স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের বহি®কৃত ৬ শিক্ষার্থীর পক্ষে আন্দোলনত শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে হামলার অভিযোগ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবিতে বুধবার গভীর রাতে ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারে অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থীদের ওপর এই হামলা করা হয় বলে বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রেস কাব যশোরে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। হামলায় ১২ জন শিক্ষার্থী আহত হয়ে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন যবিপ্রবি’র প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আজীবন বহি®কৃত অন্তর দে শুভ। তিনি বলেন, অযৌক্তিক ও অন্যায়ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাকেসহ ৬ জন নিরীহ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে। এর প্রতিবাদে ও কিছু দাবি আদায়ে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বুধবার সকাল থেকে ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারে অনশন কর্মসূচি শুরু করি। দুপুরে আন্দোলন তুলে নিতে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া হয়। কিন্তু আমরা দাবি আদায়ে অনঢ় থাকি। বুধবার রাতে আন্দোলন চলাকালে বহিরাগত আজিজ ও রাসেল পারভেজ, কামরুল হাসান সিহাব, ইব্রাহিম, বিপুল ইমনসহ বেশ কয়েকজন আমাদের ওপর হামলা করে। হামলার একপর্যায়ে প্রশাসন ক্যাম্পাসের সব বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয়। এ সময় হামলাকারীরা ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে পিটিয়ে আরাফাত সুজন, মাহমুদুল হাসান সাকিব, মুনিরুল ইসলাম হৃদয়সহ ১২ জনকে আহত করে। আমরা আহতদের হাসপাতালে আনার চেষ্টা করলেও বাধা দেয়া হয়। পরে পুলিশ এসে আমাদের হাসপাতালে আসতে সহযোগিতা করে। আহতদের মধ্যে তিনজনকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি অবমাননার মতো ঘটনা ঘটেছে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। ইতিমধ্যে উচ্চ আদালতে তা প্রমাণিত হয়েছে। উচ্চ আদালত যাদের রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় অর্থ ব্যয় করতে পারে না। তাই আমরা রাষ্ট্রদ্রোহীদের পক্ষ নিয়ে এই মামলা পরিচালনার জন্য বিশ^বিদ্যালয়ের টাকা ব্যয় না করতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছি। আর এ কারণে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দুই শিক্ষার্থীকে আজীবনসহ ছয় শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে এ জন্য প্রশাসন ২০১৮ সালের একটি ঘটনা সামনে এনেছে। ওই ঘটনাটিও একটি বিতর্কিত কমিটি দিয়ে তদন্ত করানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ভিসি স্যারের পিএস কামরুল হাসান ছাত্রলীগ নিয়ে কটুক্তি করেছিলেন। এর বিচার চাইতে আমরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ভিসি স্যারের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। ঘটনাটি ভিসি স্যারের কার্যালয় ঘেরাও বলে অপপ্রচার চালিয়ে আমাদের বহিষ্কার দেখানো হয়েছে। তিনি বলেন, এই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার, ভিসির পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবিতে আমরা আন্দোলন অব্যাহত রেখেছি। প্রয়োজনে আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেয়া হবে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ব্যক্তিগত সহকারী কামরুল হাসান বলেন, আমাকে নিয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা মোটেও সঠিক নয়। এটি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।





