আজ বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৮৪ তম জন্মবার্ষিকী

নড়াইল অফিস ॥ বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৮৪ তম জন্মদিন আজ বুধবার। ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তৎকালীন পাক হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখযুদ্ধে তিনি শহীদ হন। ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নূর মোহাম্মদ শেখ নড়াইল সদর উপজেলার চন্ডীবরপুর ইউনিয়নের মহিষখোলা (বর্তমান নাম নূর মোহাম্মদনগর) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাল্যকালেই পিতা মোহাম্মদ আমানত শেখ এবং মা জেন্নাতুন্নেছাকে হারান। সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করার পর ডানপিটে নূর মোহাম্মদ আর এগুতে পারেননি। ১৯৫৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনি তৎকালীন ইপিআর-এ (পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস) যোগদান করেন। দীর্ঘদিন দিনাজপুর সীমান্তে চাকরি করে ১৯৭০ সালের ১০ জুলাই যশোর সেক্টরে বদলি হন এবং ল্যান্সনায়েক পদে পদোন্নতি পান। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তিনি যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৮ নম্বর সেক্টরে অংশ নেন। যুদ্ধ চলাকালীন যশোরের শার্শা থানার কাশীপুর সীমান্তের বয়রা অঞ্চলে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার নেতৃত্বে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। এ সময় এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৮ নম্বর সেক্টরে কমান্ডার ছিলেন কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরী এবং সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মেজর এস.এ মঞ্জুর। এদের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে প্রাণপন লড়েছেন ল্যান্সনায়েক নূর মোহাম্মদ। ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোরের গোয়ালহাটি ও ছুটিপুরে পাকবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে পাকসেনাদের গুলিতে সহযোদ্ধা নান্নু মিয়া গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে নূর মোহাম্মদ শেখ হাতে এলএমজি এবং কাধে নান্নু মিয়াকে নিয়ে শত্রুপক্ষের দিকে এগিয়ে যান এবং গুলি ছুড়তে থাকেন। একপর্যায়ে শত্রুপক্ষ পিছু হটতে বাধ্য হয়। হঠাৎ পাকবাহিনীর ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে মারাত্মক জখম হন তিনি। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ নূর মোহাম্মদ আশঙ্কাজনক অবস্থায়ও নিজের জীবনের কথা না ভেবে যুদ্ধ চালিয়ে যান এবং গুলি চালাতে চালাতে সামনের দিকে অগ্রসর হন। এক সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। এ যুদ্ধে নূর মোহাম্মদ শত্রুপক্ষের এমন ক্ষতিসাধন করেন যে, পাক হানাদার বাহিনী মৃত্যুপথযাত্রী যোদ্ধাকে বেয়নেট দিয়ে বিকৃত করে চোখ দুটি উপড়ে ফেলে। যশোরের শার্শা থানার কাশিপুর গ্রামে তাকে সমাহিত করা হয়।
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৮৪ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নূর মোহাম্মদনগর ও বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্সনায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তনে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ ট্রাস্ট ও নড়াইল জেলা প্রশাসন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আজ বুধবার সকালে কুরআনখানি, র‌্যালি, স্মৃতিসৌধে গার্ড অব অনার ও পু®পস্তবক অর্পণ, স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা। প্রধান বক্তা হিসেবে থাকবেন পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন পিপিএম। সভাপতিত্ব করবেন বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ ট্রাস্টের সদস্য সচিব মো. আজিজুর রহমান ভূঁইয়া। সূত্রে জানা যায়, এ বীরের সম্মানার্থে নড়াইল শহর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ চত্বরে ৬২ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্সনায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর’ নির্মাণ করা হয়েছে।

ভাগ