স্টাফ রিপোর্টার,মনিরামপুর(যশোর) ॥ যশোরের মনিরামপুরে হাজরাইল দাসপাড়া রাধাকৃঞ্চ মন্দির পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ঋষিপল্লীর বাসিন্দারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে সাবেক কমিটির সমর্থিতদেরকে বর্তমান কমিটি মন্দিরে আসা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। শুক্রবার মন্দিরে প্রতিপক্ষের কুমারী কন্যারা শিবপূজা করতে আসলে বর্তমান কমিটির সভাপতি ও তার অনুসারীরা তাদেরকে বাঁধা দেয়। বিষয়টি জানাজানি হবার পর দুই গ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে শনিবার বিকেলে পুলিশ গিয়ে দ ুগ্রুপের সাথে দফায় দফায় বৈঠকের পর রাত আটটার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, উপজেলার হরিদাসকাটি ইউনিয়নের হাজরাইল ঋষিপল্লীতে বর্তমান ৮৫/৮৬ পরিবারের বসবাস। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে দাসপাড়া রাধাকৃঞ্চ মন্দিরটি অবস্থিত। শুরু থেকেই কমিটিতে অজিত দাস সভাপতি এবং হাজারী দাস সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের রাতে ওই পল্লীতে দৃর্বৃত্তদের হামলায় মন্দিরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দুজন গৃহবধূ গণধর্ষণের শিকার হন। পরবর্তিতে সরকারি অনুদানে এবং বিজিবির সহযোগিতায় মন্দিরটি পুন:নির্মাণ করা হয়। অজিত দাস এবং হাজারী দাসের নেতৃত্বে মন্দির কমিটি কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে কাউকে কিছু না জানিয়ে কয়েকমাস আগে মনিরামপুর উপজেলা সদরে বসে মহাদেব দাসকে সভাপতি এবং প্রকাশ দাসকে সম্পাদক করে ৫৪ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করা হয়। আর এ বিষয়টি জানাজানি হলে ঋষিপল্লীতে দেখা দেয় বিভক্তি। সাবেক সভাপতি-সম্পাদক এবং বর্তমান সভাপতি-সম্পাদকের নেতৃত্বে ঋষিপল্লীর বাসিন্দারা বর্তমান দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। তাদের মধ্যে বর্তমান বিরোধ চরমে পৌঁছেছে। তার ওপর অভিযোগ রয়েছে বর্তমান কমিটি প্রতিপক্ষদের (সাবেক কমিটি সমর্থিত) জন্য এ মন্দিরে পূজা অর্চনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। ফলে প্রতিপক্ষরা এ মন্দিরে পূজা অর্চনা থেকে বিরত রয়েছেন।
শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে প্রতিপক্ষ সাবেক কমিটি সমর্থিত নিমাই দাসের মেয়ে অন্তরা দাসসহ বেশ কয়েকজন মন্দিরে আসেন শিবপূজা করতে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে এ সময় বর্তমান কমিটির সভাপতি মহাদেব দাসের নেতৃত্বে অসিম দাস, অসিত দাস, স্বপন দাসসহ কয়েকজন এসে প্রতিপক্ষ নিমাই দাসের মেয়ে অন্তরা দাসকে পূজা করতে বাধা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শী সংগীতা দাসসহ অনেকেই জানান, তাদের বাধায় পূজা করতে ব্যর্থ হয়ে অন্তরা দাস কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে চলে যান। আর এ ঘটনা জানাজানি হবার পর দুই গ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে দুই গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থান করে। অন্তরার বাবা নিমাই দাস এবং মা মধুমালা দাস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বর্তমান কমিটির নিষেধাজ্ঞার কারণে সাবেক কমিটির সমর্থিতরা মন্দিরে পূজা অর্চনা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
এদিকে এ খবর জানতে পেরে শুক্রবার বিকেলে এসআই তপন কুমার সিংহের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম হাজরাইল ঋষিপল্লীতে যায়। উভয় পক্ষের সাথে দফায় দফায় বৈঠক শেষে রাত আটটা দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এসআই তপন কুমার সিংহ জানান, কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনকল্পে ২৯ ফেব্রুয়ারি উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্দিরে প্রতিপক্ষদের নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়ে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তুলসি বসু জানান, আশা করা হচ্ছে ২৯ তারিখে আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে সকল জটিলতা নিরসন হবে।





