আসিফ কাজল, ঝিনাইদহ ॥ ঝিনাইদহে নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্টের (চেক ডিসঅনার) মামলায় মিথ্যা সাক্ষ্য ও চেক টেম্পারিং করার দায়ে ওই মামলার বাদী আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমুলক রায় দিয়েছেন আদালত। রবিবার ঝিনাইদহ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসানুজ্জামান পৃথক দুটি ধারায় আসামি আব্দুল জলিলকে দোষী সাব্যস্ত করে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। আব্দুল জলিল ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের মৃত আকবর আলীর ছেলে। আসামির আইনজীবী অ্যাড. এস.এম মশিয়ূর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ঝিনাইদহ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে আব্দুল জলিল ১৫ লাখ টাকার নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মামলা করেন জনৈক হাসান আলীর বিরুদ্ধে, যার নম্বর-৯৮/২০১৫। ২০১৭ সালের ২৮ নভেম্বর ঝিনাইদহ যুগ্ম দায়রা জজ ১ম আদালতে সাক্ষ্য প্রদানের সময় মামলার বাদী আব্দুল জলিল শপথপূর্বক জানান যে, তিনি আসামি হাসান আলীর কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা বুঝে পেয়েছেন। অন্যদিকে মামলার আসামি হাসান আলী আদালতকে জানান, তর্কিত চেকটিতে প্রকৃতপক্ষে ৫০ হাজার টাকা লেখা ছিল। বাদী আব্দুল আজিজ চেক কাটাকাটি করে ৫০ হাজারের স্থলে ১৫ লাখ বানিয়েছেন। আসামি হাসান আলী আরো জানান, তিনি ৫০ হাজার টাকা আব্দুল জলিলকে ইতিমধ্যে পরিশোধ করেছেন। এ ঘটনায় আদালতের সন্দেহ হলে চেকটি পরীক্ষার জন্য ঢাকার সিআইডিতে পাঠানো হয়। সিআইডির পরিদর্শক রুহুল আমীন পরীার পর আদালতে রিপোর্ট দেন। রিপোর্টে তিনি উল্লেখ করেন, প্রকৃতপক্ষে ৫০ হাজার টাকার স্থলে কাটাকাটি করে ১৫ লাখ লেখা হয়েছে। আসামির ৫০ হাজার টাকা প্রদানের স্বীকারোক্তি ও সিআইডির রিপোর্টের সাথে মিল থাকায় তৎকালীন ঝিনাইদহ যুগ্ম দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মো. সালেহুজ্জামান নিজেই বাদী হয়ে নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার মামলার বাদী আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য ও চেক টেম্পারিং’র মামলা করেন। আসামি আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে বাদী তথা দায়রা আদালতের বিচারক, হস্তলিপি বিশারদ, আদালতের বেঞ্চ সহকারী ও অফিস সহায়কের মাধ্যমে সন্দেহাতীতভাবে দন্ডবিধির ১৯৩ ও ৪৬৫ ধারার অপরাধ সংঘটিত করেছেন মর্মে প্রমানিত হয়। ফলে ঝিনাইদহ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসানুজ্জামান আসামিকে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানের জন্য ৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং চেক টেম্পারিং করার দায়ে আরো দুই বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন। দুইটি সাজার একটির পর আরেকটি কার্যকর হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। আদালত তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, প্রায়ই চেক জালিয়াতির মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে মিথ্যা মামলায় ফেলে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া যায়। এই মামলার ঘটনাটি তারই একটি উজ্জ্বল প্রমান। ফলে আসামিকে দৃষ্টন্তমুলক শাস্তি না দিলে সমাজ থেকে এই রোগ নির্মূল হবে না।





