলিং ছিল অভিষেকেই, ২০১৮ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৯০ রানে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। নিজের প্রথম চার টেস্টে নাঈম পেয়েছিলেন ১০ উইকেট। এবার এক ম্যাচেই নিলেন ৯টি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এবার প্রথম ইনিংসে অল্পের জন্য পাঁচ উইকেট পাননি। নিয়েছিলেন ৪টি। দ্বিতীয় ইনিংসে ঠিকই সেই আক্ষেপ ঘুচেছে।
তৃতীয় দিন জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় ইনিংসের প্রথম ওভারে প্রিন্স মাসভাউরে ও ডোনাল্ড টিরিপানোকে ফিরিয়ে শিকার ধরা শুরু করেন নাঈম। চতুর্থ দিন নেন আরও ৩ উইকেট। এদিন তার শিকার ব্রেন্ডন টেইলর, আইন্সলে এনডিলোভু ও টাইমাইসেন মারুমা। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার পাঁচ উইকেট পেলেন ১৯ বছর বয়সী স্পিনার। এই টেস্টের আগে বিসিএলেও দারুণ বোলিং করেন নাঈম। দুই ম্যাচে নেন ২১ উইকেট। সেই ছন্দ ধরে রাখলেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও। উইকেট সংখ্যার পাশাপাশি নাঈম নজর কাড়েন টানা বোলিং করে। প্রথম দিন বোলিং করেন টানা ৩২ ওভার। চতুর্থ দিন ম্যাচ শেষ হওয়ার আগে করেন টানা ২১ ওভারের স্পেল।
রেকর্ড ভেঙে শিরোপার আরও কাছে লিভারপুল
স্পোর্টস ডেস্ক॥ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের গড়া রেকর্ড ভেঙে শিরোপার আরও কাছে চলে এসেছে লিভারপুল। অ্যানফিল্ডে নাটকীয় ম্যাচে ওয়েস্ট হাম ইউনাইটেডকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে রেডরা। শিরোপা প্রত্যাশী হওয়ায় লিভারপুলকে আর কে ঠেকায়? এমনটা ভাবলে যে বিপদ, তা ম্যাচের গতিপ্রকৃতির দিকে তাকালেই বোঝা যাবে। ম্যাচের ৯ মিনিটে লিভারপুল এগিয়ে যাওয়ায় সব কিছু স্বাভাবিক গতিতে এগিয়ে যাবে বলে মনে হচ্ছিল। শুরুর গোলটি করেছেন জর্জিনিয়ো ভিনালদাম। কিন্তু তিন মিনিট বাদেই ওয়েস্টহাম সমতা ফিরিয়ে জানিয়ে দেয় পথটা সহজ নয়! ইসা ডিওপের হেডে দ্রুত সমতা ফেরায় তারা।
পরিস্থিতি আরও বেগতিক হয়ে দাঁড়ায় ৫৪ মিনিটে ওয়েস্ট হাম স্কোর ২-১ করলে। পাবলো ফর্নালস গোল করলে এগিয়ে যায় তারা। লিভারপুলও হাল ছেড়ে দেওয়ার দল নয়। আক্রমণে ধার বাড়িয়ে আদায় করে নেয় দুই গোল। ৬৮ মিনিটে মোহামেড সালাহর গোলে মেলে সমতা। ৮১ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন সাদিও মানে। ফলে ঘরের মাঠে টানা ২১টি জয় তুলে নিয়েছে তারা। ইংলিশ লিগে ঘরের মাঠে টানা এতগুলো ম্যাচ জিতে নিজেদের গড়া আগের রেকর্ডই ভেঙে ফেলেছে লিভারপুল। সেই রেকর্ডটি তারা করেছিল ১৯৭২ সালে। এই ম্যাচ জেতায় ২৭ ম্যাচে লিভারপুলের সংগ্রহ ৭৯ পয়েন্ট। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিটির চেয়ে ২২ পয়েন্ট এগিয়ে তারা। এখন ১১ ম্যাচে আর ১২ পয়েন্ট পেলেই দীর্ঘ অপেক্ষার শিরোপা ঘরে তুলবে তারা। সবচেয়ে দ্রুত হবে আর ৪টি ম্যাচ জিতলে।
বিশ্ব ও এশিয়া একাদশ টি২০ সিরিজে থাকছেন যারা
স্পোর্টস ডেস্ক॥ আগামী মার্চে বিশ্ব একাদশ এবং এশিয়া একাদশের মধ্যে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে এ সিরিজ আয়োজন করা হবে। তবে এখনও সূচি ঠিক হয়নি। এ বিষয়ে মঙ্গলবার শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘এশিয়া একাদশে খেলবে এমন কয়েকজন ক্রিকেটারকে আমরা চূড়ান্ত করেছি। তবে তাদের সাথে এখনও চুক্তি হয়নি। ভারত থেকে কমপক্ষে পাঁচজন ক্রিকেটার অংশ নেবে। ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যস্ত থাকায় কোনো পাকিস্তানি ক্রিকেটার এতে অংশ নেবে না। আমি মনে করি বিরাট কোহলি এশিয়া একাদশের হয়ে খেলবে। তবে তার সাথে এখনও চুক্তি করিনি।’
কোহলির পাশাপাশি ভারত থেকে লোকেশ রাহুল, শিখর ধাওয়ান, রিশভ পন্ত, কুলদীপ যাদভ এবং মোহাম্মাদ শামী এশিয়া একাদশের হয়ে খেলতে পারেন। শ্রীলঙ্কা থেকে থিসারা পেরেরা ও লাসিথ মালিঙ্গা, আফগান স্পিনার রশিদ খান ও মুজিব উর রহমান এবং বাংলাদেশের মুস্তাফিজু রহমান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস অংশ নেবে।
বিশ্ব একাদশেও বড় বড় তারকা ক্রিকেটার থাকবেন বলে বিসিবির একটি সূত্র ইউএনবিকে নিশ্চিত করেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিয়েরন পোলার্ড, নিকোলাস পুরান, শেল্ডন কটরেল এবং ক্রিস গেইল এই সিরিজে অংশ নিতে পারেন। ইংল্যান্ডের জনি বেয়ারস্টো, আদিল রশিদ, অ্যালেক্স হেলস এবং ব্রেন্ডল টেইলর (জিম্বাবুয়ে), ফাফ ডু প্লেসিস ও লুঙ্গি এনগিদি (দক্ষিণ আফ্রিকা), মিচেল ম্যাকলেনেঘান (নিউজিল্যান্ড) ও আন্দ্রে টাই (অস্ট্রেলিয়া) বিশ্ব একাদশের হয়ে খেলতে পারেন।
এশিয়া একাদশ স্কোয়াড (সম্ভাব্য): বিরাট কোহলি, লোকেশ রাহুল, শিখর ধাওয়ান, রিশভ পন্ত, কুলদীপ যাদভ, মোহাম্মাদ শামী, থিসারা পেরেরা, লাসিথ মালিঙ্গা, রশিদ খান, মুজিব উর রহমান, মুস্তাফিজু রহমান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস।
বিশ্ব একাদশ স্কোয়াড (সম্ভাব্য): কিয়েরন পোলার্ড, নিকোলাস পুরান, শেল্ডন কটরেল, ক্রিস গেইল, জনি বেয়ারস্টো, আদিল রশিদ, অ্যালেক্স হেলস, ব্রেন্ডল টেইলর, ফাফ ডু প্লেসিস, লুঙ্গি এনগিদি, মিচেল ম্যাকলেনেঘান ও আন্দ্রে টাই।





