যশোরে পিতা-পুত্রকে আটক করে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর কোতয়ালি থানা পুলিশ কবরস্থানের মাটি খুঁড়ে ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৭২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সদর উপজেলার সিরাজসিংহা গ্রামের একটি কবরস্থানের মাটি খুঁড়ে ওই অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে। সে সময় আটক করা হয় ওই গ্রামের আব্দুল হক গাজী (৭২) ও তার ছেলে আব্দুল হক আব্দুল হালিম গাজী (৪৫)।  উদ্ধারকরা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ২টি পিস্তল (১টি নাইন এমএম ও ১টি ৭.৬৫), ১টি ওয়ান শ্যূটারগান, ২টি পাইপগান, ৩৭ রাউন্ড শটগানের গুলি, ৫ রাউন্ড এসএমজির গুলি, ৩০ রাউন্ড ৯ এমএম ও ৭.৬৫ পিস্তলের গুলিসহ মোট ৭২ রাউন্ড গুলি। এই অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক সার্কেল গোলাম রব্বানি ও কোতয়ালি থানার ওসি মনিরুজ্জামান। এদিকে শনিবার আসামি আব্দুল হক গাজী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শম্পা বসু ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দী রেকর্ড করেন। এছাড়া এই মামলায় জাহিদ নামে আরও এক আসামিকে ৫৪ ধারায় আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাইফুল মালেক। জাহিদ ওই এলাকার আনোয়ার ডাক্তারের ছেলে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম রব্বানি গত শুক্রবার দুপুরে এক প্রেসব্রিফিংয়ে জানান, যশোর সদর উপজেলার কুয়াদা-সিরাজসিংহাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহ একটি সন্ত্রাসী প্রবণ এলাকা। যেখানে কুয়াদা বাজারসহ মণিরামপুর-যশোর রোডে নিয়মিত ডাকাতি, ছিনতাই, চুরিসহ অন্যন্য অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে। কুয়াদা বাজারে ডাকাতি, ছিনতাই, রোড ডাকাতিরমত ঘটনা প্রায় ঘটতো। পুলিশের তৎপরতার ফলে এসব অপরাধ সাময়িকভাবে দমন থাকলেও এ সকল অপরাধী গোপনে সংগঠিত হচ্ছিল। অপরাধীরা নতুন কোনো অপরাধ সংগঠনের উদ্দেশ্যে সময় সুযোগের অপোয় অস্ত্র- গোলাবারুদ আসামিদের পারিবারিক কবরস্থানে মজুদ রাখে বলে পুলিশ জানতে পারে। এছাড়া এসব অস্ত্র আশপাশের বিভিন্ন জেলাতে অপরাধীদের কাছে ভাড়া দিত এবং একটি চক্রের মাধ্যমে অস্ত্র ও গুলি বিভিন্ন সন্ত্রাসীদের কাছে ক্রয় বিক্রয়ের সাথে সম্পৃক্ত ছিল বলে জানা যায়। কুয়াদা বাজারের আশপাশে বসবাসরত সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে নিয়মিতভাবে চাঁদাবাজি করা হতো। পুলিশ দীর্ঘদিন যাবত নজরদারিতে রাখছিল। অবশেষে তারই ধারাবাহিকতায় এই অভিযান। এদিকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীতে আসামি আব্দুল হক জানিয়েছেন, তার ছেলে ইলিয়াছ এই অস্ত্র গুলো নিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে বেড়াতো। বছর পাঁচেক আগে সন্ত্রাসীদের লাঠির আঘাতে ইলিয়াছের স্মৃতিশক্তি নষ্ট হয়ে যায়। তখন থেকে ইলিয়াছ এলাকায় ‘পাগল’ নামে পারিচিত। ইলিয়াছ অসুস্থ হওয়ার পর একদিন ধানের গোলার নিচে অস্ত্রগুলো তিনি দেখতে পান। সাথে সাথে সেগুলো তার পারিবারিক কবরস্থানের মাটি খুঁড়ে পুতে রাখেন। সেই থেকে ওই অস্ত্রগুলো সেখানেই ছিল। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, পুলিশও ধারণা করছে অস্ত্রগুলো বেশ আগের এবং ওই অস্ত্রের মালিক ইলিয়াছ। কিন্তু সে বিকারগ্রস্ত। ফলে তার এই অস্ত্র ব্যবহার করার শক্তি, বুদ্ধি বা সাহস নেই। তবে ওই সময় (ইলিয়াছ অসুস্থ হওয়ার আগে) কারা তার সাথে বেড়াতো সেই সহযোগীদের খুঁজছে পুলিশ। ইলিয়াছের পিতা আদালতে দেয়া জবানবন্দীতে ইলিয়াছের বেশ কয়েকজন সঙ্গীর নাম বলেছে তার মধ্যে আটক জাহিদ রয়েছেন।

ভাগ