মোস্তফা রুহুল কুদ্দুস ॥ ভাষা আন্দোলনের পর ৬৮ বছর পার হলেও ভাষা শিক্ষার অভিভাবক প্রতিষ্ঠান শিক্ষা বোর্ডে আজও বাংলা ভাষা চালু হয়নি। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের সব গুরুত্বপূর্ণ কাজ ইংরেজিতে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ভাষা ইংরেজির মাধ্যমে বিশ্ববাজারে প্রবেশাধিকার সহজলভ্য করার অজুহাতে এ কাজটি করা হলেও কার্যত বাংলা ভাষাকে উপেক্ষা ও অমর্যাদা করা হচ্ছে। সম্প্রতি হাইকোর্টের একটি রুল জারির পর এমনটিই ভাবছেন শিক্ষাবিদরা।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার এদেশের দামাল ছেলেরা জীবন দেয়। এর ৪৭ বছর পর ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনকে স্বীকৃতি দিয়ে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা দেয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই দিবসটির ৬৮ বছর পূর্ণ হলেও এখনো সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু হয়নি। অফিসের অনেক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে ইংরেজিতে। শিক্ষা বোর্ড এর অন্যতম। সাধারণ কারিগরি ও মাদ্রাসা মিলে মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ড রয়েছে দেশে। তাদের প্রধান কাজ হচ্ছে, পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন, ফরম পূরণ, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও ফলাফল তৈরি, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপট বা মার্কসিট প্রদান। এর মধ্যে প্রশ্নপত্র ছাড়া সব কাজ ইংরেজিতে করা হচ্ছে। এখন শিক্ষা বোর্ডের অধীনে জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। সেখানে রেজিস্ট্রেশন ও ফরমপূরণ যেমন ইংরেজিতে করা হচ্ছে। তেমনি ফলাফল ও মার্কসিট পেতে হচ্ছে ইংরেজি মাধ্যমে। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, ইংরেজি আন্তর্জাতিক ভাষা। এ ভাষাকে বাদ দিয়ে বিশ্বের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ নেই। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশীদের শক্তিশালী অবস্থান গড়ে ইংরেজির গুরুত্ব বেড়েছে।
গত সপ্তাহে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেছে। ওই রুলে ইংরেজির সাথে বাংলা ভাষা ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা এর সাথে ঐক্যমত্য প্রকাশ করে বলেছেন, বাংলাকে বাদ দিয়ে ইংরেজিকে প্রাধান্য দেয়ার অর্থই হচ্ছে বাংলা ভাষার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকে অবজ্ঞা করা। বরং ইংরেজির সাথে বাংলা ভাষা ব্যবহার করলে বিশ্বসভায় বাংলাদেশের প্রবেশাধিকার বাঁধাগ্রস্ত হবে না। বাংলা ভাষার মর্যাদাও বৃদ্ধি পাবে। তারা আরও বলেন, শিক্ষা বোর্ড হচ্ছে, ভাষা শিক্ষা ও অনুশীলনের অভিভাবক প্রতিষ্ঠান। তারা যদি বাংলাকে উপেক্ষা করে ইংরেজিকে প্রাধান্য দেয়, তাহলে বাংলা ভাষাকে সমুন্নত করবে কে ?
এ বিষয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আমিরুল আলম খান বলেন, বাংলা ভাষা চালু হোক তা সরকার ও সরকারের বাইরে থাকা কেউ চায় না। ভাষা নিয়ে আমরা সকলেই রাজনীতি করি। তাই সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু হচ্ছে না।




