মহেশপুরের ২৫ টি মাদ্রাসার একটিতেও শহীদ মিনার নেই

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা ॥ ভাষা আন্দোলনের ৬৮ বছর পেরিয়ে গেলেও ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ২৫ টি মাদ্রাসার একটিতেও শহীদ মিনার নির্মিত হয়নি। জানা গেছে, মহেশপুর উপজেলায় ১৫২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮টিতে, ৪১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২০ টিতে, ৬ টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে এবং ১০টি কলেজের মধ্যে ৬ টিতে শহীদ মিনার আছে। কিন্তু ২৫টি মাদ্রাসার মধ্যে একটিতেও শহীদ মিনার নেই। এ উপজেলায় ২৫টি মাদ্রাসার মধ্যে অনেক পুরাতন মাদ্রাসাও রয়েছে। এর মধ্যে বৈচিতলা মাদ্রাসা ১৯২২ সালে স্থপিত হয়। বর্তমানে অনেক মাদ্রাসায় আধুনিকায়ন হয়ে গড়ে উঠেছে বড় বড় ভবন। কিন্তু ভাষা আন্দোলনের প্রতীক শহীদ মিনার গড়ে ওঠেনি। যে কটি প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার আছে এর মধ্যে একটি বাদে বাকি সবগুলোই দেশ স্বাধীনের পর নির্মাণ করা হয়েছে। পাকিস্তান আমলে তৈরি করা হয় মহেশপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।
১৯৬৯ সালে তৎকালীন মহেশপুরের থানা ম্যাজিস্ট্রেট আজিজুর রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় মহেশপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওয়ালিউল ইসলাম উদ্যোগী হয়ে বিদ্যালয় চত্বরে প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ করেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী শহীদ মিনারটি ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। সেই থেকে ১৩ বছর মহেশপুরে কোন প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার ছিল না। ১৯৮৪ সালে উপজেলা পরিষদ গঠন হলে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনিচ উদ্দিন মিয়ার উদ্যোগে মহেশপুর হাইস্কুল মাঠের পশ্চিম প্রান্তে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে কেয়ারটেকার সরকারের আমলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরুজ্জামান ও তৎকালীন পৌরসভার চেয়ারম্যান অ্যাড. শফিকুল আজম খাঁন চঞ্চলের সহায়তায় শহীদ মিনারটি সংস্কার করে শোভা বর্ধন করা হয়। যা বর্তমান মহেশপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এ ব্যাপারে মহেশপুর মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আমজাদ হোসেন বলেন, ’প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা উচিৎ। কারণ ভাষা আন্দোলন আমাদের স্বাধীনতার সূতিকাগার। তিনি আরো বলেন, আমরা উদ্যোগ নিচ্ছি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের’। প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু হাসানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ’মহেশপুর উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার সংক্রান্ত ডাটাবেজ আমরা এখনও তৈরি করতে পারিনি’। মহেশপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ময়জদ্দীন হামিদ বলেন, ’প্রতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে’।

ভাগ